
|| আন্তর্জাতিক ডেস্ক ||
দীর্ঘ উত্তেজনার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দুই সপ্তাহের শর্তসাপেক্ষ যুদ্ধবিরতির খবরে বিশ্ব অর্থনীতিতে স্বস্তির সুবাতাস বইতে শুরু করেছে। এই চুক্তির ফলে জ্বালানি তেলের বাজারে তাৎক্ষণিক প্রভাব পড়ার পাশাপাশি চাঙ্গা হয়ে উঠেছে আন্তর্জাতিক শেয়ারবাজার। বুধবার (৮ এপ্রিল) আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় ১৫.৯ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৯২ ডলারের কাছাকাছি নেমে এসেছে। যদিও সংঘাত শুরুর আগের পরিস্থিতির তুলনায় তেলের এই দাম এখনো কিছুটা বেশি, তবে সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার আশায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ইতিবাচক মনোভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
সংঘাত চলাকালীন ইরান কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ করে দিলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট তীব্রতর হয় এবং তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১১৯ ডলারে গিয়ে ঠেকেছিল। যুদ্ধবিরতির শর্ত হিসেবে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথটি পুনরায় খুলে দেওয়ার ঘোষণা আসায় বিশ্বব্যাপী তেলের সরবরাহ নিশ্চিত হওয়ার পথ সুগম হয়েছে। এর প্রভাবে এশিয়ার প্রধান শেয়ারবাজারগুলোতে, বিশেষ করে জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার সূচকের বড় ধরনের উত্থান ঘটেছে।
বাজার বিশ্লেষকরা মনে করছেন, জ্বালানি আমদানিনির্ভর এশিয়ার দেশগুলোর জন্য এই বিরতি একটি বড় স্বস্তির খবর। তবে তারা এও সতর্ক করেছেন যে, এই স্থিতি বর্তমানে সাময়িক হতে পারে। যদি এই দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি শেষ পর্যন্ত দীর্ঘস্থায়ী শান্তি চুক্তিতে রূপ না নেয়, তবে জ্বালানি সরবরাহ এবং বৈশ্বিক অর্থনীতির অনিশ্চয়তা পুরোপুরি কাটবে না। আপাতত বিশ্ববাসীর নজর এখন মধ্যপ্রাচ্যের এই ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির স্থিতিশীলতার দিকে।
