মঙ্গলবার, মার্চ ৩১

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের তীব্রতা বৃদ্ধি: হাজার হাজার মার্কিন প্যারাট্রুপার মোতায়েন

|| আন্তর্জাতিক ডেস্ক ||

ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে পরবর্তী পদক্ষেপ হিসেবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন বিভিন্ন বিকল্প বিবেচনা করছেন, ঠিক সেই মুহূর্তে যুক্তরাষ্ট্রের এলিট ‘৮২তম এয়ারবর্ন ডিভিশন’-এর হাজার হাজার সৈন্য মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছাতে শুরু করেছে। সোমবার (৩০ মার্চ) দুইজন মার্কিন কর্মকর্তা রয়টার্সকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। খবর: রয়টার্সের।

রয়টার্স গত ১৮ মার্চ প্রথম জানিয়েছিল যে, ট্রাম্প প্রশাসন মধ্যপ্রাচ্যে হাজার হাজার অতিরিক্ত সৈন্য মোতায়েনের কথা ভাবছে। এই পদক্ষেপের ফলে ইরানি ভূখণ্ডের ভেতরে সরাসরি সেনা মোতায়েনসহ যুদ্ধের পরিধি আরও বিস্তৃত করার সুযোগ তৈরি হবে।

উত্তর ক্যারোলিনার ফোর্ট ব্র্যাগ ভিত্তিক এই প্যারাট্রুপাররা এই অঞ্চলে আগে থেকে অবস্থানরত হাজার হাজার নাবিক, নৌ-সেনা (মেরিন) এবং স্পেশাল অপারেশন ফোর্সের সাথে যুক্ত হচ্ছেন। গত সপ্তাহান্তেই প্রায় ২,৫০০ মেরিন সেনা মধ্যপ্রাচ্যে এসে পৌঁছেছেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই সৈন্যরা সুনির্দিষ্টভাবে কোথায় অবস্থান নেবেন তা এখনই বলা যাচ্ছে না, তবে এই মোতায়েন আগে থেকেই প্রত্যাশিত ছিল।

ট্রাম্পের সামনে থাকা বিকল্পসমূহ:
সূত্রমতে, ইরানে সেনা পাঠানোর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও না হলেও এই অতিরিক্ত বাহিনী সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ অভিযানের সক্ষমতা তৈরি করবে। এই সৈন্যদের বেশ কিছু উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হতে পারে:
১. খার্গ দ্বীপ দখল: ইরানের তেল রপ্তানির ৯০ শতাংশের মূল কেন্দ্র হচ্ছে এই খার্গ দ্বীপ। এই দ্বীপটি নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার বিষয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের ভেতরে আলোচনা চলছে। তবে এটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে, কারণ ইরান ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের মাধ্যমে এই দ্বীপে আঘাত হানার সক্ষমতা রাখে।
২. ইউরেনিয়াম উদ্ধার: মাটির গভীরে থাকা উচ্চ মাত্রার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম উদ্ধারে ইরানি ভূখণ্ডের ভেতরে স্থল বাহিনী ব্যবহারের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। তবে এই মিশনে মার্কিন সেনাদের দীর্ঘ সময়ের জন্য ইরানের ভেতরে অবস্থান করতে হতে পারে।
৩. হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা: হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেলবাহী ট্যাংকারের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে ইরানের উপকূলীয় এলাকায় সেনা মোতায়েনের বিষয়টিও ট্রাম্প প্রশাসনের আলোচনার টেবিলে রয়েছে।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সোমবার জানিয়েছেন, যুদ্ধ শেষ করার বিষয়ে তারা একটি “অধিকতর যুক্তিসঙ্গত শাসনব্যবস্থার” সাথে আলোচনা করছেন। তবে তিনি তেহরানকে আবারও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া না হলে ইরানের তেলের খনি ও বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোতে হামলা চালানো হবে।

বিশ্লেষকদের মতে, সীমিত সময়ের জন্য হলেও ইরানে স্থল সেনা ব্যবহার করা ট্রাম্পের জন্য বড় রাজনৈতিক ঝুঁকি হতে পারে। কারণ মার্কিন জনগণের একাংশ এই যুদ্ধের বিরোধী এবং ট্রাম্প নিজেও নির্বাচনের আগে মধ্যপ্রাচ্যের নতুন কোনো সংঘাতে না জড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *