
|| নিজস্ব প্রতিবেদক ||
প্রস্তাবিত নবম পে-স্কেলে উচ্চ ও নিম্ন ধাপের বেতনের আকাশচুম্বী ব্যবধান কমিয়ে আনা এবং নিত্যপণ্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ইসলামী ঐক্য আন্দোলনের আমীর অধ্যাপক মাওলানা মুহাম্মাদ এরশাদ উল্যাহ ভূঁইয়া। গতকাল শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) রাজধানীর পুরানা পল্টনস্থ কেন্দ্রীয় কার্যালয় মিলনায়তনে সংগঠনের সেক্রেটারি জেনারেল জনাব মোস্তফা তারেকুল হাসানের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত ‘মজলিসে আমল’-এর সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব দাবি ও উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
অধ্যাপক এরশাদ উল্যাহ ভূঁইয়া বলেন, গত ২১ জানুয়ারি কমিশন যে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে তাতে সর্বনিম্ন ২০ হাজার ও সর্বোচ্চ ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা বেতনের সুপারিশ করা হয়েছে। যদিও পূর্বের ১:৯.৪ অনুপাত কমিয়ে এবার ১:৮ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, কিন্তু বর্তমান মুদ্রাস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বিবেচনায় এই বৈষম্য আরও কমিয়ে আনা অপরিহার্য। তিনি সরকারি কর্মচারীদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে সর্বনিম্ন বেতন ৩০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ বেতন ১ লাখ ২০ হাজার টাকা নির্ধারণ করার জন্য সরকারের প্রতি জোরালো আহ্বান জানান।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নে যে কয়েক হাজার কোটি টাকার বাড়তি প্রয়োজন হবে, তার বোঝা যেন সাধারণ মানুষের ওপর করের মাধ্যমে চাপিয়ে দেওয়া না হয়; বরং দুর্নীতি ও অর্থ পাচার রোধ করে এই অর্থের সংস্থান করতে হবে।
বিগত এক দশকে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য বহুগুণ বৃদ্ধি পাওয়ায় সাধারণ মানুষের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে উল্লেখ করে ইসলামী ঐক্য আন্দোলনের আমীর বলেন, বাজার সিন্ডিকেট ও অসাধু মজুদদারদের কারণে সাধারণ মানুষ আজ জিম্মি। বিশেষ করে সিলিন্ডার গ্যাসের কৃত্রিম সংকট তৈরি করে যারা জনভোগান্তি বাড়াচ্ছে এবং দাম ক্রয়ক্ষমতার বাইরে নিয়ে যাচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। তিনি সরকারকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যদি গ্যাস ও নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হয়, তবে সাধারণ জনগণ রাজপথে নামতে বাধ্য হবে।
আন্তর্জাতিক প্রসঙ্গে তিনি ইরানে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক হুমকির তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, কোনো সাম্রাজ্যবাদী শক্তির আস্ফালন বিশ্ব মুসলিম মেনে নেবে না।
সভায় সংগঠনের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমীর মাওলানা মুহাম্মাদ রুহুল আমীন, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক জনাব মোস্তফা শহীদুল হক, জনাব মোস্তফা বশিরুল হাসান, মাওলানা মুহাম্মাদ মুহিব্বুল্লাহ ভূঁঞা, মাওলানা আবু বকর সিদ্দিক, মাওলানা সাইফুল ইসলাম, মাওলানা ক্বারী ওবায়দুল্লাহ, মাওলানা মতিন ফরাজী, মাওলানা আনোয়ার হোসেন, এফ এম আলী হায়দারসহ মজলিসে আমলের অন্যান্য সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
