
|| শেখ শাহরিয়ার | জেলা প্রতিনিধি (খুলনা) ||
খুলনার রূপসা উপজেলায় র্যাবের সোর্স হিসেবে পরিচিত ফারুখ শেখের ওপর গুলি চালিয়ে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় এখনো থানায় কোনো মামলা হয়নি। ঘটনার দু’দিন পেরিয়ে গেলেও পুলিশ কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। কী কারণে এই হামলা হয়েছে, সে বিষয়েও নিশ্চিত হতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
শুক্রবার (২ জানুয়ারি) রাতের দিকে রূপসার আইচগাতী ইউনিয়নের রাজাপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় ফারুখ শেখ বর্তমানে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ফারুখ শেখ জানান, গত বছরের ৫ আগস্টের আগে রূপসার শিরগাতি এলাকার বাসিন্দা ফরিদ সর্দারকে র্যাব আটক করে। ওই ঘটনায় ফরিদের পরিবারের লোকজন তাকে সন্দেহের চোখে দেখতে শুরু করে। সরকার পরিবর্তনের পর ফরিদ সর্দারসহ জাহিদ সর্দার, মুসা শিকদার, শিহাব ও শুভ তার ওপর হামলা চালায় এবং ওই হামলায় তার একটি পা ভেঙে দেওয়া হয়। দীর্ঘ চিকিৎসা শেষে তিনি বাড়ি ফেরেন।
ফারুখ শেখের ভাষ্যমতে, শুক্রবার (২ জানুয়ারি) রাতে ব্যক্তিগত কাজে খুলনায় এসে রাত ৯টার দিকে কালিবাড়ি ঘাট এলাকা পার হয়ে ভ্যানে করে বাড়ির পথে রওনা হন। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন প্রতিবেশী লাহাবু। আইচগাতি ইউনিয়ন অতিক্রম করে রাজাপুর এলাকায় পৌঁছালে সামনে ও পেছন থেকে তিনটি মোটরসাইকেল ভ্যানটির গতিরোধ করে।
মোটরসাইকেল থেকে নেমে দুর্বৃত্তরা প্রশাসনকে তথ্য দেওয়ার অভিযোগ তুলে তাকে জোর করে তুলে নেওয়ার চেষ্টা করে। ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে লাহাবুর কাছ থেকে টাকা ও মোবাইল ছিনিয়ে নেয় তারা। সুযোগ বুঝে ফারুখ একটি স্থানীয় ক্লাবের দিকে দৌড় দিলে তাকে লক্ষ্য করে পরপর দুটি গুলি ছোড়া হয়। প্রথমটি লক্ষ্যভ্রষ্ট হলেও দ্বিতীয় গুলিটি তার কোমরে লাগে। গুলির শব্দে আশপাশের মানুষ ছুটে এলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয় এক ভ্যানচালক তাকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান।
ফারুখ শেখ দাবি করেন, হামলাকারীদের মধ্যে ইমরান নামের একজনকে তিনি চিনতে পেরেছেন। ইমরান খুলনার শীর্ষ সন্ত্রাসী গ্রেনেড বাবু ওরফে বি কোম্পানীর সহযোগী। তার অভিযোগ, স্থানীয় ফরিদ সর্দার ও শিহাবের সঙ্গে বি কোম্পানীর ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে এবং তারাই এই হামলার পেছনে জড়িত থাকতে পারে।
এ বিষয়ে আইচগাতি ক্যাম্পের ইনচার্জ ইব্রাহিম শেখ বলেন, ফারুখ শেখ বর্তমানে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তার শরীরে থাকা গুলিটি এখনো বের করা সম্ভব হয়নি। রবিবার অস্ত্রোপচারের কথা রয়েছে। পরিবারের সদস্যরা হাসপাতালে অবস্থান করায় এখনো মামলা হয়নি। ফলে কাউকে আটকও করা যায়নি।
