
|| ভোলা প্রতিনিধি ||
ইয়ুথ ফোরাম অব বাংলাদেশের আয়োজনে রাজধানীর বাংলাদেশ শিশু একাডেমি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হলো ‘তারুণ্যের চোখে আগামীর বাংলাদেশ’ শিরোনামের আন্তঃকলেজ বিতর্ক উৎসবের জাঁকজমকপূর্ণ ফাইনাল পর্ব। ফাইনালে চ্যাম্পিয়ান হয় ঢাকার দারুননাজাত সিদ্দিকিয়া কামিল মাদরাসা। বিপক্ষ দল ছিল দনিয়া বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ। বিতর্কের বিষয় ছিল “তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার পুনর্বহালই আগামী নির্বাচনের একমাত্র পথ”। ১২টি মাদ্রাসা কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় ২০২৫ এর বির্তক উৎসবে অংশ নেন।

চ্যাম্পিয়ান দল দারুননাজাত সিদ্দিকিয়া কামিল মাদরাসার দলনেতা ও বেস্ট স্পীকার রায়হান সাদি রাফি ভোলার সাংবাদিক রফিক সাদীর ছেলে। দলের অন্য সদসরা হলেন আব্দুল্লাহ আল হাসান ও শামসুল আরেফীন ফয়সাল। অপরদিকে রানার্সআপ দনিয়া বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন লামিয়া আকতার, মনসুর আহমেদ ও মোঃ রিফাত।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সমাজকল্যাণ ও মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা শারমীন এস মুরশিদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার মীর আহমদ বিন কাসেম (আরমান), গণঅধিকার পরিষদের মুখপাত্র ফারুক হাসান, নিরাপদ অ্যালায়েন্সের ভাইস চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার তাহমিদুর রহমান, কোটা সংস্কার আন্দোলনের রিটকারক ও সিনিয়র সাংবাদিক মোহাম্মদ আবদুল অদুদ, এবং ইয়ুথ ফোরাম অব বাংলাদেশের সভাপতি ইউসুফ মাহমুদ তৌসিফ ও সাধারণ সম্পাদক মোঃ ইয়াছিন মির্জা।

প্রধান অতিথি শারমীন এস মুরশিদ বলেন, “৭১-এর মুক্তিযুদ্ধের মতো ২৪-এর জুলাই যুদ্ধে তরুণদের সাহসিকতা ও স্পৃহা দেখে আমি আশাবাদী। তাদের শক্তি ব্যবহার করে নতুন দেশ গড়া সম্ভব।” তিনি আরও বলেন, “নতুন বাংলাদেশ গড়তে হবে ভালোবাসা, ঐক্য ও সমতার ভিত্তিতে। নারী ও শিশু নিরাপত্তায় তরুণদের প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।”তিনি জানান, ২৪-এর জুলাই আন্দোলনে ৭০% মেয়েদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ভবিষ্যতে নেতৃত্বে প্রতিফলিত হওয়া উচিত।
বিষয় বস্তুর বিপক্ষে অবস্থান নেয়া চ্যাম্পিয়ন দল দারুননাজাত সিদ্দিকিয়া কামিল মাদরাসা বিতর্কিকরা প্রমাণ করে যে দেশের রাজনৈতিক পুনর্গঠন, সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও গণতান্ত্রিক ভবিষ্যৎ নির্মাণে তরুণদের ভূমিকা অপরিহার্য। দলীয় বা তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বাইরে গিয়ে তরুণদের অংশগ্রহণে একটি নতুন কাঠামোগত নির্বাচন ব্যবস্থার প্রস্তাব তুলে ধরেন তারা। শিক্ষার্থীরা জুলাই সনদের বিভিন্ন ধারা উল্লেখ করে স্বাধীন, শক্তিশালী এবং স্বচ্ছ নির্বাচন কমিশন গঠনের নতুন রূপরেখা উপস্থাপন করেন, যা বিচারক ও উপস্থিত শিক্ষার্থীদের প্রশংসা অর্জন করেন।
