রবিবার, এপ্রিল ৫

শিবালয়ের যমুনায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের দ্বন্দ্বে গুলিতে নিহত ১, আহত ১

|| সেলিম মোল্লা | নিজস্ব প্রতিনিধি (মানিকগঞ্জ) ||

মানিকগঞ্জের শিবালয়ের আলোকদিয়ার চরে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ঘটনার দ্বন্দ্বে কাটারের ম্যানেজার মিরাজ হোসেন(৫০) নামের এক ব্যাক্তি নিহত এবং জাহাঙ্গীর নামের ১জন আহত হয়েছে। শুক্রবার (০৩ এপ্রিল) সন্ধ্যায় অতর্কিতভাবে ৪/৫জনের দুবর্ত্তরা বালু উত্তোলেনের কাটারে উঠে গুলি করে পালিয়ে যায় বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

এসময় গুলিবিদ্ধ অবস্থায় কাটারের ম্যানেজার মিরাজ এবং শ্রমিক জাহাঙ্গীরকে তাৎক্ষণিক মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত ডাক্তার মিরাজকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

মিরাজের বাড়ি পাবনা সদর উপজেলায়। মিরাজ অবৈধ ওই বালু উত্তোলনের হিসাব-নিকাশ রাখতেন এবং ঘটনার সময় সে বালু উত্তোলনের কাটারে বসে হিসাব করছিলেন।

নাম না প্রকাশ করার শর্তে স্থানীয়রা জানিয়েছেন, শুক্রবার আনুমানিক সন্ধ্যা ৬টার দিকে অস্ত্রধারী দুর্বৃতরা কাটারে উঠে মিরাজকে গুলি করে পালিয়ে যায়। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে তাৎক্ষণিক হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

জানা গেছে, ২০২৫-২০২৬ অর্থ বছরে শিবালয় উপজেলার তেওতায় বালুমহাল হিসেবে সরকার ইজারা দেয়। কিন্তু ইজারদারের লোকজন স্থানীয় প্রভাবশালীদের সহায়তায় ইজারাকৃত জায়গার বাইরে আলোকদিয়াচর এলাকায় গিয়ে তারা দীর্ঘ দিন ধরে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে বিক্রি করছিল। এখান থেকে প্রতিদিন লাখ-লাখ ঘণফুট বালু উত্তোলন মাধ্যমে বিক্রি করে হাতিয়ে নিচ্ছে কোটি কোটি টাকা। এ অবৈধ বালু উত্তোলনের টাকার ভাগাভাগি নিয়েই হয়ত এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে বলে স্থানীয়রা ধারণা করছেন।

এব্যাপারে শিবালয় থানার ওসি মো. মানির হোসেন বলেন, আলোকদিয়া এলাকায় বালু উত্তোলন নিয়ে ব্যবসায়ীক দ্বন্দ্বে ৪/৫জন লোক এসে কাটারে উঠে অতর্কিতভাবে গুলি চালায়। এসময় কাটারের ম্যানেজার মিরাজ গুলিবিদ্ধ হলে তাকে মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতালে নিলে সে মারা যায়। জাহাঙ্গীর নামের এক ব্যাক্তি পায়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুত্বর আহত হয়। আমরা ঘটনাস্থলে এসেছি। পরবর্তিতে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *