
|| মির্জাগঞ্জ উপজেলা প্রতিনিধি ||
মির্জাগঞ্জ উপজেলার কাঁকড়া বুনিয়া ইউনিয়নে মকুমা গ্রামে চাঞ্চল্যকর কৃষক দুলাল মল্লিক হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত প্রধান আসামি মোঃ মহারাজ খান(৪৭) কে গ্রেফতার করেছে মির্জাগঞ্জ থানা পুলিশ।
গত ১৬ জানুয়ারি নিহত দুলাল মল্লিকের ছেলে শাওন বাদী হয়ে চারজনের নাম উল্লেখ করে মির্জাগঞ্জ থানা একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
গত শনিবার (২৪ জানুয়ারি) পটুয়াখালী সদর উপজেলার ছোট বিঘাই ইউনিয়নের মাটি ভাঙ্গা গ্রামে তার নিকট আত্মীয়ের বাড়িতে আত্মগোপন থাকাকালীন সময় গোপন সূত্রের ভিত্তিতে এসআই কাওসার, জাহিদসহ তার সঙ্গীও ফোর্সের অভিযানে বিকাল ৫.৩০ মিনিটে তাকে আটক করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছে মির্জাগঞ্জ থানা পুলিশ।
মির্জাগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ বলেন, প্রধান আসামি তার নিকট আত্মীয়ের বাড়িতে আত্মগোপন থাকাকালীন সময় গোপন সূত্রে এসআই কাওসারসহ সঙ্গীও ফোর্স তাকে গ্রেফতার করেন। মামলার অন্যান্য পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ১৩ জানুয়ারি বিকেল ৩টার দিকে একই গ্রামের বাসিন্দা মহারাজ খানের হাঁস-মুরগি প্রতিবেশী দুলাল মল্লিকের জমিতে ঢুকে পাকা ধান নষ্ট করছিল। নষ্ট ধান দেখে নিহত দুলাল মল্লিক বকাবকি শুরু করেন। দুলাল মল্লিক মহারাজ খানের পরিবারের কাছে অভিযোগ জানাতে গেলে উভয় পক্ষের মধ্যে প্রথমে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে মহারাজ খান, তার স্ত্রী আকলিমা বেগম (৩৮) ও মেয়ে সাদিয়া আক্তার (২২) একত্রিত হয়ে দুলাল মল্লিকের ওপর হামলা চালান।
কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে সাদিয়া আক্তার কাঁচি দিয়ে দুলাল মল্লিকের মাথার তালুতে সজোরে কোপ দেন। এতে সঙ্গে সঙ্গে রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।
স্থানীয় লোকজন ও স্বজনরা গুরুতর আহত অবস্থায় দুলাল মল্লিককে উদ্ধার করে প্রথমে মির্জাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে তাকে বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে পরিস্থিতি আরও আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য দ্রুত তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ১৪ জানুয়ারি বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে তিনি মারা যান।
