
|| শেখ শাহরিয়ার | জেলা প্রতিনিধি (খুলনা) ||
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের উত্তাপ এখন খুলনা-৬ (কয়রা-পাইকগাছা) আসনে। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সমীকরণ ভেঙে এবার বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী মুখোমুখি অবস্থানে। আওয়ামী লীগ নির্বাচনী মাঠে না থাকায় দুই দলই আসনটি দখলে নিতে সর্বশক্তি নিয়ে মাঠে নেমেছে।
খুলনা-৬ আসনে মোট পাঁচজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। বিএনপির প্রার্থী এস এম মনিরুল হাসান বাপ্পী, জামায়াতের আবুল কালাম আজাদ, জাতীয় পার্টির মোস্তফা কামাল জাহাঙ্গীর, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. আসাদুল্লাহ ফকির এবং কমিউনিস্ট পার্টির প্রশান্ত কুমার মণ্ডল। স্থানীয় ভোটারদের মতে, মূল লড়াই সীমাবদ্ধ থাকবে বিএনপি ও জামায়াতের দুই প্রার্থীর মধ্যে।
নির্বাচন কমিশনের তথ্যানুযায়ী, খুলনা-৬ আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ২৩ হাজার ৩৩১ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ১২ হাজার ৮৬৯ জন, নারী ভোটার ২ লাখ ১০ হাজার ৪৬১ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন একজন। মোট ১৫৫টি ভোটকেন্দ্রের ৮৫৭টি বুথে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। পুলিশ প্রশাসন ইতোমধ্যে ১২৯টি ভোটকেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে, যা মোট কেন্দ্রের প্রায় ৮৩ শতাংশ।
ভোটারদের প্রধান উদ্বেগের বিষয় হলো নদীভাঙন, দুর্বল বেড়িবাঁধ, সুপেয় পানির অভাব, কর্মসংস্থান ও যোগাযোগ ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা। স্থানীয়রা চান, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি এসব সমস্যা স্থায়ীভাবে সমাধান করবেন।
বিএনপি প্রার্থী মনিরুল হাসান বাপ্পী জানিয়েছেন, তিনি নির্বাচিত হলে নদীভাঙন রোধে টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ, ঘরে ঘরে সুপেয় পানি সরবরাহ, কয়রায় ২৫০ শয্যার হাসপাতাল স্থাপন এবং দুই উপজেলায় বিচারিক আদালত স্থাপন করবেন। তিনি আরও বলেন, বিএনপি সরকার গঠন করলে এলাকার মানুষের প্রতিটি সমস্যা সমাধান অগ্রাধিকার পাবে।
জামায়াতের প্রার্থী আবুল কালাম আজাদ বলেন, তিনি নির্বাচিত হলে নদীভাঙন রোধ, সড়ক উন্নয়ন, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতের সংস্কার এবং এলাকায় কাজের পরিবেশ তৈরির উদ্যোগ নেবেন। তিনি দুর্নীতি নির্মূল এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
ভোটের মাঠে দেখা গেছে, সকালেই এক প্রার্থী জনসংযোগ করছেন, বিকেলে সেখানে অন্য প্রার্থীর প্রচারণা চলে। উঠান বৈঠক, পথসভা, বাজারে গণসংযোগের মাধ্যমে বিএনপি ও জামায়াত দুই প্রার্থীই ভোটারদের কাছে তাদের অবস্থান তুলে ধরছেন। জাতীয় পার্টি, সিপিবি ও ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীরা থাকলেও মূল লড়াই দুই প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বীর মধ্যে সীমাবদ্ধ।
স্থানীয় ভোটাররা শুধু প্রতিশ্রুতি নয়, বাস্তব কার্যক্রম দেখতে চান। এলাকার সড়ক যোগাযোগ, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য সুবিধা, নদীভাঙন ও জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধান, দুর্নীতি ও সেবার স্বচ্ছতা—সবক্ষেত্রেই নিয়মিত নজরদারি ও তৎপর নেতৃত্বের প্রত্যাশা রয়েছে।
ভোটের দিন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে খুলনা-৬ আসনের প্রতিদ্বন্দ্বিতা আরও তীব্র হয়ে উঠছে। উপকূলীয় এই গুরুত্বপূর্ণ আসনে শেষ পর্যন্ত কার হাত ধরে জয় হবে, তা এখন ভোটার ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।
