সোমবার, ফেব্রুয়ারি ১৬

শান্তিপূর্ণ রাষ্ট্র বিনির্মাণে ইসলামের শিক্ষা

ইসলাম কেবল একটি ধর্ম নয়, বরং এটি একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনবিধান, যা মানবজীবনের প্রতিটি স্তরে শান্তি ও শৃঙ্খলার শিক্ষা দেয়। একটি শান্তিপূর্ণ রাষ্ট্র বিনির্মাণে ইসলামের মূলনীতিগুলো সর্বজনীন এবং কালজয়ী। মহান আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনে ঘোষণা করেছেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ ন্যায়পরায়ণতা, সদাচরণ এবং নিকটাত্মীয়দের দান করার নির্দেশ দেন’ (সূরা নাহল: ৯০)।

এই আয়াতের মধ্যেই একটি আদর্শ রাষ্ট্রের মৌলিক ভিত্তি নিহিত। ইসলাম এমন একটি সমাজ ও রাষ্ট্র ব্যবস্থার কথা বলে যেখানে জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে প্রতিটি মানুষ তাদের জান-মাল ও ইজ্জতের নিরাপত্তা পাবে। শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রধান শর্ত হলো ন্যায়বিচার। মদিনা সনদের মাধ্যমে প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) যে রাষ্ট্র ব্যবস্থার সূচনা করেছিলেন, তা ছিল অসাম্প্রদায়িক ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের এক অনন্য দলিল। সেখানে সংখ্যাগুরু ও সংখ্যালঘু সবার অধিকার ছিল সুনিশ্চিত।

একটি রাষ্ট্র তখনই শান্তিপূর্ণ হয়ে ওঠে যখন শাসক ও শাসিতের মধ্যে আমানতদারি ও জবাবদিহিতা থাকে। ইসলামে নেতৃত্বকে ভোগবিলাসের বস্তু হিসেবে নয়, বরং একটি পবিত্র আমানত হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। হযরত ওমর (রা.)-এর শাসনামল তার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত, যেখানে একজন সাধারণ নাগরিকও রাষ্ট্রপ্রধানকে প্রশ্ন করার অধিকার রাখতেন।

সামাজিক সাম্য ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ছাড়া শান্তি প্রতিষ্ঠা অসম্ভব। তাই ইসলাম জাকাত ও সদকার মাধ্যমে সম্পদের সুষম বণ্টন নিশ্চিত করার তাগিদ দিয়েছে, যাতে সমাজে ধনী-দরিদ্রের বৈষম্য কমে আসে এবং কেউ অনাহারে না থাকে। হিংসা, বিদ্বেষ, সন্ত্রাসবাদ ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকে ইসলাম কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করেছে। বিদায় হজের ভাষণে রাসূলুল্লাহ (সা.) দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে ঘোষণা করেছিলেন, মানুষের রক্ত, সম্পদ ও সম্মান একে অপরের জন্য পবিত্র।

শান্তিপূর্ণ রাষ্ট্র গঠনের জন্য পারস্পরিক সহমর্মিতা ও পরমতসহিষ্ণুতা অপরিহার্য। ইসলাম শিখিয়েছে যে, অন্যায়ভাবে একজন মানুষকে হত্যা করা মানে সমগ্র মানবজাতিকে হত্যা করা। আজকের অশান্ত পৃথিবীতে যদি আমরা ইসলামের সেই উদার ও শান্তিকামী আদর্শকে ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে প্রতিফলিত করতে পারি, তবেই একটি সমৃদ্ধ ও সংঘাতমুক্ত পৃথিবী গড়ে তোলা সম্ভব।

দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন, সুবিচার এবং মানবতার প্রতি ভালোবাসা—এই তিনের সমন্বয়েই ইসলামি শিক্ষার আলোকে একটি প্রকৃত শান্তিপূর্ণ রাষ্ট্র বিনির্মাণ সম্ভব। আল্লাহ আমাদের সেই তৌফিক দান করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *