
|| রাজিবুল হাসান | নিজস্ব প্রতিবেদক ||
দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময়ের সাধনা পূর্ণতা পেলো এই মহিমান্বিত মঞ্চে। ৭ এপ্রিল বগুড়ার ঐতিহাসিক পুণ্ড্রনগরে আয়োজিত ‘চ্যানেল আই মিউজিক অ্যাওয়ার্ড ২০২৫’-এর জমকালো অনুষ্ঠানে মঞ্চ মাতালো দেশের জনপ্রিয় মিউজিক্যাল একাপেলা ব্যান্ড ‘কয়্যার বাংলা’ (Choir Bangla)। ২০১১ সালে যাত্রা শুরু করা এই দলটির ১৪ বছরের নিরবচ্ছিন্ন পথচলায় এটিই ছিল সবচেয়ে বড় এবং সম্মানজনক জাতীয় প্ল্যাটফর্মে প্রথম পারফরম্যান্স।
শেকড়ের টানে মাটির গান:
‘কয়্যার বাংলা’ পরিবেশন করে বগুড়ার আঞ্চলিক ভাষার গান; এই গানের মহোনীয়তা এবারের অনুষ্ঠানেক এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে। বগুড়ার কৃতি সন্তান এবং স্বনামধন্য সংগীত পরিচালক ও সংগীতশিল্পী তানভীর আলম সজীব-এর জাদুকরী নেতৃত্বে দলটি এদিন বগুড়ার স্থানীয় আঞ্চলিক ভাষায় গান পরিবেশন করে।

কিংবদন্তিদের প্রশংসা ও আজীবন সম্মাননা:
এবারের আসরটি ছিল আবেগের এক মিলনমেলা। একই মঞ্চে বরেণ্য সংগীতশিল্পী কনকচাঁপা-কে আজীবন সম্মাননা এবং লোকসংগীতের জীবন্ত কিংবদন্তি কাঙালিনী সুফিয়া-কে বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হয়। সে সময় দর্শক সারিতে বসা ছিলেন সংগীতের মহীরুহ রুনা লায়লা, সাবিনা ইয়াসমিনসহ দেশের বরেণ্য সংগীতশিল্পী ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ মহোদয়রা। তাঁদের সামনে পারফর্ম করা এবং অনুষ্ঠান শেষে সরাসরি তাঁদের কাছ থেকে প্রশংসা পাওয়াকে কয়্যার বাংলার সদস্যরা তাঁদের ক্যারিয়ারের ‘শ্রেষ্ঠ প্রাপ্তি’ বলে মনে করেন।
তানভীর আলম সজীবের প্রতিক্রিয়া:
দলের প্রধান ও সংগীতশিল্পী তানভীর আলম সজীব তাঁর প্রতিক্রিয়ায় বলেন, “বগুড়া আমার নিজের মাটি, আমার বাবা-মায়ের শেকড় এখানে। সেই মাটিতে দাঁড়িয়ে চ্যানেল আই-এর মতো বড় মঞ্চে আমাদের কয়্যার বাংলার মাধ্যমে স্থানীয় সংস্কৃতিকে তুলে ধরতে পারাটা আমার জন্য অনেক বড় আবেগের বিষয়। আমাদের ওপর আস্থা রাখার জন্য চ্যানেল আই এবং চ্যানেল নাইন কর্তৃপক্ষকে জানাই বিনম্র কৃতজ্ঞতা।”
সদস্যদের কণ্ঠে সাফল্যের আনন্দ:
পারফরম্যান্স শেষে ব্যাকস্টেজে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কয়্যার বাংলার জ্যেষ্ঠ সদস্যরা বলেন, “২০১১ সাল থেকে আমরা যে স্বপ্ন দেখে আসছি, আজ যেন তা ডানা মেলল। আমাদের ট্যাগলাইন ‘মোরা আকাশের মতো বাধাহীন’—আজ সত্যিই মনে হচ্ছে আমাদের সুরের কোনো সীমানা নেই। কিংবদন্তি মেন্টরদের হাসিমুখ আর প্রশংসা আমাদের আগামী ১৪ বছরের জন্য শক্তি জোগালো।”
গণমাধ্যমের নজর:
পুরো অনুষ্ঠান জুড়ে কয়্যার বাংলার সদস্যদের ঘিরে গণমাধ্যমকর্মীদের উৎসাহ ছিল চোখে পড়ার মতো। ৫ তারিখ থেকে শুরু করে অনুষ্ঠান চলাকালীন সময় পর্যন্ত বিভিন্ন অনলাইন ও ইলেকট্রনিক মিডিয়াকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে দলটির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং সংগীত নিয়ে তাঁদের দর্শনের কথা উঠে আসে।
চ্যানেল আই মিউজিক অ্যাওয়ার্ডসের এই সন্ধ্যাটি কেবল পুরস্কারের ছিল না, এটি ছিল শুদ্ধ সংগীত এবং একতা ও সাধনার জয়ের এক অনন্য দলিল। ‘কয়্যার বাংলা’ প্রমাণ করল, শেকড়কে ধারণ করে আকাশ ছোঁয়া সম্ভব।
