
|| নিজ প্রতিবেদক | আলোকিত দৈনিক ||
ভ্যাট ব্যবস্থাকে পুরোপুরি ডিজিটাল ও করদাতাবান্ধব করার লক্ষ্যে সব পেপার রিটার্ন অনলাইনে সংরক্ষণের বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। সোমবার (৫ জানুয়ারি) এনবিআরের পক্ষ থেকে জানানো হয়, করদাতারা অতীতে যেসব মাসিক ভ্যাট রিটার্ন হার্ড কপি আকারে দাখিল করেছিলেন, সেগুলো এখন থেকে নিজেরাই ই-ভ্যাট সিস্টেমে এন্ট্রি দিতে পারবেন। এ লক্ষ্যে সিস্টেমে ‘হার্ড কপি রিটার্ন এন্ট্রি’ নামে একটি নতুন সাব-মডিউল যুক্ত করা হয়েছে এবং এ সংক্রান্ত একটি পরিপত্রও জারি করা হয়েছে।
এনবিআর সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে পেপার রিটার্নগুলো সংশ্লিষ্ট ভ্যাট কমিশনারেটের সেন্ট্রাল প্রসেসিং সেন্টারের (সিপিসি) মাধ্যমে কর্মকর্তারা এন্ট্রি দেন। এই প্রক্রিয়ায় তথ্য ভুল হলে যেমন জটিলতা তৈরি হয়, তেমনি বিপুল পরিমাণ তথ্য এন্ট্রিতে দীর্ঘ সময়ের প্রয়োজন হয়। এছাড়া সঠিক সময়ে ডাটা এন্ট্রি না হওয়ায় অনেক ক্ষেত্রে করদাতাদের ওপর স্বয়ংক্রিয়ভাবে সুদ ও জরিমানা আরোপিত হচ্ছিল, যার ফলে অনেকে অনলাইনে রিটার্ন দাখিলে বাধার সম্মুখীন হচ্ছিলেন। নতুন এই মডিউল চালুর ফলে যারা নির্ধারিত সময়ে হার্ড কপি জমা দিয়েছিলেন, তারা কোনো বাড়তি সুদ বা জরিমানা ছাড়াই সেগুলো অনলাইনে এন্ট্রি দেওয়ার সুযোগ পাবেন।
করদাতাদের সুবিধার্থে ই-মেইল ও মোবাইল ফোনে ই-ভ্যাট সিস্টেমের লিংক পাঠানো হবে, যার মাধ্যমে সহজেই এই সাব-মডিউল ব্যবহার করা যাবে। আগামী ৩১ মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত কোনো ধরনের জরিমানা ছাড়াই পূর্বে দাখিল করা সব হার্ড কপি রিটার্ন সিস্টেমে এন্ট্রি দেওয়ার সুযোগ থাকছে। এই প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হলে করদাতারা ভবিষ্যতে নিরবচ্ছিন্নভাবে অনলাইনে ভ্যাট রিটার্ন দাখিল করতে পারবেন। এনবিআর আশা করছে, এই উদ্যোগের ফলে কর ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বৃদ্ধির পাশাপাশি পুরো ভ্যাট ব্যবস্থাপনা সম্পূর্ণ ডিজিটাল হওয়ার পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে যাবে।
