
|| মোহাম্মদ রাজিবুল হাসান | নিজস্ব প্রতিনিধি ||
গত ৭ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখ উত্তরার একটি বহুতল ভবনের চতুর্থ বা পঞ্চম তলায় এই অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়েছে বলে জানা যায়। তবে গুরুতর হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি। একই ভবনের সপ্তম তলায় থাকেন কথাসাহিত্যিক ও প্রিয়মুখ প্রকাশনীর প্রতিষ্ঠাতা ও পাঠকপ্রিয় লেখক আহমেদ ফারুক। এই বিষয়ে তিনি তাঁর ফেসবুক পেজে একটি আবেগঘন পোস্ট দেন “আগুনে আটকা পড়েছি মরা গেলে সবাই মাফ করে দিয়েন”।
তাঁর পোস্ট থেকে আরও জানা যায়, তিনি অজু সেরে ফজর নামাজের উদ্দেশ্যে বের হবেন, দরজা খুলতেই দেখেন আগুন দাউ দাউ করে জ্বলছে আর ধোঁয়ায় চারদিক অন্ধকার। বুঝতে পারেন হয়তো এ যাত্রায় প্রাণে না-ও বাঁচতে পারেন।
ভোরের এই পোস্ট হয়তো অনেকের চোখে পড়েনি, আবার কারো কারো চোখে পড়েছে। যাদের চোখে পড়েছিলো তারা চিন্তিত হয়ে পড়েন। পরে অবশ্য ফায়ার সার্ভিস এসে লেখক আহমেদ ফারুক ও তাঁর পরিবারের অন্য সদস্যসহ ঐ ভবনের আটকে পড়া সকলকে নিরাপদে উদ্ধার করেন।
সেই লোমহর্ষক ঘটনার বিবরণ দিয়ে আহমেদ ফারুক ফেসবুকে লিখেছেন, “আলহামদুলিল্লাহ আমি দশতলা বাসায় সাত তলায় থাকি। ফজরের নামাজে অজু করে মসজিদে যাব তার আগে দেখি আগুন। আগুন কোথায় লেগেছে তা-ও বুঝতে পারছিলাম না। মেইন দরজা খোলার সঙ্গে সঙ্গে দেখি প্রচণ্ড আগুন এবং ধোঁয়া। সিঁড়ি লিফট কোনো দিক দিয়ে নামার কোনো সুযোগ নেই।’
নিরুপায় হয়ে মৃত্যুর জন্য অপেক্ষা করছিলেন জানিয়ে পাঠক মহলে সুপরিচিত এই কথাসাহিত্যিক লিখেছেন, ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ মুহাম্মদ রাসুলুল্লাহ পড়ছিলাম আর অপেক্ষা করছিলাম মৃত্যুর। আমি দৌড়ে সিঁড়ি দিয়ে নামতে পারতাম প্রথমে, কিন্তু আমি একা বেঁচে থেকে কী করব। পরিবারের সবাইকে মৃত্যুর মুখে ফেলে রেখে যেতে পারি না। অবশেষে ফায়ার ব্রিগেডের টিম এসে আমাদের উদ্ধার করে। আল্লাহ আমাদের সবাইকে হেফাজত করেছেন।”
ঘটনার পর জানা গেছে, বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে এই অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়। তারপর মুহূর্তেই চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। এই ঘটনা এখানে নতুন নয় এর আগেও বিভিন্ন জায়গায় আবাসিক ভবনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। তাই ভবন নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে নতুন ভবন নির্মাণের সময় এসব বিষয়ে আরও সতর্ক থাকতে হবে এবং প্রতিটি ভবনে পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপক সরঞ্জাম নিশ্চিত করতে হবে। কারণ যেকোনো সময় যে কোনো ভবনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটতে পারে। আল্লাহ সবাইকে হেফাজত করুন।
