
|| সেলিম মোল্লা | নিজস্ব প্রতিনিধি (মানিকগঞ্জ) ||
পবিত্র মাহে রমজানের সংযম আর আত্মশুদ্ধির আবহে যখন সারা দেশ নিমগ্ন, তখন মানিকগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী সরকারি দেবেন্দ্র কলেজ ক্যাম্পাসে দেখা যাচ্ছে ভিন্ন চিত্র। জেলার অন্যতম প্রধান এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের এক শ্রেণির অনৈতিক কার্যকলাপ আর মাদকের দংশনে বিঘ্নিত হচ্ছে শিক্ষার পরিবেশ। ক্যাম্পাসের নির্জন কোণ আর ঘন ঝোপঝাড়গুলো এখন পরিণত হয়েছে এক অঘোষিত ‘অনৈতিক অভয়ারণ্যে’, যা নিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
সরেজমিনে পরিদর্শন করে দেখা যায়, পবিত্র রমজানের ছুটিতেও ক্যাম্পাসের ভেতরে তরুণ-তরুণীদের অনাকাঙ্ক্ষিত ও আপত্তিকর উপস্থিতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিশেষ করে কলেজের নির্জন এলাকা ও ঝোপঝাড়ের আড়ালে দিনদুপুরে চলছে অশালীন কর্মকাণ্ড। শুধু তাই নয়, এর আড়ালে এক শ্রেণির বিপথগামী শিক্ষার্থী ও বহিরাগতদের মাদক সেবন করতেও দেখা যায়।
বিদ্যাপীঠের ভেতরে এমন দৃশ্য কেবল নৈতিক স্খলনই নয়, বরং দীর্ঘদিনের সামাজিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধের চরম অবক্ষয় হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা।
এলাকাবাসীরা আক্ষেপ করে বলেন, “যেখানে শিক্ষার্থীরা জ্ঞানের চর্চা করবে, সেখানে পবিত্র মাসে এসব দৃশ্য দেখা দুর্ভাগ্যজনক। এটি আমাদের সন্তানদের ভবিষ্যৎকে হুমকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে।”
এদিকে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ বিষয়ে একাধিক ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। এরপর, সরাসরি আলোচনায় স্থানীয় সুধীজনরা একে ‘নৈতিক দেউলিয়াত্ব’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। তাঁদের মতে, প্রশাসনের কঠোর নজরদারি আর সিসিটিভি ক্যামেরার কার্যকর তদারকি না থাকায় ক্যাম্পাসটি অপরাধপ্রবণদের জন্য নিরাপদ আস্তানায় পরিণত হচ্ছে।
এসময়, কলেজের ভাবমূর্তি ও পবিত্রতা রক্ষায় এবং আগামী প্রজন্মের নৈতিক ভিত্তি মজবুত করতে অতি দ্রুত কলেজ কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় প্রশাসনের সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।
এ ব্যাপারে ঐ কলেজের নাইম নামে এক শিক্ষার্থী বলেন, কাঠবাগানের জঙ্গলগুলোতে এবং গাছের আড়ালে প্রায়ই অনৈতিক কাজ চলে। অনেক সময় আমরাই বিব্রত হয়ে পড়ি। সবচেয়ে খারাপ লাগে যখন দেখি ইন্টারে পড়ুয়া ছেলেমেয়েরা অসামাজিক কাজ করছে।
সজিব নামে অনার্স পরুয়া এক শিক্ষার্থী জানান, কলেজের নতুন বহুতল ১০ তলা ভবনের টপ ফ্লোরে অনৈতিক কাজ চলে। বিভিন্ন সময় শ্রেনীকক্ষে একাধিক ছেলে মেয়ের অনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিষয় নিয়ে সমালোচনা হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইন্টার পড়ুয়া এক শিক্ষার্থী জানায়, সিসিটিভি ক্যামেরা না থাকায় ১০তলা ভবনের সর্বোচ্চ তলার বাথরুমগুলো অনৈতিক কাজের সুবিধাজনক জায়গা হিসেবে ব্যবহার করা হয়। এসময়, গ্রুপ করে শিক্ষার্থীরা সেখানে প্রবেশ করে এবং অন্যরা পাহারা দেয়।
কলেজটির ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ প্রফেসর মোঃ মনিরুল ইসলাম বলেন, কলেজের চারিদিকে নিরাপত্তা বাউন্ডারি নাই। এজন্য বিভিন্ন গ্রুপ এসে অনৈতিক কার্যকলাপ ঘটাচ্ছে। তবে, যখনই এ বিষয়গুলো আমাদের নজরে আসে তখনই তাৎক্ষণিকভাবে কলেজের ভিজিলেন্স টিম নিয়ে আমরা সেখানে উপস্থিত হই এবং সেগুলোর প্রতিকার করি।
মাদকের বিষয়ে তিনি বলেন, আমরা থানা ও আইনশৃঙ্খলা কমিটির মিটিং এ এসব জানিয়েছি। অনেকসময় গভীর রাতে পুলিশ এসে অভিযান চালায়। আমরা এসকল বিষয়ে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছি।
সচেতন মহলের দাবি, নিয়মিত টহল ও কঠোর ব্যবস্থা না নিলে এই ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপীঠ তার গৌরব হারাবে এবং সমাজ আরও গভীর অন্ধকারে নিমজ্জিত হবে।
