সোমবার, ফেব্রুয়ারি ১৬

নতুন সরকারের কাছে জনগণের প্রত্যাশা

গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হয়ে গেল ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন; যেখানে স্বতঃস্ফূর্তভাবে, কিছু বিশৃঙ্খলা ছাড়া জনগণ নির্বিঘ্নে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছে।
যদিও ফলাফল নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।

১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের ফল অনুযায়ী বিএনপি বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে। অন্যদিকে, প্রধান বিরোধী দল হিসেবে এই প্রথমবারের মতো সংসদে যাচ্ছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। তারাও ভালো ফল করেছে। এ ছাড়া ’২৪-এর জুলাই আন্দোলনে সম্মুখসারির নেতৃত্বদানকারী ছাত্রদের দল এনসিপিও ভালো করেছে। ছয়জন বিজয়ী তরুণ রাষ্ট্র সংস্কারের দাবি নিয়ে সংসদে যাচ্ছেন, যা সংস্কারপ্রত্যাশী তরুণদের জন্য খুবই আশাপ্রদ একটি বিষয়।

জনগণ নতুন সরকারের প্রতি যে আস্থা রেখেছে, সেই আস্থার প্রতি সন্মান দেওয়ার জন্য তাদের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি করা এবং নিত্যপণ্যের দাম সহনীয় পর্যায়ে নামিয়ে আনা জরুরি। বিগত সরকারের সময়গুলোতে বাজার সিন্ডিকেটের কারণে জনগণের যে নাকাল অবস্থা, সেখান থেকে তাদের অন্তত স্বস্তির জায়গায় নিয়ে আসতে হবে। এ ক্ষেত্রে কোনো রকম নমনীয়তা দেখানো যাবে না। তাদের মনে রাখতে হবে, তারা জনগণের বিপুল ভোটে নির্বাচিত সরকার। ব্যবসায়ীদের অন্যায়, অতিরিক্ত মুনাফার লোভ নিয়ন্ত্রণ করার দায়িত্ব তাদেরই।

নারীদের হেনস্তা, ছিনতাই, রাহাজানি, খুন-সন্ত্রাস ইত্যাদির ব্যাপারে কঠোর পদক্ষেপ জরুরী। জুলাই-পরবর্তী নতুন সরকারের প্রতি মানুষের অনেক প্রত্যাশা রয়েছে। সেই প্রত্যাশা পূরণে নতুন সরকারকে মনে রাখতে হবে, অতীতের মতো রাজনীতির চর্চা করতে থাকলে জনগণের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হবে। ক্ষমতার রাজনীতি যেন আধিপত্য বিস্তারের জন্য ব্যবহৃত না হয়।চাঁদাবাজি ও আধিপত্য বিস্তারের যে পুরনো সংস্কৃতি, তা বন্ধ করতে হবে। সাধারণ জনগণের সঙ্গে সৌজন্যপূর্ণ আচরণ করতে হবে।

যে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের মধ্যে দিয়ে জুলাই অভ্যুত্থান, সেই বৈষম্য দূরীকরণে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে হবে। সকল ক্ষেত্রে বিরাজমান দূর্নীতি দূর করতে হবে, এটা জনগণের দীর্ঘ দিনের দাবি।

যেহেতু সংখাগরিষ্ট মুসলমানদের দেশ, এখানে ইসলাম বা ইসলামী মূল্যবোধ বিরোধী তৎপরতা চালিয়ে কেউ যাতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে বা মুসলমানদের বিভিন্নভাবে হয়রানি করতে না পারে। সাথে সাথে অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের অধিকার সমুন্নত রাখতে হবে, যাতে এ নিয়ে কেউ অপরাজনীতি করতে না পারে।

সকল ক্ষেত্রে সংস্কার করে এবং তা বাস্তবায়নের মাধ্যমে জনগণের প্রত্যাশিত কল্যাণকর রাষ্ট্র নির্মাণে সরকার এগিয়ে যাবে বলে আমরা আশা রাখি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *