শুক্রবার, জানুয়ারি ৯

শান্তিকামী ট্রাম্পের উদ্দেশ্য কি? একটু ভাবতে হবে

ডোনাল্ড ট্রাম্প নির্বাচিত হবার পর থেকেই অনেক ঘটনার জন্ম দিয়েছেন। বৃহৎ দেশের প্রধান হিসাবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করার এক চেষ্টা তো অবশ্যই থাকবে। নৈতিক ও অনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের সিদ্ধহস্ত হিসাবে তিনি নিজেকে প্রতিষ্ঠা করেছেন। শুল্ক আরোপের মাধ্যমে নিজেকে আলোচনায় নিয়ে এসেছেন। ২০২৫-কে স্মরণীয় করে রেখেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প নানা ঘটনার জন্ম দিয়ে। অনেকটা বাজনা বাজিয়ে নিজে আগ্রাসী করনীতির ঘোষণা দিয়ে নিজে আলোচিত হয়েছেন এবং গোটা যুক্তরাষ্ট্রকে আলোচনার মধ্যে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছেন। যদিও আমেরিকার নাগরিকরা কিন্তু সেটা ভালোভাবে নিতে পারেনি। আগ্রাসী করনীতির ফলে অনেক দেশের সঙ্গে সম্পর্ক রীতিমতো করুণ পরিণতির দিকে চলে গেছে। বিশ্ব এখন বিভক্ত হয়েছে দুটি ভাগে। কোন কোন দেশ নিরপেক্ষ থাকার চেষ্টা করছে আবার কেউ হয়তোবা চেষ্টা করছে সমঝোতা করার। যাই হোক, সমঝোতা করলেও নিজের কথা অনেকটা ভুলে যেতে হবে।

বছর শেষে অভিবাসীদের জন্য গুদামঘর নির্মাণের সিদ্ধান্ত নিয়ে নিজেকে আলোচিত করেছেন। বছরের শুরুতে নিজের সিদ্ধান্তের জন্য আবারও বিতর্কের সৃষ্টি করেছেন। বেশ চমক সৃষ্টি করতে তিনি বেশ আগ্রহী। নিজেকে অপ্রতিদ্বন্দ্বী হিসাবে প্রতিষ্ঠা করতে তিনি বেশ আগ্রহী। নিজের অস্তিত্ব যেন কোনোভাবেই খর্ব না হয়, সেদিকে তাঁর সবসময় নজর।

বছরের শুরুতে সামরিক অভিযান চালিয়ে সস্ত্রীক ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে নিউইয়র্ক উড়িয়ে এনেছে আমেরিকার ডেল্টা ফোর্স। এ হেন অপারেশন সাফল্য আসতেই আরও চারটি দেশকে চরম হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বর্ষীয়ান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শপথ নেওয়ার সময় নিজেকে “পিস” প্রেসিডেন্ট হিসাবে তুলে ধরেছিলেন তিনি। শান্তির জন্য কাজ করবেন বলে তিনি জানিয়েছিলেন। কিন্তু কতটুকু কথা রাখতে পেরেছেন, সেটি নিয়ে আমাদের এখন ভাবতে হবে।

গত বছরে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে শান্তি প্রতিষ্ঠার কম চেষ্টা করতে দেখা যায়নি তাঁকে। নিজেই বলেছেন, তাঁর কথায় থেমেছে ভারত–পাকিস্তানসহ মোট আটটি যুদ্ধ। আর তাই নোবেল শান্তি পুরস্কারের তিনি যে অন্যতম দাবিদার, প্রকাশ্যে সে কথা বলতে একবারও কুণ্ঠাবোধ করেননি “সুপার পাওয়ার” দেশের দুর্দণ্ডপ্রতাপ এই শাসক। কিন্তু সময়ের চাকা ঘুরতেই আসল রূপ বেরিয়ে এল। তাঁর অশান্তির রাস্তা ছেড়ে লড়াইয়ের ময়দানে ঝাঁপাতে দেখা যাচ্ছে তাঁকে।

তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর নেতৃত্বে নতুন বছরের শুরুটা ভেনেজুয়েলা আক্রমণের মধ্য দিয়ে শুরু করল ওয়াশিংটনের সামরিক বাহিনী। সে দেশের প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে বন্দি করে নিউইয়র্ক শহরে উড়িয়ে এনেছে তারা। কয়েক ঘণ্টার সামরিক অভিযানে ল্যাটিন আমেরিকার দেশটি দখল নেওয়ার কাজ শেষ হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের সেনা যে এখনই ব্যারাকে ফিরছে, এমনটা নয়। কারণ ট্রাম্প যেভাবে সুর চড়াচ্ছেন, তাতে এ বছর তাঁর বাহিনী অন্তত চারটি দেশের সঙ্গে সংঘাতে জড়াতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকদের একাংশ।

মাদুরো গ্রেপ্তারের পরই নিজের সমাজমাধ্যম প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যাল-এ একটি তাৎপর্যপূর্ণ পোস্ট করেন যুক্তরাষ্ট্রের বর্ষীয়ান এই প্রেসিডেন্ট। সেখানে উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকা মিলিয়ে মোট তিনটি দেশকে কার্যত হুঁশিয়ারি দেন তিনি। তাঁর নজরে থাকা ওই তিন রাষ্ট্র হলো মেক্সিকো, কলম্বিয়া এবং কিউবা। মাদক পাচার এবং অনুপ্রবেশ ইস্যুতে ওয়াশিংটনের ট্রাম্প সরকার যে কোনো রকম আপস করবে না, তখনই তা স্পষ্ট হয়ে যায়।

ট্রুথ সোশ্যাল-এ মার্কিন প্রেসিডেন্ট লিখেছেন, “মাদক সন্ত্রাস নিয়ে ভেনেজুয়েলাকে বারবার সতর্ক করেছি। কিন্তু তাতে কোনো কাজ হয়নি। সেই কারণেই ওদের বিরুদ্ধে বড় কিছু করার প্রয়োজন হয়ে পড়েছিল। একই কথা মেক্সিকো, কলম্বিয়া এবং কিউবার ক্ষেত্রেও সত্যি। মাদক সন্ত্রাস রুখতে যদি ওই এলাকায় আমেরিকাকে পা রাখতে হয়, প্রয়োজনে সেটা করতেও আমরা প্রস্তুত। আর এর জন্য কারও চোখ রাঙানি মেনে নেব না।”

দ্বিতীয় বারের জন্য ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর মেক্সিকোর সঙ্গে ওয়াশিংটনের সংঘাত চরমে পৌঁছেছে। এর নেপথ্যে মূলত শরণার্থী অনুপ্রবেশ। অতীতেও এ ব্যাপারে মার্কিন প্রেসিডেন্টকে দক্ষিণের প্রতিবেশীকে হুমকি দিতে দেখা গিয়েছে। তাঁর কথায়, “আমেরিকায় শরণার্থী অনুপ্রবেশ আটকাতে অবিলম্বে পদক্ষেপ গ্রহণ করুক মেক্সিকোর সরকার। ভবিষ্যতে তাদের ফল ভুগতে হবে।”

২০২৪ সাল থেকে মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট পদে আছেন ক্লডিয়া শিনবাউম পার্ডো। তাঁর সঙ্গে বর্তমানে ট্রাম্পের সম্পর্ক সম্পূর্ণ সাপে–নেউলে বললে অত্যুক্তি হবে না। অনুপ্রবেশ ইস্যুকে বাদ দিলে মার্কিন প্রেসিডেন্টের বেপরোয়া শুল্কনীতির অন্যতম বড় সমালোচক ক্লডিয়া। আগ্রাসী করনীতি ২০২৫ সালের এপ্রিলে চালু করেন ট্রাম্প। এর জেরে আমেরিকার বাজারে পণ্য বিক্রির ক্ষেত্রে ২৫ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক দিতে হচ্ছে মেক্সিকোর ব্যবসায়ী ও শিল্পপতিদের। ফলে আর্থিক দিক থেকে লোকসানের মুখে পড়তে হচ্ছে তাঁদের।

প্রেসিডেন্ট হিসাবে প্রথম মেয়াদেও (২০১৭–১৯ সাল) ট্রাম্পের সঙ্গে মেক্সিকোর সম্পর্ক ছিল যথেষ্ট অম্ল-মধুর। ওই সময় অবৈধ অভিবাসন এবং মাদক কারবারের রমরমা নিয়ে দক্ষিণের প্রতিবেশীকে বারবার সতর্ক করেন। শুধু তাই নয়, মেক্সিকো সীমান্তে উঁচু পাঁচিল তোলার কাজও চালাচ্ছিল তাঁর সরকার। পরবর্তীকালে অবশ্য পার্ডো সম্পর্কে কোনো বিষোদ্গার করতে দেখা যায়নি তাঁকে। উল্টে গণমাধ্যমের সামনে তাঁর প্রশংসাই করেছেন রিপাবলিকান দলের যুক্তরাষ্ট্রের বর্ষীয়ান প্রেসিডেন্ট।

গত বছর একটি সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, “পার্ডো খুব ভালো মানুষ। আমরা বেশ ভালো বন্ধু। কিন্তু সমস্যা হলো মেক্সিকোকে উনি পরিচালনা করছেন না। দেশটাকে চালাচ্ছে কিছু মাদক ব্যবসায়ী।”

ভেনেজুয়েলায় তাঁর আগ্রাসী পদক্ষেপ অবশ্য একেবারেই ভালো চোখে দেখেননি মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট। কারাকাসে মার্কিন সামরিক অভিযানের কড়া নিন্দা করেছেন তিনি। এর পর ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি আসায় নতুন করে পরিস্থিতি জটিল হলো বলে মনে করা হচ্ছে।

ভেনেজুয়েলায় মার্কিন সামরিক অভিযানের জেরে মেক্সিকোর পাশাপাশি চাপ বেড়েছে কলম্বিয়ার ওপরেও। সেখানকার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেট্রোকে পরোক্ষ “মাদক সম্রাট” বলে উল্লেখ করেছেন ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের দাবি, পেট্রোর কোকেন তৈরির একাধিক কারখানা আছে। চোরাপথে সেগুলো পাঠানো হচ্ছে আমেরিকায়। সেই কারণে কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্টকে শিক্ষা দিতে চাইছেন তিনি।

ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট মাদুরোর সঙ্গে যথেষ্ট ঘনিষ্ঠতা ছিল কিউবার। সেখানকার প্রেসিডেন্ট মিগুয়েল দিয়াজ-কানেলকে “ব্যর্থ শাসক” বলে উল্লেখ করেছেন ট্রাম্প। মার্কিন প্রেসিডেন্টের বক্তব্য, “হাভানার পরিস্থিতি এখন ভালো নয়। সেখানকার প্রশাসনিক পরিকাঠামো ভেঙে পড়েছে। কিউবার জনগণের জন্য সেটা মোটেই সুখকর নয়। বছরের পর বছর ধরে ব্যর্থ শাসকের জন্য তাঁদের ফল ভুগতে হচ্ছে। এবার কিউবাবাসীকে মুক্তি দেওয়ার সময় এসেছে।”

চলতি বছরের ২ জানুয়ারি ইরান ইস্যুতে মুখ খোলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। এই বিষয়ে ট্রুথ সোশ্যাল-এ করা পোস্টে তিনি লিখেছেন, “নিরীহ বিক্ষোভকারীদের গুলি করে নির্মমভাবে হত্যা করলে চুপ করে বসে থাকবে না আমেরিকা। এটাই ওদের রীতি। আমরা তখন বাঁচাতে যাব। এর জন্য আমরা তৈরি আছি।”

তাঁর ওই মন্তব্যের পর দুনিয়া জুড়ে শুরু হয় হইচই। ট্রাম্প যে সমস্ত দেশকে হুমকি দিয়েছেন, তাদের সঙ্গে যুদ্ধ করার অতীত অভিজ্ঞতা আছে মার্কিন সামরিক বাহিনীর। ইরান পরিস্থিতি অনেকটা খারাপের দিকে যাচ্ছে বলে বিভিন্ন গণমাধ্যম কথা বলতে শুরু করেছে। বিক্ষোভকারীরা রাজতন্ত্রে ফিরে যেতে আগ্রহী বলে শোনা যাচ্ছে। বিক্ষোভ দমনে প্রায় ৩৫ জন নিহত হয়েছেন। ইরান মার্কিন সামরিক বাহিনীর অনুপ্রবেশের বিরোধী। ইরান তার অভ্যন্তরীণ সমস্যা নিজেই সমাধান করতে প্রস্তুত।

ভেনেজুয়েলার বিষয়টি নিয়ে ভারত পর্যবেক্ষণ করছে। চীন ও রাশিয়া ইতিমধ্যে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। তারা পরিষ্কারভাবে এর বিরোধিতা করে। ভারতের সঙ্গে চীন, রাশিয়া এবং ইরানের সম্পর্ক অনেকটাই ভালো।

যাই হোক, একটু পূর্বের কথা বলি। উদাহরণ হিসাবে প্রথমেই মেক্সিকোর কথা বলা যেতে পারে। ১৮৪৫ সালে টেক্সাস অধিগ্রহণ করে আমেরিকা। ওই সময় সেটি ছিল একটি স্বাধীন রাষ্ট্র। তবে টেক্সাসের ওপর মেক্সিকোর প্রভাব ছিল ষোল আনা। শুধু তাই নয়, সেখানকার শাসকেরা টেক্সাসকে মেক্সিকোর অংশ বলেই মনে করতেন। টেক্সাসের ওপর মার্কিন দখলদারি তাই মেনে নেয়নি।

১৮৪৬ সালের এপ্রিল মাসে এই নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে বেধে যায় যুদ্ধ, যা পরবর্তী দুই বছর চলেছিল। ১৮৪৮ সালে শেষ পর্যন্ত টেক্সাসের ওপর আমেরিকার সার্বভৌম অধিকার মেনে নেয় পরাজিত মেক্সিকোর বাহিনী। একাধিক সামরিক চুক্তির মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে শেষ হয় লড়াই।

১৮৯৮ সালে স্পেনের হাত থেকে কিউবাকে মুক্ত করতে বড় ভূমিকা নেয় যুক্তরাষ্ট্রের সরকার। পরবর্তী দশকগুলিতে হাভানার সরকারের ওপর যথেষ্ট প্রভাব ছিল আমেরিকার। কিন্তু দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধোত্তর (১৯৩৯–৪৫) পৃথিবীতে সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের (বর্তমান রাশিয়া) কমিউনিস্ট মতাদর্শকে আপন করতে থাকেন সেখানকার একাংশ। তাঁদের নতুন জীবনের স্বপ্ন দেখাতে থাকেন দুই কিংবদন্তি রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব—ফিদেল কাস্ত্রো ও চে গেভারা।

কিউবায় কমিউনিস্ট প্রভাব শেষ করতে ১৯৬১ সালে পিগস উপসাগরে সামরিক অভিযান চালায় আমেরিকার বাহিনী। কিন্তু তাতে পুরোপুরি ব্যর্থ হয় ওয়াশিংটন। যুক্তরাষ্ট্রকে হারাতে পর্দার আড়ালে থেকে যথেষ্ট সাহায্য করেছিল সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়ন। ফলে বিপদ কেটে যাওয়ার পর মস্কোর সঙ্গে আরও সুসম্পর্ক তৈরি হয় হাভানার। এতে মার্কিন সরকারের কপালের চিন্তার ভাঁজ আরও চওড়া হয়ে ওঠে।

১৯৭৯ সালে “ইসলামিক বিপ্লব”-এর জেরে ইরানে রাজতন্ত্রের অবসান ঘটে। শিয়া ধর্মগুরুদের শাসনে চলে যায় পারস্য উপসাগরের ওই দেশ। তাঁরা ক্ষমতায় আসতেই তেহরানের সঙ্গে ওয়াশিংটনের সম্পর্কের অবনতি ঘটে। কারণ ইরানের শেষ শাহ মোহাম্মদ রেজা পহলভি ছিলেন পুরোপুরি আমেরিকাপন্থী।

ওই বছরই তেহরানের মার্কিন দূতাবাসে ঢুকে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনীতিবিদ ও কর্মী মিলিয়ে মোট ৫২ জনকে পণবন্দি করেছিল একটি বিদ্রোহী গোষ্ঠী। আটক কূটনীতিবিদদের উদ্ধার করতে ১৯৮০ সালে কমান্ডো অভিযান চালায় আমেরিকা। এর কোড নাম ছিল “অপারেশন ঈগল ক্লজ”। কিন্তু এতেও ব্যর্থ হয় যুক্তরাষ্ট্র। মরু ঝড়ের মুখে পড়ায় ভেঙে গিয়েছিল মার্কিন সামরিক হেলিকপ্টার। পরে অবশ্য কূটনৈতিক পথে পণবন্দিদের উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছিল ওয়াশিংটন।

ওই ঘটনার পর থেকে বহুবার সাবেক পারস্য দেশের সরকার বদলের চেষ্টা চালিয়েছে আমেরিকার গুপ্তচর সংস্থা “সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স এজেন্সি” বা সিআইএ। কিন্তু এখনও পর্যন্ত তাতে সাফল্যের মুখ দেখেনি তারা।

গত বছর ২০২৫ সালে ইরানের পরমাণু কেন্দ্রগুলিতে বোমাবর্ষণ করে মার্কিন বিমানবাহিনী। এর পোশাকি নাম ছিল “অপারেশন মিডনাইট হ্যামার”। ওই সময় যুক্তরাষ্ট্রের বি-২ স্পিরিট বোমারু বিমানকে আটকাতে পারেনি তেহরান। পাল্টা পশ্চিম এশিয়ায় আমেরিকার ঘাঁটি ধ্বংস করে ওয়াশিংটনের এয়ার ডিফেন্স।

গত ২ জানুয়ারি মধ্যরাতে (স্থানীয় সময় রাত ২টার নাগাদ) ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে ঢুকে হামলা চালায় আমেরিকার ডেল্টা ফোর্স। আক্রমণ চলাকালীন সময়ে সস্ত্রীক প্রেসিডেন্ট মাদুরোকে গ্রেপ্তার করে তুলে নিয়ে আসে তারা। এই সামরিক অভিযানের কোড নাম “অপারেশন অ্যাবসোলিউট রিজলভ” (পরম সংকল্প) রেখেছে আমেরিকা। পরে সমাজমাধ্যমে একটি পোস্ট করে সে কথা জানিয়ে দেন ট্রাম্প।

এ বছর মেক্সিকো, কলম্বিয়া, কিউবা এবং ইরানের মতো দেশগুলোর সঙ্গে লড়াইয়ে জড়ালে তাঁর শান্তিকামী ভাবমূর্তি যে ক্ষুণ্ন হবে, তা বলাই বাহুল্য।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *