রবিবার, ফেব্রুয়ারি ৮

রাজশাহী কারাগারে পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিলেন ২০৪ জন বন্দী; নিবন্ধন করেছিলেন ২৭৩ জন

|| অপু দাস | জেলা প্রতিনিধি (রাজশাহী) ||

রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে থাকা বন্দীদের মধ্যে ২০৪ জন পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দিয়েছেন। কারাগারে হাজতি ও কয়েদি মিলিয়ে মোট বন্দীর সংখ্যা প্রায় ২ হাজার ৬০০ হলেও ভোট দেওয়ার জন্য নাম নিবন্ধন করেছিলেন মাত্র ২৭৩ জন। কারাগার কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, নিবন্ধনকারীদের মধ্যেও সবাই ভোট দেওয়ার সুযোগ পাননি।

কারা কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে বর্তমানে থাকা বন্দীদের মধ্যে প্রায় অর্ধেক সাজাপ্রাপ্ত কয়েদি এবং বাকি অর্ধেক বিচারাধীন হাজতি। দীর্ঘদিন ধরে কারাগারে থাকা অনেক বন্দী ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করতে পারেননি। ফলে ভোট দেওয়ার আগ্রহ থাকলেও তারা নিবন্ধনের আওতায় আসতে পারেননি।

নিবন্ধনে অনীহা, জামিনে মুক্তির শঙ্কা

কারা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কারাগারে ভোট দেওয়ার জন্য নাম নিবন্ধন করলে পরবর্তীতে জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর বাইরে গিয়ে ভোট দেওয়া যাবে না—এমন ধারণা বা জটিলতার আশঙ্কায় অনেক হাজতি ও কয়েদি নিবন্ধন করেননি। এছাড়া দীর্ঘদিন কারাগারে থাকলেও ভোটার হওয়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়ায় অনেক বন্দী ভোটাধিকার থেকে কার্যত বঞ্চিত হয়েছেন।

২০৪ জনের ব্যালট যাচাই করে পাঠানো হয়েছে

কারাগার সূত্র জানায়, নাম নিবন্ধন করা ২৭৩ জনের মধ্যে ২০৪ জনের ব্যালট যাচাই-বাছাই শেষে চূড়ান্ত করা হয়েছে এবং পরে তাদের ব্যালট ভোটের কাগজপত্র পোস্ট অফিসে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।
তবে নিবন্ধনের পর ৩২ জন বন্দী জামিনে মুক্তি পাওয়ায় তারা আর কারাগারে থেকে ভোট দিতে পারেননি।

সাবেক দুই এমপি কারাগারে, ভোটে অংশ নেননি

এদিকে রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে বর্তমানে রাজশাহী-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আসাদুজ্জামান আসাদ এবং রাজশাহী-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এনামুল হক বন্দী রয়েছেন। তবে তারা ভোট দেওয়ার জন্য নাম নিবন্ধন না করায় পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেননি।

জেল সুপার যা বললেন

রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার মো. শাহ আলম খান বলেন, “কারাগারে যেসব বন্দী ভোট দিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন, তাদের জন্য নাম নিবন্ধনের সুযোগ রাখা হয়েছিল। যারা চাননি, তাদের বাধ্য করা হয়নি। যারা ভোট দিয়েছেন তাদের ব্যালট পোস্ট অফিসে পাঠানো হয়েছে।”

কারা কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে, নিয়ম অনুযায়ী বন্দীদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে। আগ্রহী বন্দীদের ক্ষেত্রে ভবিষ্যতেও নাম নিবন্ধন ও ভোট প্রদানের সুযোগ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *