
|| আন্তর্জাতিক ডেস্ক ||
দীর্ঘদিনের পরমাণু বিরোধ নিরসনে জেনেভায় অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় দফা পরোক্ষ আলোচনায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র প্রধান ‘গাইডলাইন’ বা নীতিমালার বিষয়ে একটি প্রাথমিক সমঝোতায় পৌঁছেছে। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি দ) ওমানের মধ্যস্থতায় অনুষ্ঠিত এই বৈঠক শেষে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, কিছু মৌলিক নীতিতে উভয় পক্ষ একমত হতে পারলেও চূড়ান্ত চুক্তির জন্য আরও পথ পাড়ি দেওয়া বাকি।
বৈঠকের পর জেনেভায় এক নিরস্ত্রীকরণ সম্মেলনে আরাগচি বলেন, “একটি টেকসই সমাধানের জন্য সম্ভাবনার নতুন দুয়ার খুলেছে। তবে এর অর্থ এই নয় যে চুক্তি খুব দ্রুত হয়ে যাচ্ছে।” অন্যদিকে, মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে বিদ্যমান মতপার্থক্য ঘোচাতে ইরান বিস্তারিত প্রস্তাবনা পেশ করবে।
এদিন আলোচনার শুরুতেই হরমুজ প্রণালীতে সামরিক মহড়া চালিয়ে কয়েক ঘণ্টার জন্য জ্বালানি সরবরাহের এই গুরুত্বপূর্ণ রুটটি বন্ধ করে দেয় ইরান, যা বিশ্ববাজারে তেলের দামের ওপর প্রভাব ফেলে। তবে বৈঠকের অগ্রগতি নিয়ে ইতিবাচক খবর আসায় অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ১ শতাংশ কমেছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের জানান, তিনি এই আলোচনায় পরোক্ষভাবে যুক্ত ছিলেন এবং তার বিশ্বাস ইরান একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে আগ্রহী। তবে চুক্তিতে না পৌঁছালে ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা ধ্বংস করতে পুনরায় বি-২ বোমারু বিমান ব্যবহারের প্রচ্ছন্ন হুমকিও দিয়ে রেখেছেন তিনি। উল্লেখ্য, গত বছরের জুনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের পরমাণু কেন্দ্রে বিমান হামলা চালিয়েছিল।
বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরান তার ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে কোনো আলোচনার প্রস্তাব নাকচ করে দিলেও, পরমাণু কর্মসূচি সীমিত করার বিনিময়ে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে আসছে।
সূত্র: রয়টার্স
