বুধবার, জানুয়ারি ১৪

হাইওয়ে পুলিশের সার্জেন্ট পরিচয়ে প্রতারণা: ৮৫ হাজার টাকা আত্মসাৎ, অভিযানে গ্রেপ্তার ৩

​|| শেখ শাহরিয়ার | জেলা প্রতিনিধি (খুলনা) ||

খুলনায় হাইওয়ে পুলিশের সার্জেন্ট পরিচয়ে প্রতারণার মাধ্যমে এক পিকআপ চালকের কাছ থেকে ৮৫ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগে তিন সদস্যের একটি প্রতারক চক্রকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই), খুলনা জেলা ইউনিট।

গত সোমবার (১২ জানুয়ারি) রাতে মাগুরা সদর থানাধীন ঢাকা রোড এলাকার একতা কাঁচা বাজার আড়ত সংলগ্ন হোটেল রয়েল থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার একিন সরদারের ছেলে এসএম শাহিন (৫০), মাগুরার মোহাম্মদপুর উপজেলার মদন মোহনপুর এলাকার মোঃ নাজমুল হাসান (৩২) এবং একই থানার মোঃ লিয়াকত আলীর ছেলে ওবায়দুল বিশ্বাস (৩৪)।

পিবিআই সূত্রে জানা যায়, খুলনা নগরীর সোনাডাঙ্গা থানাধীন শেখপাড়া এলাকার বাসিন্দা মোঃ শুকুর আলী (৩৮) পেশায় একজন পিকআপ ড্রাইভার। পাশাপাশি তার মালিকানায় থাকা কয়েকটি অটোরিকশা দৈনিক ভাড়াভিত্তিতে চালানো হয়। গত ৮ জানুয়ারি শেখপাড়া এলাকার বাসিন্দা ও পিকআপ চালক শুকুর আলীর এক অটোরিকশা চালকের সাথে পরিচয় হয় জনৈক তরিকুল ইসলামের। তরিকুল নিজেকে হাইওয়ে পুলিশের সার্জেন্ট পরিচয় দিয়ে দাবি করেন যে, তিনি নিলামের মাধ্যমে কম দামে অটোরিকশার ব্যাটারি কিনে দিতে পারবেন। বিশ্বাস অর্জনের জন্য তিনি পুলিশের লোগো দেওয়া ভিজিটিং কার্ডও ব্যবহার করেন।

তার কথায় বিশ্বাস করে শুকুর আলী ব্যাটারি কেনার আগ্রহ দেখান। প্রতারক চক্রটি প্রথমে তার কাছ থেকে অগ্রিম হিসেবে ৩ হাজার টাকা নেয়। পরবর্তীতে গত সোমবার তাকে সোনাডাঙ্গা এলাকায় ডেকে নিয়ে ব্যাটারির চালান দেওয়ার নাম করে আরও ৮২ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়। টাকা নেওয়ার পর তারা শুকুর আলীকে বয়রা পুলিশ লাইনের সামনে অপেক্ষা করতে বলে কৌশলে সটকে পড়ে।

এরপর ভুক্তভোগী মোঃ শুকুর আলী পিবিআই খুলনা জেলা কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় পিবিআই আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে মোবাইল ডাটা বিশ্লেষণ করে প্রতারক চক্রের অবস্থান শনাক্ত করে।

অভিযানের সময় গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে বিভিন্ন মডেলের ৪টি মোবাইল ফোন, একটি ওয়াকিটকি সেট, পুলিশের লোগো সংবলিত ফর্ম এবং সার্জেন্ট মোঃ তরিকুল ইসলামসহ একাধিক নাম ব্যবহার করা ভুয়া ভিজিটিং কার্ড উদ্ধার করা হয়।

খুলনা পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার রেশমা শারমিন, পিপিএম (সেবা) জানান, ভুক্তভোগীর অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে তদন্ত পরিচালনা করা হয়। প্রযুক্তিগত সহায়তায় প্রতারকদের শনাক্ত করে মাগুরা ও যশোর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রতারণার মাধ্যমে আত্মসাৎ করা অর্থ তারা বিভিন্ন মামলার পেছনে খরচ করায় কোনো টাকা উদ্ধার সম্ভব হয়নি।

তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় ভুক্তভোগী বাদী হয়ে সোনাডাঙ্গা থানায় প্রতারণার মামলা দায়ের করেছেন। গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে এবং চক্রের অন্য সদস্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *