বৃহস্পতিবার, জানুয়ারি ৮

রাজশাহীতে এলপিজির তীব্র সংকট: চড়া দামেও মিলছে না সিলিন্ডার; বিপাকে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা

|| অপু দাস | জেলা প্রতিনিধি (রাজশাহী) ||

রাজশাহীতে এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডারের সরবরাহে হঠাৎ করে বড় ধরনের সংকট দেখা দিয়েছে। বাজারে চাহিদার তুলনায় গ্যাসের যোগান কম থাকায় বাড়তি মূল্য পরিশোধ করেও অনেক গ্রাহক সিলিন্ডার সংগ্রহ করতে পারছেন না। এতে করে সাধারণ পরিবারগুলোর পাশাপাশি হোটেল, রেস্তোরাঁ ও ছোটখাটো খাবার ব্যবসার সঙ্গে জড়িতরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।

খুচরা পর্যায়ের বিক্রেতারা জানান, ডিলারদের কাছ থেকে নিয়মিত ও পর্যাপ্ত সিলিন্ডার সরবরাহ না পাওয়ায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। অনেক দোকানে অর্ডার দেওয়ার পরও প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম সিলিন্ডার আসছে। ফলে দোকানে গ্যাস এলেও তা অল্প সময়ের মধ্যেই শেষ হয়ে যাচ্ছে এবং ক্রেতাদের হতাশ হয়ে ফিরে যেতে হচ্ছে।

বিক্রেতাদের ভাষ্য, সংকটের কারণে তারা অনেক সময় বেশি দামে গ্যাস কিনতে বাধ্য হচ্ছেন। তবে বাড়তি দাম দিয়েও পর্যাপ্ত পরিমাণে সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না। এতে করে ব্যবসা পরিচালনায় সমস্যা দেখা দিচ্ছে এবং ক্রেতাদের সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝিও তৈরি হচ্ছে।

ভোক্তারা জানান, এক সপ্তাহ আগেও যে গ্যাস সিলিন্ডার ১ হাজার ২৫০ টাকায় পাওয়া যেত, বর্তমানে সেটির দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ হাজার ৬০০ টাকায়। অর্থাৎ প্রতিটি সিলিন্ডারের পেছনে অতিরিক্ত প্রায় সাড়ে ৩৫০ টাকা ব্যয় করতে হচ্ছে। এই মূল্যবৃদ্ধিতে মধ্যবিত্ত ও নিম্নআয়ের পরিবারের ওপর বাড়তি আর্থিক চাপ সৃষ্টি হয়েছে।

বাজার পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, বর্তমানে রাজশাহীর বিভিন্ন এলাকায় মূলত ওমেরা ও ফ্রেশ গ্যাসের সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে। অন্যান্য কোম্পানির গ্যাস খুব কমই দেখা যাচ্ছে। বিকল্প ব্র্যান্ডের অভাবে অনেক গ্রাহক বাধ্য হয়ে নির্দিষ্ট কয়েকটি ব্র্যান্ডের গ্যাস বেশি দামে কিনছেন।

হোটেল, রেস্তোরাঁ ও চা দোকানের মালিকরা জানান, গ্যাসের অস্বাভাবিক সংকট ও দাম বৃদ্ধির কারণে তাদের ব্যবসা চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। অনেক ক্ষেত্রে লোকসান দিয়েও ব্যবসা চালু রাখতে হচ্ছে। কেউ কেউ রান্নার সময় ও উৎপাদন কমিয়ে দিয়েছেন।

ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা আশঙ্কা করছেন, এই সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে তাদের পক্ষে ব্যবসা টিকিয়ে রাখা কঠিন হবে। এতে কর্মসংস্থানেও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে তারা মনে করছেন।

এ বিষয়ে এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডারের ডিলারদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

ফলে সংকটের প্রকৃত কারণ নিয়ে ভোক্তাদের মধ্যে উদ্বেগ ও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

ভুক্তভোগীরা দ্রুত এলপিজি গ্যাসের সরবরাহ স্বাভাবিক করা, কৃত্রিম সংকট বন্ধ করা এবং বাজারে দাম নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *