
|| আন্তর্জাতিক ডেস্ক ||
আজ ৩০ মার্চ, বিশ্বজুড়ে ফিলিস্তিনিরা পালন করছেন ঐতিহাসিক ‘ভূমি দিবস’ বা ‘ইওম আল-আরদ’। আজ থেকে ঠিক ৫০ বছর আগে ১৯৭৬ সালের এই দিনে ইসরায়েলি বাহিনীর হাতে ছয়জন নিরস্ত্র ফিলিস্তিনি নিহত এবং শতাধিক আহত হয়েছিলেন। উত্তর গ্যালিলি অঞ্চলে ফিলিস্তিনিদের প্রায় ২ হাজার হেক্টর জমি ইসরায়েল কর্তৃক অবৈধভাবে বাজেয়াপ্ত করার প্রতিবাদে আয়োজিত বিক্ষোভে সেই রক্তক্ষয়ী ঘটনা ঘটেছিল। সেই থেকে নিজেদের ভূমির অধিকার রক্ষার প্রতীক হিসেবে প্রতি বছর দিনটি পালন করে আসছে ফিলিস্তিনিরা।
আল জাজিরার এক বিশেষ প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ৫০ বছর পার হলেও ইসরায়েলের ভূমি দখলের নীতি আরও আগ্রাসী হয়েছে। বিশেষ করে ২০২৪ এবং ২০২৫ সালে অধিকৃত পশ্চিম তীরে রেকর্ড পরিমাণ বসতি নির্মাণের অনুমোদন দিয়েছে ইসরায়েলি সরকার, যা একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের সম্ভাবনাকে চরম হুমকির মুখে ফেলেছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে ভূমি দিবসের গুরুত্ব আরও বেড়েছে কারণ ইসরায়েল কেবল ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডই নয়, বরং দক্ষিণ লেবাননকেও তাদের মানচিত্রের অন্তর্ভুক্ত করার পাঁয়তারা করছে।
সম্প্রতি ইসরায়েলি অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ দক্ষিণ লেবানন দখলের প্রকাশ্য ঘোষণা দিয়ে জানিয়েছেন, ইসরায়েলের নতুন সীমান্ত লিটানি নদী পর্যন্ত হওয়া উচিত। এর ফলে ইতোমধ্যে লেবাননের প্রায় ১০ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।
অন্যদিকে, গাজায় নিহতের সংখ্যা ৭৫ হাজার ছাড়িয়েছে এবং পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনকারীদের হামলার হার কয়েক গুণ বেড়েছে। এই বৈরী পরিস্থিতির মধ্যেই সোমবার বিশ্বের বিভিন্ন শহরে ফিলিস্তিনিদের প্রতি সংহতি জানিয়ে এবং ইসরায়েলি দখলদারিত্বের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও জলপাই গাছ রোপণের কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।
ফিলিস্তিনিদের দাবি, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ইসরায়েলের এই ‘কার্যত দখলদারিত্ব’ বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে এই অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠা কখনোই সম্ভব নয়।
