
|| লিটন হোসেন | বদলগাছী (নওগাঁ) প্রতিনিধি ||
২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী রাজনৈতিক অস্থিরতার সুযোগ নিয়ে নওগাঁর মহাদেবপুরে কিছু রাজনৈতিক ব্যক্তির প্রভাব অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে—এমন অভিযোগ তুলেছেন এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীরা। তাদের দাবি, বিএনপির স্থানীয় নেতা শাপলা মৃধা ও তার অনুসারীরা প্রভাব খাটিয়ে এলাকাজুড়ে চাঁদাবাজি, ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডে বাধা সৃষ্টি এবং সম্পত্তি দখলের মতো কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েছেন।
ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের পর থেকেই প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের নাম ভাঙিয়ে লক্ষাধিক টাকা আদায়ের ঘটনা ঘটেছে। একজন ব্যবসায়ী অভিযোগ করেন, তার মালিকানাধীন প্রায় সত্তর হাজার ইট জোরপূর্বক নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
এছাড়া, পূর্ববর্তী সরকারের সময় আওয়ামী লীগ-ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ীদের লক্ষ্য করে রাজনৈতিক প্রতিশোধের ধারাবাহিকতায় এই ধরনের কর্মকাণ্ড চালানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
এলাকাবাসীর একাংশ আরও দাবি করেন, শাপলা মৃধাকে ঘিরে এলাকায় মাদক লেনদেনের প্রভাবও বৃদ্ধি পেয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ বিষয়ে ভিডিও ও নানা অভিযোগ ঘুরে বেড়ালেও এখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হয়নি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মহাদেবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শহিদুল ইসলাম জানান, “শাপলা মৃধার বিরুদ্ধে এ ধরনের কোনো লিখিত অভিযোগ এখনো পাওয়া যায়নি। বিষয়টি আপনার কাছ থেকেই প্রথম শুনলাম। কেউ অভিযোগ দিলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এদিকে বিএনপির স্থানীয় পর্যায়ের কোনো নেতা আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দিতে রাজি না হলেও দলের একটি সূত্র জানায়, অভিযোগ পেলে দলীয়ভাবে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।
অন্যদিকে ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক প্রভাব থাকার কারণে তারা যথাযথ নিরাপত্তা পাচ্ছেন না। তারা নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে একটি স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠনের দাবি জানিয়েছেন।
যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে শাপলা মৃধা অভিযোগের বিষয়ে মন্তব্য করতে অপারগতা প্রকাশ করেন। তবে তিনি সংক্ষেপে জানান, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাকে জড়িয়ে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।
এ বিষয়ে সচেতন মহল বলছেন, অভিযোগের সত্যতা যাচাই, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং ব্যবসায়ীসহ সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
