সোমবার, জানুয়ারি ২৬

সিরিয়ার আইন আল-আরবে পৌঁছেছে জাতিসংঘের ত্রাণবাহী বহর

|| আন্তর্জাতিক ডেস্ক ||

সিরিয়ার সরকারি বাহিনী ও কুর্দি নেতৃত্বাধীন সিরিয়ান ডেমোক্রেটিক ফোর্সেস-এর (এসডিএফ) মধ্যে চলমান যুদ্ধবিরতির মধ্যেই উত্তর সিরিয়ার কুর্দি অধ্যুষিত শহর আইন আল-আরবে (কোবানি) পৌঁছেছে জাতিসংঘের জীবনরক্ষাকারী ত্রাণের একটি বিশাল বহর। গত রবিবার (২৫ জানুয়ারি) ২৪টি ট্রাকের এই বহরটি খাদ্য, জ্বালানি ও রুটি নিয়ে অবরুদ্ধ শহরটিতে প্রবেশ করে। খবর: আল জাজিরার।

জাতিসংঘের মানবিক বিষয়ক সমন্বয় দপ্তর (ওসিএইচএ) জানিয়েছে, সিরীয় সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করে এই ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। গত কয়েক দিন ধরে বিদ্যুৎ ও পানি সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় শহরটিতে ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় দেখা দিয়েছিল। সিরীয় সেনাবাহিনী জানিয়েছে, ত্রাণ চলাচলের সুবিধার্থে তারা আলেপ্পো ও হাসাকাহ প্রদেশের দুটি করিডোর খুলে দিয়েছে।

তুরস্ক সীমান্ত সংলগ্ন প্রায় ৪ লক্ষ মানুষের বসতি এই আইন আল-আরব শহরটি বর্তমানে সিরীয় সরকারি বাহিনী দিয়ে চারদিক থেকে ঘেরাও হয়ে আছে। এসডিএফ এই পরিস্থিতিকে ‘অবরোধ’ হিসেবে অভিহিত করে আসছিল। মূলত এসডিএফ-কে সিরীয় সেনাবাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত করা নিয়ে বিরোধের জেরে চলতি মাসের শুরুর দিকে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। পরবর্তী সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের চাপে গত সপ্তাহে একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, যার মেয়াদ গত শনিবার আরও ১৫ দিনের জন্য বৃদ্ধি করা হয়েছে।

সিরিয়া সরকারের দাবি, এসডিএফ-এর নিয়ন্ত্রণে থাকা কারাগারগুলো থেকে প্রায় ৭ হাজার আইএসআইএল (আইএস) বন্দিকে ইরাকে স্থানান্তরের জন্য মার্কিন অভিযানকে সহায়তা দিতেই এই সাময়িক যুদ্ধবিরতি বাড়ানো হয়েছে।

তবে ত্রাণ পৌঁছালেও পরিস্থিতির খুব একটা উন্নতি হয়নি। রবিবার রাত থেকেই উভয় পক্ষ একে অপরের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছে। সিরীয় সেনাবাহিনী জানিয়েছে, এসডিএফ তাদের অবস্থানে ড্রোন হামলা চালিয়েছে। অন্যদিকে, এসডিএফ অভিযোগ করেছে যে সরকারি বাহিনীর হামলায় শহরটিতে এক শিশু নিহত হয়েছে।

২০১৫ সালে আইএসের দখল থেকে মুক্ত হওয়া এই আইন আল-আরব শহরটি কুর্দি যোদ্ধাদের কাছে অত্যন্ত প্রতীকী ও গুরুত্বপূর্ণ। তবে ২০২৪ সালে আসাদ সরকারের পতনের পর ক্ষমতায় আসা নতুন সিরীয় সরকার পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছে যে, এসডিএফ-কে অবশ্যই বিলুপ্ত হতে হবে। অন্যদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রও ইঙ্গিত দিয়েছে যে, এসডিএফ-এর সাথে তাদের সামরিক জোটের উদ্দেশ্য প্রায় শেষ হয়ে এসেছে। ফলে ত্রাণ পৌঁছালেও শহরটির ভবিষ্যৎ এবং এই যুদ্ধবিরতির স্থায়িত্ব নিয়ে বড় ধরনের সংশয় রয়ে গেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *