
|| সারোয়ার হোসেন অপু | নওগাঁ প্রতিনিধি ||
ঘন কুয়াশা ও কনকনে শৈত্যপ্রবাহে নওগাঁর বদলগাছী উপজেলায় জনজীবন চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বুধবার ভোর থেকেই পুরো উপজেলা ঘন কুয়াশার চাদরে ঢেকে পড়ে। সকাল পেরিয়ে বেলা বাড়লেও সূর্যের দেখা মেলেনি। ফলে হাড় কাঁপানো শীতে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা প্রায় স্থবির হয়ে পড়ে।
বদলগাছী আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ অফিস সূত্রে জানা গেছে, আজ উপজেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। শীতল বাতাসের সঙ্গে ঘন কুয়াশা থাকায় প্রকৃত অনুভূত তাপমাত্রা আরও কমে গেছে। আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে শীতের তীব্রতা আরও কয়েক দিন অব্যাহত থাকতে পারে।
তীব্র শীতে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন খেটে খাওয়া মানুষ, দিনমজুর, কৃষিশ্রমিক ও ভ্যানচালকরা। কাজের অভাবে অনেকেই দিনভর ঘরে বসে থাকতে বাধ্য হচ্ছেন। প্রয়োজন ছাড়া সাধারণ মানুষ ঘর থেকে বের হচ্ছেন না। শীতের কারণে উপজেলার বিভিন্ন হাটবাজারে ক্রেতা-বিক্রেতার উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে, ফলে ব্যবসায়ীরাও পড়েছেন বিপাকে।
ঘন কুয়াশার কারণে সকালবেলায় সড়কে যানবাহন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে গ্রামীণ ও আঞ্চলিক সড়কগুলোতে দৃষ্টিসীমা কমে যাওয়ায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে। অনেক যানবাহন ধীরগতিতে চলাচল করছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
এদিকে শীতজনিত রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যাও বাড়ছে। বদলগাছী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, ঠান্ডাজনিত সর্দি-কাশি, জ্বর, শ্বাসকষ্ট ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত শিশু ও বয়স্ক রোগীর সংখ্যা আগের তুলনায় বৃদ্ধি পেয়েছে। চিকিৎসকরা শীত থেকে রক্ষা পেতে বয়স্ক ও শিশুদের বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছেন।
শীতের তীব্রতা থেকে বাঁচতে নিম্নআয়ের মানুষজন খড়কুটো, লাকড়ি ও পুরনো কাপড় জ্বালিয়ে আগুন পোহাচ্ছেন। তবে পর্যাপ্ত শীতবস্ত্রের অভাবে চরম কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন অনেক দরিদ্র মানুষ। স্থানীয় নিম্ন আয়ের বাসিন্দারা দ্রুত সরকারি ও বেসরকারি সহায়তার মাধ্যমে শীতবস্ত্র বিতরণের দাবি জানিয়েছেন।
আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, আগামী কয়েক দিন তাপমাত্রা আরও কমতে পারে এবং ঘন কুয়াশা অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। এতে করে শীতের প্রকোপ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
