রবিবার, ফেব্রুয়ারি ২২

লিবিয়া ও গ্রিস উপকূলে ৮ শরণার্থীর মরদেহ উদ্ধার: ভূমধ্যসাগরে বাড়ছে প্রাণহানি

|| আন্তর্জাতিক ডেস্ক ||

ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপে প্রবেশের চেষ্টাকালে লিবিয়া ও গ্রিস উপকূলে পৃথক দুটি দুর্ঘটনায় অন্তত আটজন শরণার্থীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপোলির নিকটবর্তী সমুদ্র সৈকতে ভেসে এসেছে পাঁচজনের মরদেহ এবং গ্রিসের ক্রিট দ্বীপ সংলগ্ন সাগরে নৌকাডুবিতে প্রাণ হারিয়েছেন আরও তিনজন। গত শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) উদ্ধারকারী কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় পুলিশ এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। খবর: আল জাজিরার।

লিবিয়ার পুলিশ কর্মকর্তা হাসান আল-গাউইল জানিয়েছেন, ত্রিপোলির কাসর আল-আখিয়ার উপকূল থেকে উদ্ধারকৃত মরদেহগুলোর মধ্যে দুইজন নারী রয়েছেন।

স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, একটি শিশুর মরদেহও সৈকতে ভেসে এসেছিল, যা পরবর্তীতে জোয়ারের টানে ফের সাগরে তলিয়ে যায়। অন্যদিকে, গ্রিসের ক্রিট দ্বীপে একটি কাঠের নৌকা উল্টে যাওয়ার ঘটনায় তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করেছে দেশটির কোস্টগার্ড। ওই নৌকাটি থেকে অন্তত ২০ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশ মিশর ও সুদান থেকে আসা অভিবাসনপ্রত্যাশী। গ্রিক সংবাদমাধ্যম ইআরটি-র তথ্যমতে, উদ্ধার তৎপরতা চলাকালীন একটি বাণিজ্যিক জাহাজে ওঠার চেষ্টা করার সময় ভারসাম্য হারিয়ে নৌকাটি উল্টে যায়। নিখোঁজদের সন্ধানে বর্তমানে বিমান ও টহল বোটের সাহায্যে তল্লাশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম)-এর পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরের শুরু থেকেই প্রতিকূল আবহাওয়া ও জরাজীর্ণ নৌকায় সমুদ্র পাড়ি দিতে গিয়ে প্রাণহানির সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। কেবল গত জানুয়ারি মাসেই ভূমধ্যসাগরে অন্তত ৩৭৫ জন নিখোঁজ বা মৃত্যুবরণ করেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। ২০১১ সালে লিবিয়ার রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে দেশটি ইউরোপে যাওয়ার প্রধান ট্রানজিট রুটে পরিণত হয়েছে। প্রতি বছর দারিদ্র্য ও সংঘাত থেকে বাঁচতে হাজার হাজার মানুষ এই ঝুঁকিপূর্ণ পথ বেছে নিচ্ছেন, যা প্রতিনিয়ত এ ধরনের বড় মানবিক বিপর্যয়ের জন্ম দিচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *