রবিবার, মার্চ ৮

ইবি শিক্ষিকা হত্যা: পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন

|| মোসাদ্দেক হোসেন | ইবি প্রতিনিধি ||

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি ও সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনাকে নিজ কক্ষে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় পাঁচ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ভুক্ত তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। আজ শনিবার (৭ মার্চ, ২০২৬) বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার দপ্তর থেকে প্রকাশিত এক অফিস আদেশের মাধ্যমে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। কমিটিকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত ও প্রয়োজনীয় রিপোর্ট প্রদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তদন্ত কমিটিতে হিসাববিজ্ঞান ও তথ্য পদ্ধতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমানকে আহ্বায়ক এবং উপ-রেজিস্ট্রার (শিক্ষা) গোলাম মওলাকে সদস্যসচিব করা হয়েছে। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন—বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. রশিদুজ্জামান, ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. ওবায়দুল ইসলাম এবং লালন শাহ হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. গাজী আরিফুজ্জামান খান।

উল্লেখ্য, গত বুধবার (৪ মার্চ) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের থিওলজি অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ অনুষদ ভবনে নিজ অফিস কক্ষে আসমা সাদিয়া রুনাকে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করেন কর্মচারী ফজলুর রহমান। ঘটনার সময় কক্ষটি ভেতর থেকে বন্ধ ছিল।

প্রত্যক্ষদর্শী ও উদ্ধারকাজে অংশ নেওয়া নিরাপত্তা কর্মীরা জানান, ভেতর থেকে চিৎকারের শব্দ শুনে তারা দরজা ভেঙে দেখেন শিক্ষিকা মেঝেতে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছেন। এসময় অভিযুক্ত ফজলুর রহমান নিজেও নিজের গলায় ছুরি চালিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। গুরুতর অবস্থায় তাদের কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক আসমা সাদিয়া রুনাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ক্যাম্পাস সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত ফজলুর রহমান পূর্বে সমাজকল্যাণ বিভাগে কর্মরত ছিলেন। তার বিভিন্ন অনৈতিক ও অসৌজন্যমূলক আচরণের কারণে বিভাগীয় সভাপতি আসমা সাদিয়া রুনা তাকে একাধিকবার সতর্ক করেন। কিন্তু আচরণে পরিবর্তন না আসায় তাকে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে বদলি করা হয়। পুনরায় আগের বিভাগে ফিরে আসার অনুরোধ প্রত্যাখ্যাত হওয়ায় ব্যক্তিগত আক্রোশ থেকেই এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

এই ঘটনায় পুরো বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং সাধারণ শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা দ্রুত বিচার নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *