
|| আসাদুল ইসলাম | নিজস্ব প্রতিবেদক | বেলকুচি (সিরাজগঞ্জ) ||
বিগত কয়েক বছরের অস্থিরতা কাটিয়ে দেশে নতুন সরকার শপথ নিতে যাচ্ছে। আর এই নতুন সরকার ঘিরেই এখন বুক বাঁধছেন দেশের ব্যবসায়ী ও শিল্প উদ্যোক্তারা। বিনিয়োগে স্থবিরতা, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, ডলার সংকট আর ব্যাংক ঋণের উচ্চ সুদহারের চাপে পিষ্ট ব্যবসা-বাণিজ্যকে পুনরুজ্জীবিত করতে নবনির্বাচিত সরকারের কাছ থেকে একগুচ্ছ সাহসী সংস্কারের প্রত্যাশা করছেন তারা।
ব্যবসায়ীদের মতে, ২০২৬ সালের নভেম্বরে বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশ (LDC) থেকে উত্তরণের যে চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে, তা মোকাবিলায় এই সরকারের প্রথম ১০০ দিনের পদক্ষেপ হবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ব্যবসায়ী মহলের প্রধান দাবি হলো রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও নীতিমালার ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করা। দেশের শীর্ষ বাণিজ্য সংগঠন এফবিসিসিআই থেকে শুরু করে বিজিএমইএ ও ডিসিসিআই-এর নেতারা মনে করছেন, বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে প্রথমেই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির স্থায়ী উন্নয়ন ও সরবরাহ চেইন সচল করা প্রয়োজন। বিশেষ করে জ্বালানি সংকটের সমাধান ও নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস-বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত না হলে উৎপাদন ব্যয় কমানো অসম্ভব হয়ে পড়বে।
অনেক উদ্যোক্তার মতে, ঘন ঘন নীতি পরিবর্তন ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতা বিনিয়োগের পথে বড় বাধা; তাই ব্যবসা সহজীকরণ (Ease of Doing Business) সূচকে উন্নতির জন্য আমূল সংস্কার এখন সময়ের দাবি।
রাজস্ব প্রশাসনের আধুনিকায়ন নিয়েও রয়েছে বড় প্রত্যাশা।ব্যবসায়ীরা চান হয়রানিমুক্ত কর কাঠামো এবং ভ্যাট ও শুল্ক প্রক্রিয়ার সম্পূর্ণ অটোমেশন। বর্তমান প্রেক্ষাপটে ব্যাংক খাতের প্রতি সাধারণ মানুষের ও ব্যবসায়ীদের আস্থা ফেরানো নতুন সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হবে। খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণ ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবাহ বাড়াতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের শক্তিশালী ও স্বাধীন ভূমিকা দেখতে চান অর্থনীতিবিদ ও ব্যবসায়ী নেতারা।
অন্যদিকে, ২০২৬ সালের এলডিসি গ্র্যাজুয়েশনের পর আন্তর্জাতিক বাজারে শুল্কমুক্ত সুবিধা হারানোর ঝুঁকি মোকাবিলায় নতুন সরকারকে নতুন বাণিজ্য চুক্তি (FTA বা CEPA) নিয়ে এখনই কাজ শুরু করার তাগিদ দিচ্ছেন রপ্তানিকারকরা। বিশেষ করে তৈরি পোশাক খাতের প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে উচ্চমূল্যের পোশাক ও কৃত্রিম তন্তুর (Man-made Fiber) উৎপাদনে বিশেষ প্রণোদনার দাবি উঠছে।নারী উদ্যোক্তাদের জন্য সহজ শর্তে ঋণ ও প্রশিক্ষণ সুবিধা নিশ্চিত করার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হচ্ছে।
সব মিলিয়ে, ব্যবসায়ীরা বলছেন যে একটি অংশগ্রহণমূলক ও দূরদর্শী অর্থনৈতিক পরিকল্পনা নিয়ে নতুন সরকার যাত্রা শুরু করবে। রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে কার্যকর নীতিমালা প্রণয়ন করতে পারলে স্থবির হয়ে পড়া অর্থনীতিতে দ্রুত গতি ফিরবে—এমনটাই প্রত্যাশা করছেন দেশের বিনিয়োগকারী ও সাধারণ মানুষ।
