|| প্রফেসর ড. আ ব ম সাইফুল ইসলাম সিদ্দিকী ||
অনলাইন ক্লাস সম্পর্কে আমরা মোটামুটি বিশেষ ধারণা পাই করোনাকালীন সময়ে। এর আগে এ সম্পর্কে কারো সেরকম পরিচয় ছিল না। আলোচনা পর্যালোচনাও ছিল না।
এ ঘটনার পর থেকে সরকার এ বিষয়ে একটি দিক নিদর্শনা প্রদান করে, সে নির্দেশনা অনুযায়ী বিদ্যালয়গুলোতে অনলাইন ক্লাস শুরু হয়।
বর্তমান সরকার ইরান-ইজরাইল যুদ্ধের কারণে তেল সংকট কিছুটা কাটিয়ে উঠতে বিভিন্ন বিষয়ে কৃচ্ছতা সাধনের পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।
এর মধ্যে একটি হল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ২-৩ দিন অনলাইনে ক্লাস গ্রহণ।
এ নেতিবাচক দিক নিয়ে জনগণের অনেকেই সরব। তবে এবার ইতিবাচকের চাইতে নেতিবাচকের পাল্লা বেশি ভারী।
কারণ, অন্তত অভিভাবকদের এ বিষয়ে যথেষ্ট নলেজ হয়েছে যে, তাদের সন্তানরা অনলাইন ক্লাস করে কতটুকু বিদ্যা অর্জন করেছে?
অনলাইনের নামে প্রতিটি শিক্ষার্থীকে একটি করে অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল হাতে দিতে হয়েছে। এজন্য নুন আনতে পান্তা ফুরায় এমন একটি নিম্নবিত্ত পরিবারকেও কমপক্ষে ১০ হাজার টাকা গুনতে হয়েছে। যা দিয়ে একটি নিম্নবিত্ত পরিবার অনায়াসে দু মাস চলতে পারতো।
সেটা তারা পুষিয়ে নিতে পারত যদি তাদের সন্তান অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল দিয়ে অনলাইনে ক্লাস করে তাদের ক্ষতি পুষিয়ে নিত।
পড়া তো হয়নি, বরং আরো তারা মোবাইলে আসক্ত হয়েছে। মোবাইলে বিভিন্ন পর্নোগ্রাফি, নগ্ন, উলঙ্গ ছবি, গান-বাজনা, সংগীত, সিনেমা, নাটক, সিরিয়াল ইত্যাদিতে তারা নেশাগ্রস্ত হয়ে পড়েছে। কোনভাবেই এদেরকে এ নেশা থেকে ফেরানো যাচ্ছে না।
আরেকটি আশঙ্কা দেখা দিয়েছে, সেটা হল দিন দিন ছেলেদের তুলনায় মেয়েরা ভালো রেজাল্ট করছে। রেজাল্টের দিক থেকে মেয়েদের তুলনায় ছেলেরা আশঙ্কাজনক হারে পিছিয়ে যাচ্ছে।
বাল্যবিবাহ বৃদ্ধি পাচ্ছে, ব্যভিচার অনাচার অবৈধ সম্পর্ক ছড়িয়ে পড়ছে দেদারসে।
আবারো সরকার সেই ক্ষতির দিকে ছাত্রদেরকে ধাবিত করছে। পরিবারকে মোবাইল কিনতে বাধ্য করছে। শিক্ষার্থীদেরকে মোবাইল আসক্তিতে বাধ্য করছে।
বর্তমানে স্কুল কলেজ মাদ্রাসার কোথাও ক্লাসে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির হার বৃদ্ধি করা যাচ্ছে না। আকর্ষণ করা যাচ্ছে না তাদের মনোযোগ। তাহলে অফলাইনে তাদেরকে পাঠের প্রতি তো আরো মনোযোগী করা যাবে না। তাই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অনলাইনে শিক্ষাদান চালু না করে নিম্নের পদ্ধতিগুলো গ্রহণ করা যেতে পারে।
১. ভর্তুকি দিয়ে হলেও সৌর বিদ্যুতের ব্যবহার বৃদ্ধি করা যেতে পারে।
২. পেট্রোল চালিত সেচ মেশিনগুলো সৌর বিদ্যুতের সংযোগ দেওয়া যেতে পারে।
৩. গ্যাসের ব্যবহার বৃদ্ধি করা যেতে পারে।
৪. বাস চলাচল সীমিত করে দেওয়া যেতে পারে।
৫. শিক্ষার্থীদেরকে দিনের আলোতে তাদের পড়া কভার করে নেওয়ার ব্যাপারে পরামর্শ দেওয়া যেতে পারে।
৬. কার্ডের মাধ্যমে সীমিত আকারে তেল বিক্রি করা যেতে পারে
৭. আপাতত সকল অফিসে একদিন করে ছুটি বৃদ্ধি করা যেতে পারে।
৮. ডিজেল চালিত রেলইঞ্জিনগুলো সৌর বিদ্যুতে চালানোর ব্যাপারে পরিকল্পনা গ্রহণ করা যেতে পারে।
৯. সপ্তাহে কমপক্ষে দু’দিন মোটরসাইকেল বন্ধ রাখা যেতে পারে।
১০. ডিজেলের বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করার ব্যাপারে প্রকল্প গ্রহণ করা যেতে পারে।
লেখক: অধ্যাপক ও সাবেক ডিন, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া।
