

|| মো. আসাদুল ইসলাম | নিজস্ব প্রতিবেদক | আলোকিত দৈনিক ||
সিরাজগঞ্জ জেলাজুড়ে তীব্র হাড়কাঁপানো শীত ও ঘন কুয়াশায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। উত্তরীয় হিমেল হাওয়া আর কুয়াশার চাদরে ঢাকা পড়েছে যমুনা বিধৌত এই জনপদ। আজ বুধবার (৭ জানুয়ারি, ২০২৬) জেলায় মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে চলায় সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা স্থবির হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে যমুনা নদীর তীরবর্তী ও দুর্গম চরাঞ্চলের মানুষ তীব্র ঠান্ডায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।
স্থানীয় আবহাওয়া অফিসের তথ্যমতে, আজ জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৮.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সূর্যের দেখা না মেলায় এবং উত্তরের হিমেল বাতাসের কারণে হাড়কাঁপানো শীত অনুভূত হচ্ছে দিনভর।
তীব্র এই শীতের কারণে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন নিম্ন আয়ের শ্রমজীবী মানুষ। হাড়কাঁপানো ঠান্ডার মধ্যেও জীবন-জীবিকার তাগিদে ভোরেই কাজের সন্ধানে বের হতে হচ্ছে দিনমজুর, রিকশাচালক ও কৃষি শ্রমিকদের। শহরের বাজার স্টেশন ও আশপাশের এলাকায় কাজের অপেক্ষায় থাকা শ্রমিকদের শীতে জবুথবু অবস্থায় দেখা গেছে। অনেকেরই অভিযোগ, পর্যাপ্ত শীতবস্ত্রের অভাবে তারা কাজ করতে হিমশিম খাচ্ছেন। যমুনার দুর্গম চরাঞ্চল চৌহালী, বেলকুচি ও কাজিপুরে শীতের প্রকোপ আরও বেশি। সেখানে খড়কুটো জ্বালিয়ে অনেককে শীত নিবারণের চেষ্টা করতে দেখা যাচ্ছে।
এদিকে, শৈত্যপ্রবাহের কারণে জেলায় বাড়ছে শীতজনিত রোগের প্রাদুর্ভাব। সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালসহ বিভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কোল্ড ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া ও শ্বাসকষ্টজনিত রোগীর ভিড় বেড়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে শিশু ও বৃদ্ধের সংখ্যাই বেশি।
অন্যদিকে, টানা কুয়াশার কারণে বোরো বীজতলা ও রবি শস্যের ক্ষতির আশঙ্কা করছেন স্থানীয় কৃষকরা। কৃষি বিভাগ থেকে কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হলেও ঘন কুয়াশা ও তীব্র শীতের কারণে ফসলের ‘কোল্ড ইনজুরি’ নিয়ে তারা দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।
জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে অসহায় ও ছিন্নমূল মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ শুরু হয়েছে। তবে সরকারি সহায়তার পাশাপাশি বেসরকারি ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন দুর্গত এলাকার মানুষ।
আবহাওয়া পূর্বাভাস অনুযায়ী, এই শৈত্যপ্রবাহ আরও কয়েকদিন স্থায়ী হতে পারে।
