
|| আন্তর্জাতিক ডেস্ক | আলোকিত দৈনিক ||
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামরিক হামলার হুমকি এবং দুই দেশের মধ্যে চরম উত্তেজনার মধ্যেই নিজেদের আকাশসীমা পুনরায় উন্মুক্ত করে দিয়েছে ইরান। দীর্ঘ প্রায় পাঁচ ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) ভোররাত থেকে ইরানের আকাশসীমায় বেসামরিক বিমান চলাচল স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। এর আগে, যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য হামলা রুখতে এবং নিরাপত্তার খাতিরে তেহরান তাদের ফ্লাইট ইনফরমেশন রিজিয়ন (FIR) বন্ধ করে দিয়েছিল, যার ফলে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশপথে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়। খবর: আল জাজিরার।
সম্প্রতি ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীদের ওপর দমন-পীড়নের ঘটনায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিলেন, যদি বিক্ষোভকারীদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়, তবে যুক্তরাষ্ট্র ‘খুব শক্তিশালী পদক্ষেপ’ নেবে।
পেন্টাগন ইতিমধ্যে ট্রাম্পের কাছে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কেন্দ্রগুলোতে হামলার একটি রূপরেখা জমা দিয়েছে বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে। উত্তেজনার এই প্রেক্ষাপটে মধ্যপ্রাচ্যের বেশ কিছু ঘাঁটি থেকে মার্কিন সেনাদের সরিয়ে নেওয়া এবং ইরান সীমান্তবর্তী অঞ্চলে সামরিক তৎপরতা বৃদ্ধি পাওয়ায় যুদ্ধের আশঙ্কা তীব্রতর হয়।
তবে পরিস্থিতির কিছুটা পরিবর্তন ঘটে যখন ট্রাম্প ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের জানান যে, তিনি ‘খুবই গুরুত্বপূর্ণ সূত্র’ থেকে আশ্বাস পেয়েছেন যে ইরানে বিক্ষোভকারীদের হত্যা ও মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার প্রক্রিয়া আপাতত বন্ধ রয়েছে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচিও জানিয়েছেন যে, বর্তমানে কোনো ফাঁসি কার্যকর করার পরিকল্পনা তাদের নেই। ট্রাম্পের এই সুর নরম করা এবং ইরানের আকাশসীমা খুলে দেওয়াকে বিশ্লেষকরা আপাতত বড় ধরনের সংঘাত এড়ানোর ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন। যদিও তেহরান স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, যেকোনো বিদেশি আগ্রাসন মোকাবিলায় তাদের সামরিক বাহিনী ‘সর্বোচ্চ প্রস্তুতি’ গ্রহণ করে রেখেছে।
