বুধবার, জানুয়ারি ৭

তীব্র শীতে বিপর্যস্ত দেশ, হাসপাতালে বাড়ছে ঠান্ডাজনিত রোগীর ভিড়

|| ​আলোকিত দৈনিক ডেস্ক ||

টানা তিন সপ্তাহ ধরে চলা তীব্র শৈত্যপ্রবাহে সারা দেশে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। হাড়কাঁপানো ঠান্ডার প্রভাবে বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের মধ্যে ঠান্ডাজনিত রোগের প্রকোপ আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ১ নভেম্বর থেকে ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত দুই মাসে শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে সরকারি হাসপাতালগুলোতে প্রায় এক লাখ মানুষ ভর্তি হয়েছেন। এই সময়ে ঠান্ডাজনিত বিভিন্ন জটিলতায় প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ৪৬ জন।

​স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, গত দুই মাসে মোট ৯৮ হাজার ৭৪১ জন রোগী ঠান্ডাজনিত সমস্যায় হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। এর মধ্যে তীব্র শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণে আক্রান্ত ২৯ হাজার ৫৫৫ জন এবং মৃত্যু হয়েছে ৪০ জনের। অন্যদিকে, ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন ৬৯ হাজার ১৮৬ জন, যার মধ্যে মারা গেছেন ৬ জন।

বিভাগীয় পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ঢাকা বিভাগে শ্বাসতন্ত্রের রোগী এবং চট্টগ্রাম বিভাগে ডায়রিয়া আক্রান্তের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। শীতের তীব্রতার কারণে বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটে রোগীর সংখ্যা স্বাভাবিকের চেয়ে প্রায় ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেও শিশু রোগীর সংখ্যা বেড়েছে ২০ শতাংশ।

​বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম হওয়ায় এবং তীব্র শীতে শ্বাসনালি দুর্বল হয়ে পড়ায় নিউমোনিয়া, ব্রঙ্কিওলাইটিস ও ডায়রিয়া দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে।

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. পি কে এম মাসুদ উল ইসলাম শিশুদের উষ্ণ রাখা ও বাড়তি সতর্কতার পরামর্শ দিয়েছেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সতর্ক করেছে যে, শীতের মৌসুম শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই স্বাস্থ্যঝুঁকি অব্যাহত থাকতে পারে। নিউমোনিয়ার লক্ষণ বা ডায়রিয়া দেখা দিলে দেরি না করে দ্রুত হাসপাতালে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়ার পাশাপাশি পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোকে সার্বক্ষণিক প্রস্তুত থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *