
|| আরিফুল ইসলাম | নিজস্ব প্রতিনিধি (ঢাকা) ||
সরকারি মাদ্রাসা ই আলিয়া ঢাকায় ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য প্রার্থী শহীদ শরিফ ওসমান হাদির স্মরণে গ্ৰাফিতি অংকন করা হয়েছে। শনিবার (১০ জানুয়ারি) ঢাকা আলিয়ার দেয়ালে এ গ্ৰাফিতি অংকন করা হয়। সেখানে লেখা হয়েছে, দাসত্ব যে জমিনের নিশ্চল নিয়তি, লড়াই-ই সেখানে সর্বোত্তম ইবাদত।
শহীদ ওসমান হাদির হত্যার সুষ্ঠু বিচারের দাবিতে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষোভ করছে সাধারণ মানুষ। এছাড়াও বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের দেয়ালে দেয়ালে শহীদ ওসমান হাদির স্মরণে গ্ৰাফিতি অংকন করছেন শিক্ষার্থীরা। এরই ধারাবাহিকতায় আমার দেশ পাঠকমেলা ঢাকা আলিয়ার উদ্যোগে শিক্ষার্থীরা গ্ৰাফিতি অংকন করেছেন।
আমার দেশ পাঠকমেলা ঢাকা আলিয়ার সভাপতি, এম সাব্বির আহমেদ বলেন, শহীদ ওসমান হাদি ছিলেন একজন জীবন্ত কিংবদন্তি, যিনি দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় নিজের জীবন উৎসর্গ করেছেন। তার ন্যায় ও ইনসাফের প্রতি অটল বিশ্বাস, আধিপত্যবাদ বিরোধী সংগ্রাম, দেশপ্রেম ও সততার আদর্শ আমাদেরকে অনুপ্রাণিত করে। তিনি ছিলেন একজন প্রকৃত দেশপ্রেমিক, যিনি দেশের জন্য সবকিছু উজাড় করে দিয়েছেন। তার হত্যা একটি নৃশংস ও বর্বরোচিত ঘটনা, যা আমরা কখনো ভুলব না। আমরা এই হত্যার বিচার দাবি করছি এবং ওসমান হাদির আদর্শকে ধারণ করে সামনে এগিয়ে যেতে চাই।
তিনি আরও বলেন, ওসমান হাদির হত্যার বিচার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে হবে বলে আমরা আশা করছি। আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুলও এই হত্যার বিচারের জন্য দ্রুত ট্রাইব্যুনাল গঠনের কথা বলেছেন। আমরা এই বিচার প্রক্রিয়াকে সমর্থন করছি এবং ওসমান হাদির খুনিদের শাস্তি দেখতে চাই’।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের তফসিল ঘোষণার পরদিন গত ১২ ডিসেম্বর দুপুরে ঢাকার পুরানা পল্টনের বক্স কালভার্ট রোডে ওসমান হাদি মাথায় গুলিবিদ্ধ হন।
ঢাকা-৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ওসমান হাদিকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। উন্নত চিকিৎসার জন্য সরকারের উদ্যোগে সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয়। তবে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর রাত পৌনে ১০টার দিকে তিনি ইন্তেকাল করেন। গত ২০ ডিসেম্বর জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তার জানাজা শেষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের কবরের পাশে দাফন করা হয়।
