
|| শেখ শাহরিয়ার | জেলা প্রতিনিধি (খুলনা) ||
বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবনকে রক্ষায় কয়লা দূষণ ও অপরিকল্পিত শিল্প কার্যক্রম বন্ধের জোর দাবি উঠেছে। বক্তারা বলেন, মানুষের লাগামহীন হস্তক্ষেপে সুন্দরবনের জলাভূমি আজ মারাত্মক সংকটে পড়েছে। নদী, খাল ও বনাঞ্চলে দূষণের মাত্রা বাড়তে থাকলে এ অঞ্চল তার স্বাভাবিক প্রাণপ্রবাহ হারাবে।
বিশ্ব জলাভূমি দিবস উপলক্ষে সোমবার (২ ফেব্রুয়ার) সকালে মোংলার কাপালিরমেঠ গ্রামে আয়োজিত মানববন্ধনে এসব দাবি তুলে ধরা হয়। পরিবেশবাদী সংগঠন ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা), সুন্দরবন রক্ষায় আমরা এবং পশুর রিভার ওয়াটারকিপার যৌথভাবে এ কর্মসূচির আয়োজন করে।
মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন সুন্দরবন রক্ষায় আমরা’র সমন্বয়কারী ও পশুর রিভার ওয়াটারকিপার পরিবেশকর্মী মো. নূর আলম শেখ। বক্তব্য দেন জেলে সমিতির নেতা আব্দুর রশিদ হাওলাদার, আইনজীবী সার্বভৌম, নাগরিক নেতা রাকেস সানা, ধরা’র নেত্রী কমলা সরকার, উন্নয়নকর্মী প্রসেনজিৎ সরদার, ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশ’র হাছিব সরদার, পশুর রিভার ওয়াটারকিপার ভলান্টিয়ার মেহেদী হাসান ও যুবনেতা আরাফাত আমিন দুর্জয়।
সভাপতির বক্তব্যে মো. নূর আলম শেখ বলেন, পশুর নদীতে উন্মুক্তভাবে কয়লা পরিবহন ও খালাস কার্যক্রম চলায় নদীর পানি বিষাক্ত হয়ে উঠছে। রামপাল কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রসহ আশপাশের শিল্পপ্রতিষ্ঠানের দূষণে সুন্দরবনের প্রতিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তিনি বলেন, কয়লা, শিল্পবর্জ্য, প্লাস্টিক ও বিষাক্ত রাসায়নিক দূষণ বন্ধ এবং বন্যপ্রাণী অপরাধ দমন করা না গেলে সুন্দরবন জলাভূমি রক্ষা করা সম্ভব নয়।
জেলে নেতা আব্দুর রশিদ হাওলাদার বলেন, সুন্দরবনের নদী ও খালে মাছ দ্রুত কমে যাচ্ছে। কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কার্যক্রম বন্ধ না হলে জলজ প্রাণীর অস্তিত্ব চরম হুমকিতে পড়বে।
ধরা’র নেত্রী কমলা সরকার বলেন, সুন্দরবনের ওপর নির্ভরশীল মানুষের জীবন ও জীবিকা আজ অনিশ্চিত। মুনাফালোভী গোষ্ঠী ও অবৈধ কার্যক্রমের কারণে বন ও নদী বিপর্যস্ত হচ্ছে। সুন্দরবন রক্ষায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কঠোর অবস্থান নিতে হবে।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা সুন্দরবন রক্ষার দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান সংবলিত প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন এবং অবিলম্বে দূষণ বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।
