
|| সারোয়ার হোসেন অপু | নওগাঁ জেলা সংবাদদাতা ||
নওগাঁর বদলগাছীতে সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে সার বিক্রির অভিযোগে এক ডিলারকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে সেনাবাহিনী। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টার দিকে উপজেলার জিতেন্দ্রনাথ ট্রেডার্স ও শাওন ট্রেডার্সে এ ঘটনা ঘটে।


স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অতিরিক্ত দামে সার বিক্রির সময় স্থানীয়রা একটি সারভর্তি চার্জার ভ্যান হাতেনাতে আটক করেন। পরে ভ্যানচালককে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি জানান, জিতু-সামসুলের দোকান থেকে প্রতি বস্তা ইউরিয়া ১ হাজার ৩৩০ টাকা, এমওপি ১ হাজার ১০০ টাকা, ডিএপি ১ হাজার ২৫০ টাকা, জিপসাম ৭৮০ টাকা ও মহাজীব ১ হাজার টাকা দরে সার কেনা হয়েছে। এ সময় এসব দামের ভাউচার জব্দ করা হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পরে ডিলার সামসুল হক কৌশলে খুচরা সার ক্রেতা মোরশেদ আলীকে ডেকে আরেকটি ভাউচার দেখান, যেখানে সরকার নির্ধারিত মূল্য লেখা ছিল। তবে সেনা কর্মকর্তা ও স্থানীয়দের জিজ্ঞাসাবাদের মুখে ডিলার সামসুল হক ও ক্রেতা মোরশেদ আলী স্বীকার করেন, তাঁরা উচ্চ মূল্যে সার কেনাবেচার একটি সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত।
জিজ্ঞাসাবাদে ডিলার সামসুল হক ভবিষ্যতে আর বেশি দামে সার বিক্রি করবেন না মর্মে মৌখিকভাবে অঙ্গীকার করেন এবং তিনি ভুল স্বীকার করে ক্ষমাও চান।
অপরদিকে, ক্রেতা মোরশেদ আলী স্বীকার করেন, তিনি এসব সার আরও বেশি দামে বিক্রির উদ্দেশ্যে নিয়ে যাচ্ছিলেন।
চার্জার ভ্যানচালক বছির উদ্দীন বলেন, ‘আমি কিছুই জানি না। পেটের দায়ে ভাড়ায় ভ্যান চালাই।’ তবে স্থানীয়দের জিজ্ঞাসাবাদে তিনি জানান, ইউরিয়ার বস্তা ১ হাজার ২৫০ টাকা দরে কেনা হয়েছে।
স্থানীয় কৃষকেরা অভিযোগ করেন, একটি অসাধু ব্যবসায়ী চক্র সিন্ডিকেটের মাধ্যমে সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি মুনাফা আদায় করছে। এতে কৃষকেরা চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। তাঁরা এ বিষয়ে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত স্থানীয় সাংবাদিক শহীদুল ইসলাম বলেন, কৃষকদের হইচই শুনে গিয়ে দেখি প্রায় ২০ বস্তা ইউরিয়া, এমওপি ও ডিএপিসহ একটি চার্জার ভ্যান স্থানীয়রা আটক করে রেখেছেন। তাঁরা জানান, এসব সার বাজারে আরও চড়া দামে বিক্রির উদ্দেশ্যে নেওয়া হচ্ছিল।
এবিষয়ে আইনগত সহায়তার জন্য বদলগাছী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) পলাশ উদ্দিনকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি বলে অভিযোগ করেন স্থানীয়রা। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে বিষয়টি জানানো হলে তিনি নওগাঁতে বৈঠকে থাকার কথা জানিয়ে কৃষি কর্মকর্তাকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলেছেন। তবে তাৎক্ষণিকভাবে প্রশাসনের কোনো সহায়তা না পাওয়ায় স্থানীয়রা সারভর্তি ভ্যানটি সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করেন।
পরে সেনা কর্মকর্তা নেজামুদ্দিন প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ডিলার সামসুল হক ও ক্রেতা মোরশেদ আলীকে কঠোরভাবে সতর্ক করে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের উদাসীনতায় এসব অবৈধ সিন্ডিকেট বারবার একই অপরাধ করেও পার পেয়ে যাচ্ছে। তাঁরা অসহায় কৃষকদের স্বার্থ রক্ষায় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
