
|| সারোয়ার হোসেন অপু | জেলা প্রতিনিধি (নওগাঁ) ||
নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার কসবা গ্রামে ফসলি জমির মাটি কেটে বিক্রির মহোৎসব চলছে। জমির মালিকেরা তাঁদের জমি ব্যবসায়ীদের কাছে ইজারা দিয়েছেন। এসব ব্যবসায়ীরা ফসলি জমির মাটি কেটে ইটভাটার মালিক ও রাস্তার ঠিকাদারদের কাছে বিক্রি করছেন। জমি থেকে গভীর করে মাটি তোলায় আশপাশের ফসলি জমিগুলোতে ধস। একই ধারাবাহিকতায় উপজেলার চাংলা কোমারপুর মাঠ, গন্ধবপুর ভালকির বিলসহ উপজেলার বিভিন্ন স্থানে কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তিরা রাতের আঁধারে আবাদি ভিটা মাটি কেটে বিক্রি করছেন এলাকার বিভিন্ন ইটভাটায়। যার কোনো অনুমতি নেই। অর্থাৎ তারা জমির মালিকদের কোনো রকম ম্যানেজ করে অবৈধভাবে এসব আবাদি ভিটার মাটি কেটে ইটভাটায় বিক্রি করছেন।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, এভাবে মাটি কাটা অব্যহত থাকলে উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের মূল সড়ক নষ্ট হয়ে যেকোনো সময় সড়ক দূর্ঘটনার আশংকা রয়ে যাবে। পাশাপাশি ফসলি মাঠগুলোর মাটি অনবরত কাটতে থাকলে এলাকার মাঠগুলো খাল-বিলে পরিণিত হয়ে যাবে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
তাঁদের অভিযোগ, ৬-৭ বছর ধরে গ্রামের ফসলি মাঠের জমির মাটি কাটার চলছে মহোৎসব। এখন মাঠের অনেক জমির শ্রেণি পরির্বতন হয়ে গেছে। ফসলি জমির মাটি কাটা বন্ধের জন্য ভূমি অফিস, স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের কাছে অভিযোগ করেও কোন প্রতিকার পাচ্ছেন না এলাকাবাসী। সরেজমিনে কসবা, চাংলা-কেমারপুর, প্রধানকুন্ডি, গন্ধবপুর ভালকির বিল হতে ফসলি মাঠটিতে মাটি কাটার চলছে মহোৎসব। গ্রামের ফসলি মাঠটির ৬/৭টি স্থানে বিশাল অংশজুড়ে দুই/তিন ফসলি জমির মাটি গভীর করে মাটি কাটার কাজ চলছে। প্রতিটি স্থানেই এক সঙ্গে ৫-৬ টি বা তারও বেশি ট্র্যাক্টর এসে মাটি নিয়ে যাচ্ছে। অবাধে ট্র্যাক্টর চলাচল করায় হুমকির মুখে পড়ছে পাশে থাকা আবাদি ফসলের জমি। আবাদ করতে ভয় পাচ্ছেন এলাকার কৃষকেরা।
এ বিষয়ে জানতে চেয়ে বদলগাছী সহকারী কমিশনার (ভূমি) পলাশ উদ্দিনের মুঠোফোনে একাধিক বার যোগাযোগ করা হলেও তিনি তার মুঠোফোন টি রিসিভ করেন নাই।
জানতে চেয়ে বদলগাছী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইশরাত জাহান ছনির মুঠোফোন যোগাযোগ করা হলে তিনি আশার বানী সরূপ বলেছেন, দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহন করা। কিন্তু কার্যত প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়নি।
