মঙ্গলবার, এপ্রিল ৭

তেল সংকটে ভোগান্তি: লাইসেন্স-রেজিস্ট্রেশনে ভিড়, মোটরসাইকেল বিক্রিতে ধস

|| এস এম শাহরিয়ার | জেলা প্রতিনিধি (খুলনা) ||

খুলনা মহানগরীতে জ্বালানি তেল সংকটের প্রভাব পড়েছে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে। বিশেষ করে মোটরসাইকেল ব্যবহারকারীরা পড়েছেন চরম ভোগান্তিতে। তেল পেতে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়ানোর পাশাপাশি বৈধ কাগজপত্র না থাকলে জটিলতায় পড়তে হচ্ছে চালকদের। ফলে ড্রাইভিং লাইসেন্স ও গাড়ির রেজিস্ট্রেশন করতে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) খুলনা কার্যালয়ে বেড়েছে মানুষের ভিড়।

নগরীর খালিশপুর এলাকার বাসিন্দা রাশেদ মাহমুদ সম্প্রতি ছেলের পড়ালেখার সুবিধার্থে একটি নতুন মোটরসাইকেল কিনেছেন। তিনি বলেন, “ছেলে বিশ্ববিদ্যালয়ে যাতায়াত করে। তাই নতুন বাইক কিনেছি। কিন্তু এখন তেল নিতে গেলে কাগজপত্র দেখাতে হচ্ছে, তাই দ্রুত রেজিস্ট্রেশন করাতে এসেছি।”

সরেজমিনে দেখা যায়, বিআরটিএ কার্যালয়ের পাশে অস্থায়ী শেডে ড্রাইভিং লাইসেন্স পরীক্ষার জন্য ভিড় করছেন শত শত মানুষ। সেখানে লাইসেন্স পরীক্ষার্থী সাইফুল ইসলাম জানান, “এখন বিভিন্ন জায়গায় কাগজপত্র চেক করা হচ্ছে। ঝামেলা এড়াতে লাইসেন্সের জন্য পরীক্ষা দিতে এসেছি।”

বিআরটিএ খুলনা সূত্র জানায়, চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে শিক্ষানবিশ ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য ৫ হাজারের বেশি আবেদন জমা পড়েছে। একই সময়ে কয়েক হাজার যানবাহনের রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, জ্বালানি পরিস্থিতির কারণে মানুষের মধ্যে সচেতনতা বেড়েছে, তাই আবেদনও বাড়ছে।

এদিকে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির প্রভাবে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় দেশের বাজারে তৈরি হয়েছে অস্থিরতা। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে মোটরসাইকেল বাজারে।

দৌলতপুর এলাকার একটি মোটরসাইকেল শোরুমের ব্যবস্থাপক ফাহিম হাসান বলেন, “আগে সপ্তাহে ১০-১২টি বাইক বিক্রি হতো, এখন তা অর্ধেকে নেমে এসেছে। ঈদের সময় কিছুটা ভালো ছিল, কিন্তু এখন বিক্রি অনেক কম।”

সোনাডাঙ্গার আরেকটি শোরুমের বিক্রয়কর্মী নাদিয়া রহমান বলেন, “তেলের সংকটের কারণে অনেকেই নতুন মোটরসাইকেল কেনা থেকে বিরত থাকছেন। বিক্রি প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে।”

মঙ্গলবার নগরীর বিভিন্ন পেট্রোল পাম্প ঘুরে দেখা যায়, অনেক পাম্পেই তেলের সরবরাহ নেই। কোথাও কোথাও তেল থাকলেও মোটরসাইকেল চালকদের দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে হচ্ছে।

নগরীর একটি ফিলিং স্টেশনে তেল নিতে আসা আরেক চালক ইমরান শেখ বলেন, “দুই-তিনটা পাম্প ঘুরেও তেল পাইনি। শেষ পর্যন্ত এখানে এসে লাইনে দাঁড়িয়ে ২০০ টাকার তেল নিতে পেরেছি।”

পাম্প সংশ্লিষ্টরা জানান, ডিপো থেকে চাহিদা অনুযায়ী তেল সরবরাহ না পাওয়ায় তারা সীমিত আকারে বিক্রি করছেন। অনেক ক্ষেত্রে রেশনিং পদ্ধতিতে তেল দেওয়া হচ্ছে।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে নগরীর বিভিন্ন পেট্রোল পাম্পে মনিটরিং জোরদার করা হয়েছে। এজন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা নিয়মিত তদারকি করছেন।

খুলনার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. কামরুল হাসান বলেন, “তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে আমরা নিয়মিত নজরদারি করছি। বাজারে আতঙ্ক কমাতে কাজ চলছে। আশা করছি পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হবে।”

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বৈশ্বিক পরিস্থিতি স্থিতিশীল না হওয়া পর্যন্ত জ্বালানি খাতে এই চাপ অব্যাহত থাকতে পারে। তবে প্রশাসনের তদারকি ও সরবরাহ স্বাভাবিক হলে জনভোগান্তি কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *