
|| শেখ শাহরিয়ার | জেলা প্রতিনিধি (খুলনা) ||
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, আগামী জাতীয় নির্বাচন অবশ্যই অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য হতে হবে। কোনোভাবেই বিতর্কিত বা লোক দেখানো নির্বাচন মেনে নেওয়া হবে না। অতীতে যেসব নির্বাচন জনগণের আস্থাকে ক্ষুণ্ন করেছে, সেগুলোর পুনরাবৃত্তি আর হতে দেওয়া হবে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
শুক্রবার (২ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় ডুমুরিয়া উপজেলার লাইন বিল পাবলা পূজা মন্দির প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হিন্দু ধর্মালম্বী সদস্য সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, জামায়াতে ইসলামীর আন্দোলন কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকেন্দ্রিক নয়। আমাদের সংগ্রাম ফ্যাসিবাদ, চাঁদাবাজি ও দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে। পুরোনো হোক বা নতুন—ফ্যাসিবাদের যেকোনো রূপের বিরুদ্ধেই প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে। যতদিন এই অপশক্তির অস্তিত্ব থাকবে, ততদিন আমাদের আন্দোলন চলবে।
তিনি আরও বলেন, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল মানুষের জন্য নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশ গড়ে তোলাই জামায়াতের লক্ষ্য। কিশোর, তরুণ ও যুব সমাজ যেন নিশ্চিন্তে বসবাস করতে পারে—এমন একটি সমাজ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে হবে। চাঁদাবাজি ও দখলবাজিমুক্ত রাষ্ট্র গড়তে আল্লাহর আইন এবং সৎ নেতৃত্বের কোনো বিকল্প নেই বলেও উল্লেখ করেন তিনি। আসন্ন নির্বাচনে ন্যায় ও ইনসাফের প্রতীক দাঁড়িপাল্লাকে বিজয়ী করার আহ্বান জানান জামায়াত নেতা।
হিন্দু কমিটির সদস্য কুমারেশ কুমার মন্ডলের সভাপতিত্বে এবং শ্রীদাম কুমার মন্ডলের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন খুলনা জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মুন্সি মিজানুর রহমান, সহকারী সেক্রেটারি অধ্যাপক মিয়া গোলাম কুদ্দুস ও জেলা কর্মপরিষদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবু ইউসুফ মোল্লা। এছাড়া বক্তব্য দেন গুটুদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তুহিনুল ইসলাম, হরিণটানা থানা আমীর মাওলানা আব্দুল গফুর, লিটন হোসেন ও দিবাশীষ মল্লিক।
এর আগে একই দিন বিকেলে ডুমুরিয়া উপজেলার গুটুদিয়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের খামারবাড়ীতে হিন্দু ধর্মালম্বী সদস্যদের আরেকটি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। ওই সমাবেশে ওয়ার্ড ইউপি সদস্য রিপন সরকারের সভাপতিত্বে এবং আশরাফ হোসেনের সঞ্চালনায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন মিয়া গোলাম পরওয়ার।
সমাবেশে তিনি বলেন, ইসলাম এমন একটি জীবনব্যবস্থা যা সকল ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষের অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করে। জনগণ যদি জামায়াতে ইসলামীর হাতে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দেয়, তাহলে সবাই সমান সামাজিক, রাজনৈতিক ও ধর্মীয় অধিকার ভোগ করবে।
সাবেক এমপি হিসেবে নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ২০০১ সালের নির্বাচনে হিন্দু-মুসলিম নির্বিশেষে সকলের সমর্থনে তিনি নির্বাচিত হয়েছিলেন এবং সে সময় জনগণের আস্থার মর্যাদা রক্ষায় সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন। ডুমুরিয়া-ফুলতলা এলাকায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় স্থাপনা ও যোগাযোগ অবকাঠামোসহ বিভিন্ন খাতে ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে বিল ডাকাতিয়া অঞ্চলের জলাবদ্ধতা এলাকাবাসীর জন্য বড় দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অতীতে খাল খনন ও নদী ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে পানি নিষ্কাশনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। ভবিষ্যতে জনগণ সুযোগ দিলে জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধানসহ এই অঞ্চলের বাকি উন্নয়ন কাজ সম্পন্ন করার আশ্বাস দেন তিনি।
