
|| অপু দাস | জেলা প্রতিনিধি (রাজশাহী) ||
রাজশাহী জেলায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নির্বাচনী কার্যক্রম নতুন গতি পেয়েছে। জেলার ছয়টি সংসদীয় আসনে অংশ নেওয়া মোট ২৯ জন প্রার্থীর মধ্যে প্রতীক বরাদ্দের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ায় এখন আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী প্রচারণার পথ খুলে গেছে। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী বৃহস্পতিবার (আগামীকাল) থেকে প্রার্থীরা প্রকাশ্যে প্রচার কার্যক্রম শুরু করতে পারবেন বলে জানিয়েছে নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
বুধবার (২১ জানুয়ারি) সকাল ১০টায় রাজশাহী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে প্রতীক বরাদ্দ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়। জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক আফিয়া আখতারের তত্ত্বাবধানে আয়োজিত এই কার্যক্রমে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তারা, নির্বাচন কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। প্রার্থী ও তাদের প্রতিনিধিদের সরাসরি উপস্থিতিতে পুরো আয়োজন শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল পরিবেশে সম্পন্ন হয়।
প্রতীক বরাদ্দের আগে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে প্রার্থীদের উদ্দেশে নির্বাচনী আচরণবিধির বিভিন্ন দিক বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়। এ সময় প্রচারণায় পোস্টার, ব্যানার ও ফেস্টুন ব্যবহারের সীমাবদ্ধতা, দেয়াল লিখন নিষিদ্ধকরণ, মিটিং-মিছিল ও জনসভা আয়োজনের অনুমতি সংক্রান্ত নিয়ম, মাইক ও শব্দযন্ত্র ব্যবহারের সময়সীমা এবং আচরণবিধি লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে আইনগত ব্যবস্থার বিষয়গুলো স্পষ্টভাবে জানানো হয়। প্রার্থীরা এসব বিষয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তার সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং আচরণবিধি মেনে চলার প্রতিশ্রুতি দেন।
সব প্রস্তুতি শেষ হওয়ার পর বেলা সাড়ে ১১টার দিকে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতীক বরাদ্দের কার্যক্রম শুরু হয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই রাজশাহী জেলার ছয়টি সংসদীয় আসনের সব প্রার্থীর মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ সম্পন্ন করা হয়।
নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, ছয়টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকা মোট ২৬ জন রাজনৈতিক দলের প্রার্থী নিজ নিজ দলের নির্ধারিত প্রতীক পেয়েছেন। পাশাপাশি দুটি আসনে তিনজন স্বতন্ত্র প্রার্থী নির্বাচন কমিশনের তালিকা অনুযায়ী তাদের পছন্দের প্রতীক গ্রহণ করেন।
রাজশাহী সদর-২ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেওয়া তরুণ প্রার্থী সালেহ আহমেদ ‘মোটরসাইকেল’ প্রতীক বরাদ্দ পান। রাজশাহী-৫ (পুঠিয়া–দুর্গাপুর) আসনে পুঠিয়া উপজেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি ও বিএনপি থেকে বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী ইসফা খায়রুল হক ‘ঘোড়া’ প্রতীক লাভ করেন। একই আসনে যুক্তরাজ্য জিয়া পরিষদের সহ-সভাপতি ও বিএনপি বিরোধী স্বতন্ত্র প্রার্থী রেজাউল করিম বরাদ্দ পান ‘ফুটবল’ প্রতীক।
প্রতীক বরাদ্দের পুরো প্রক্রিয়া শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হলেও কয়েকটি সংসদীয় আসনে বিষয়টি নিয়ে আপত্তি ও প্রতিবাদের ঘটনা ঘটে। রাজশাহী-৪ (বাগমারা), রাজশাহী-৬ (চারঘাট–বাঘা) এবং রাজশাহী-৩ (পবা–মোহনপুর) আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থীদের নির্বাচনে অংশগ্রহণ ও প্রতীক বরাদ্দের বিরোধিতা করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়কারীরা প্রতিবাদ জানান।
এই ঘটনার পর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক এবং জেলা এনসিপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক নাহিদুল ইসলাম সাজু জেলা প্রশাসকের কাছে একটি স্মারকলিপি প্রদান করেন। স্মারকলিপিতে তিনি জাতীয় পার্টির নির্বাচনী অংশগ্রহণের বিরুদ্ধে আপত্তি তুলে ধরেন এবং বিষয়টি পুনর্বিবেচনার দাবি জানান। দাবি মানা না হলে কর্মসূচি জোরদারের হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়।
প্রতীক বরাদ্দ শেষে প্রার্থীরা সাংবাদিকদের বলেন, তারা নির্বাচন কমিশনের সব নির্দেশনা ও আচরণবিধি কঠোরভাবে অনুসরণ করবেন। কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না করে শান্তিপূর্ণভাবে ভোটারদের কাছে নিজেদের নির্বাচনী বার্তা পৌঁছে দেবেন। নির্বাচিত হলে এলাকার উন্নয়ন, জনগণের কল্যাণ এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ রক্ষায় কাজ করার অঙ্গীকারও করেন তারা।
নির্বাচন সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, প্রতীক বরাদ্দ সম্পন্ন হওয়ার মধ্য দিয়ে রাজশাহীতে নির্বাচনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ শেষ হলো। এখন থেকে প্রচারণা, জনসংযোগ ও নির্বাচনী কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে জেলার রাজনৈতিক অঙ্গনে বাড়বে ব্যস্ততা ও প্রাণচাঞ্চল্য। এই নির্বাচনের মাধ্যমে রাজশাহীর ভোটাররা তাদের পছন্দের জনপ্রতিনিধি নির্বাচনের সুযোগ পাবেন, যা স্থানীয় উন্নয়ন ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে আরও শক্তিশালী করবে।
