
|| মোসাদ্দেক হোসেন | ইবি প্রতিনিধি ||
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে স্নাতকোত্তর (২০২৩-২৪) শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের বিদায় এবং স্নাতক (২০২৪-২৫) শিক্ষাবর্ষের নবীন শিক্ষার্থীদের বরণ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) সকাল ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান মিলনায়তনে (টিএসসি) এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বিভাগটি।
রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক মো. ওবাইদুল হকের সভাপতিত্বে এবং সাইফুন্নাহার লাকী ও মো. সিদওয়ানুল হকের যৌথ সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. বেগম রোকসানা মিলি। বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও লোক প্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক ড. রাকিবা ইয়াসমিন। এছাড়া বিভাগের অন্যান্য শিক্ষক, বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
বিশেষ অতিথি অধ্যাপক ড. রাকিবা ইয়াসমিন বলেন, “আমরা জানি জ্ঞান এক জ্যোতিমান শক্তি এবং জ্ঞান চর্চার সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ বিশ্ববিদ্যালয়। তোমরা অত্যন্ত ভাগ্যবান কারণ তোমাদের বিভাগের শিক্ষকদের সব সময় হস্ত প্রসারিত তোমাদের জন্য। এক্সট্রা কারিকুলামেও তাদের অবদান চোখে পড়ার মতো। যার ফলে রাষ্ট্রবিজ্ঞান একটি ওয়েলডিসিপ্লিনড ডিপার্টমেন্ট হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে।
বিদায়ী শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, তোমাদের মধ্যে সাংগঠনিক তৎপরতা রয়েছে তা কাজে লাগিয়ে তোমরা গ্লোবাল চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করো। এজন্য তিনটি জিনিস প্রয়োজন—কমান্ড ওন ইউর ওন সাবজেক্ট, আইসিটি, ইংলিশ প্রোফিসিয়েন্সি। তোমরা এই বুলেট পয়েন্টগুলোতে ফোকাস করে সৎ ও যোগ্য মানুষ হিসেবে নিজেদের গড়ে তোলো।”
প্রধান অতিথি অধ্যাপক ড. বেগম রোকসানা মিলি বলেন, “সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ৭টি বিভাগের মধ্যে অন্যতম একটি বিভাগ হলো রাষ্ট্রবিজ্ঞান। এই অনুষদে অর্থনীতি ও লোক প্রশাসন বিভাগের পরেই রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অবস্থান। এই বিভাগের যে কয়জন শিক্ষক রয়েছেন তাদের একচ্ছত্র ও ঐকান্তিকতায় আজকে তোমরা একটি সেশনজট মুক্ত বিভাগ পেয়েছ। একজন শিক্ষকের দায়িত্ব শ্রেণিতে যথেষ্ট সময় দেওয়া। আমরা আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের সংবিধান অনুযায়ী ক্লাস নিতে পারি না এটা আমাদের ব্যর্থতা। আপনাদের প্রতি অনুরোধ জানাচ্ছি আপনারা শিক্ষার্থীদের বিভাগের শিক্ষাক্রম ত্বরান্বিত করার চেষ্টা করুন।
নবীন-প্রবীণ শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে তিনি আরও বলেন, তোমরা যারা নতুন আছো তোমরা একাডেমিক একটা ভালো রেজাল্ট করার চেষ্টা করো। আমরা শিক্ষার্থী অবস্থায় এইটাই চাইতাম। আর তোমরা যারা স্নাতকোত্তর শেষ করেছ তোমরা ভালো একটা চাকুরি করবে এটাই তোমাদের থেকে প্রত্যাশা করে তোমাদের পরিবার। কারণ এটা তোমাদের উপর বিরাট একটা দায়িত্ব। যারা সন্তোষজনক ফলাফল অর্জন এবং স্নাতকোত্তর সম্পূর্ণ করেছ সবাইকে শুভেচ্ছা জানাচ্ছি। তোমাদের আত্মবিশ্বাস ও প্রতিশ্রুতি শেষ পর্যন্ত ধরে রাখলে একদিন না একদিন তোমাদের মূল লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারবে, সবসময় আল্লাহর ওপর ভরসা রাখতে হবে ও বিশ্বাস দৃঢ় রাখতে হবে।”
