সোমবার, জানুয়ারি ২৬

ডিজিটাল সিকিউরিটির অজুহাতে আর কোনো সাংবাদিককে কারাগারে পাঠানো হবে না

|| শেখ শাহরিয়ার | জেলা প্রতিনিধি (খুলনা) ||

নির্বাচনকালীন সাংবাদিকতা বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মশালায় খুলনার জেলা প্রশাসক আ. স. ম. জামশেদ খোন্দকার বলেছেন, ডিজিটাল সিকিউরিটির অজুহাতে আর কোনো সাংবাদিককে কারাগারে পাঠানো হবে না। একই সঙ্গে তিনি নির্বাচনকালে সাংবাদিকদের পেশাগত নিরপেক্ষতা বজায় রাখা, ভুয়া তথ্য প্রতিরোধ এবং প্রশাসন ও গণমাধ্যমের মধ্যে কার্যকর সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দেন।

রবিবার (১৮ জানুয়ারি) সকাল ১০টায় প্রেস ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশ (পিআইবি) আয়োজিত দুই দিনব্যাপী নির্বাচনকালীন সাংবাদিকতা বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মশালার উদ্বোধনী অধিবেশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

পিআইবির সানোয়ার সাইদ শাহীনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন প্রশিক্ষণের রিসোর্স পারসন দৈনিক আমার দেশ-এর ডেপুটি এডিটর সুলতান মাহমুদ বাদল, সাংবাদিক ও শিক্ষক ইউল্যাবের নাজিয়া আফরিন মনামী, খুলনা প্রেস ক্লাবের আহ্বায়ক এনামুল হক, সদস্য সচিব রফিউল ইসলাম টুটুল, বিএফইউজে’র সহকারী মহাসচিব এহতেশামুল হক শাওন, মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়ন খুলনার সভাপতি মো. রাশিদুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক রানা।

নগরীর সার্কিট হাউজ সম্মেলন কক্ষে খুলনার প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন মিডিয়ার ৫০ জন সাংবাদিক এই কর্মশালায় অংশ নেন। একই সঙ্গে খুলনা প্রেস ক্লাবের হুমায়ুন কবীর বালু মিলনায়তনে পৃথক কর্মশালায় জেলার ৯টি উপজেলার ৪৫ জন সাংবাদিক প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন।

জেলা প্রশাসক বলেন, নির্বাচন পরিচালনায় আমরা ব্যক্তিগত বা পেশাগত ক্ষতির আশঙ্কা থাকলেও নিরপেক্ষ থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েই কাজ করছি। খুলনায় দায়িত্ব নেওয়ার শুরুতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কিছুটা জটিল ছিল, তবে জেলা প্রশাসন ও খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের সমন্বিত উদ্যোগে পরিস্থিতি বর্তমানে অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এসেছে।

তিনি আরও বলেন, নির্বাচনকালীন সময়ে প্রশাসনের ওপর বিভিন্ন দিক থেকে চাপ সৃষ্টি হয়। এমনকি অবৈধ কর্মকাণ্ডে ছাড় দেওয়ার অনুরোধও আসে। তবে নিয়মের বাইরে একটিও কাজ করা হয়নি। পরিবেশগত ছাড়পত্র না থাকায় কোনো ইটভাটার লাইসেন্স নবায়ন করা হচ্ছে না। একইভাবে অবৈধ যানবাহন ও বালু মহল নিয়ন্ত্রণেও প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে।

খুলনার পাঁচটি সংসদীয় আসনের নির্বাচনী পরিবেশকে এখন পর্যন্ত সন্তোষজনক উল্লেখ করে জেলা প্রশাসক বলেন, এখানকার প্রার্থীরা সহযোগিতামূলক আচরণ করছেন। আগামী ২১ জানুয়ারি প্রতীক বরাদ্দের পর নির্বাচনী কার্যক্রম আরও গতি পাবে। ইতোমধ্যে অভিযোগ গ্রহণ কেন্দ্র চালু করা হয়েছে এবং অন্যান্য জেলার তুলনায় খুলনায় অভিযোগের সংখ্যা কম।

সাংবাদিকদের সমাজের দর্পণ হিসেবে আখ্যায়িত করে তিনি বলেন, গণমাধ্যমে অনিয়ম তুলে ধরার কারণেই অনেক ক্ষেত্রে প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা নিতে পারে। তবে নির্বাচনকালীন সময়ে মিস ইনফরমেশন ও ডিসইনফরমেশনকে তিনি বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করেন। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে ভুয়া ছবি, ভিডিও ও তথ্য ছড়ানোর ঝুঁকির কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, বাস্তবতাকে বিকৃত করে উপস্থাপন করা হচ্ছে, যা অত্যন্ত ভয়ের।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *