বুধবার, মার্চ ১৮

ছেলে হারিয়ে অসহায় বৃদ্ধা, পাশে পুত্রবধূ—শেষমেশ সহায়তায় এগিয়ে এলো উপজেলা প্রশাসন

|| জাকারিয়া শেখ | ফুলবাড়ী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি ||

ফুলবাড়ী উপজেলার বড়ভিটা ইউনিয়নের নওদা বশ গ্রামে শয্যাশায়ী এক অসহায় বৃদ্ধা ও তার পুত্রবধূর মানবিক জীবনসংগ্রাম নাড়িয়ে দিয়েছে স্থানীয়দের। প্রায় ২০ বছর ধরে বিছানায় পড়ে আছেন সুফিয়া বেওয়া। সাত বছর আগে একমাত্র ছেলের মৃত্যুতে তার জীবনে নেমে আসে চরম দুঃসহ বাস্তবতা।

বর্তমানে ছেলের স্ত্রী রাবেয়া বেওয়াই তার একমাত্র অবলম্বন। নিজের সীমাহীন কষ্ট উপেক্ষা করে শাশুড়িকে আগলে রেখেই দিন কাটাচ্ছেন তিনি। অন্যের বাড়িতে কাজ করে যা আয় হয়, তা দিয়েই কোনো রকমে চলে তাদের সংসার। দুই-তিন শতাংশ জমির উপর জরাজীর্ণ একটি ঘরে বসবাস তাদের। অনেক সময় খাবার জোটাতেই হিমশিম খেতে হয়, চিকিৎসা তো দূরের কথা।

শুধু তাই নয়, দীর্ঘদিন শয্যাশায়ী থাকার কারণে সুফিয়া বেওয়ার চলাফেরা সম্পূর্ণ বন্ধ। তাকে কোথাও নেওয়া বা রোদ-বাতাসে বসানোর কোনো উপায় নেই। এ অবস্থায় একটি হুইলচেয়ারের জন্য আকুতি জানিয়েছেন পুত্রবধূ রাবেয়া। একটি হুইলচেয়ার পেলে অন্তত তাকে সহজে নড়াচড়া করানো ও কিছুটা স্বস্তি দেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে বলে জানান তিনি।

এ যুগে এমন দায়িত্ববোধ ও মানবিকতার উদাহরণ খুব কমই চোখে পড়ে। নিজের দারিদ্র্যের মধ্যেও শাশুড়ির প্রতি রাবেয়ার এই নিঃস্বার্থ ভালোবাসা সবার কাছে এক অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে।

গতকাল স্থানীয় বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম মাস্টার তাদের এই করুণ অবস্থা দেখে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্ট দেন। পোস্টটি ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি ফুলবাড়ী উপজেলা প্রশাসনের নজরে আসে।

পরবর্তীতে আজ বুধবার সকালে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সহকারী কমিশনার (ভূমি) আনোয়ার হোসাইন সুফিয়া বেওয়ার বাড়িতে গিয়ে খোঁজখবর নেন এবং সরকারি ঈদ উপহার প্রদান করেন। এ সময় তিনি তাদের পাশে থাকার আশ্বাস দেন।

স্থানীয়দের মতে, প্রশাসনের এই মানবিক উদ্যোগ প্রশংসনীয় হলেও, সুফিয়া বেওয়ার চিকিৎসা ও একটি হুইলচেয়ারের ব্যবস্থা করাসহ দীর্ঘমেয়াদি সহায়তা এখন সময়ের দাবি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *