
|| শেখ শাহরিয়ার | জেলা প্রতিনিধি (খুলনা) ||
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রার্থীদের প্রচার–প্রচারণা মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হচ্ছে। প্রচারণা পর্বের সমাপ্তির মধ্য দিয়ে খুলনা–৩ সংসদীয় আসনে নির্বাচনী মাঠ এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। দৌলতপুর, খালিশপুর ও খানজাহান আলী থানা নিয়ে গঠিত এই শ্রমিক অধ্যুষিত এলাকায় প্রার্থীদের পোস্টার, মিছিল ও জনসংযোগ থেমে গেলেও ভোটারদের আলোচনা থামেনি।
রাজনৈতিকভাবে খুলনা–৩ আসন বরাবরই প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। এখানে কখনো বিএনপি, আবার কখনো আওয়ামী লীগ প্রার্থী জয়ী হয়েছেন। কোনো দলই দীর্ঘ সময় ধরে একক আধিপত্য ধরে রাখতে পারেনি। জোটগত বাস্তবতায় ১৯৯৬ সালের পর জামায়াতে ইসলামী এ আসনে প্রার্থী দেয়নি। দীর্ঘ বিরতির পর এবারের নির্বাচনে বিএনপি ও জামায়াত আলাদাভাবে প্রার্থী দেওয়ায় ভোটের মাঠে নতুন হিসাব যোগ হয়েছে।
নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, খুলনা জেলার ছয়টি সংসদীয় আসনের মধ্যে ভোটার সংখ্যায় সবচেয়ে কম খুলনা–৩। এই আসনে মোট ভোটার ২ লাখ ৫৪ হাজার ৪০৯ জন। ভোট গ্রহণের জন্য প্রস্তুত রয়েছে ১১৫টি ভোটকেন্দ্র ও ৫১৬টি ভোটকক্ষ। পুলিশের ঝুঁকি বিশ্লেষণে ৪৭টি কেন্দ্রকে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ এবং ৩০টি কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রার্থী সংখ্যা ১০ জন হলেও মূল লড়াই সীমাবদ্ধ হয়ে আসছে বিএনপি প্রার্থী রকিবুল ইসলাম বকুল ও জামায়াতে ইসলামী প্রার্থী মাহফুজুর রহমানের মধ্যে। পাশাপাশি ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী অধ্যক্ষ আবদুল আউয়াল এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী এস এম আরিফুর রহমান মিঠুও এলাকায় সক্রিয় প্রচারণা চালিয়েছেন।
প্রচারণা শেষের আগে প্রার্থীরা এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলো সামনে এনে নানা প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। ভোটারদের মতে, বন্ধ মিল–কারখানার কারণে সৃষ্ট কর্মসংস্থান সংকট, বেহাল সড়ক ও দুর্বল ড্রেনেজ ব্যবস্থার ফলে জলাবদ্ধতার আশঙ্কা, নদীভাঙন ও স্থায়ী বাঁধের অভাব এবং মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য এবারের নির্বাচনে প্রধান বিবেচ্য বিষয়।
প্রচারণা পর্যায়ে বিএনপি প্রার্থী এলাকায় ফ্রি ওয়াইফাই জোন স্থাপন করে ভিন্ন কৌশলে ভোটারদের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করেন। জামায়াত প্রার্থী পুরুষ ও নারীদের নিয়ে পৃথক বড় মিছিল আয়োজন করেন, যা এলাকায় আলোচনার জন্ম দেয়। অন্য প্রার্থীরাও নিজ নিজভাবে ভোটারদের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করেছেন।
খুলনা–৩ আসনের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা ফয়সাল কাদির বলেন, মঙ্গলবার সকাল থেকে প্রার্থীদের সব ধরনের প্রচার–প্রচারণা বন্ধ হচ্ছে। ভোটকেন্দ্র বুঝে নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হচ্ছে। প্রতিটি কেন্দ্রে পর্যাপ্ত পুলিশ ও আনসার মোতায়েন থাকবে। পাশাপাশি সেনাবাহিনী, বিজিবি ও র্যাব মাঠে থাকবে। তিনি বলেন, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ ভোট গ্রহণে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
