সোমবার, ফেব্রুয়ারি ১৬

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পরমাণু আলোচনার আগে আইএইএ প্রধানের সঙ্গে আরাঘচির বৈঠক

|| আন্তর্জাতিক ডেস্ক ||

আগামীকাল মঙ্গলবার সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও উচ্চপর্যায়ের পরমাণু আলোচনায় বসতে যাচ্ছে ইরান। এই আলোচনার প্রাক্কালে আজ সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) প্রধান রাফায়েল গ্রোসির সঙ্গে বৈঠক করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি।

মধ্যপ্রাচ্যে সম্ভাব্য আঞ্চলিক যুদ্ধ এড়াতে এবং পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে কয়েক দশকের পুরনো বিরোধ নিরসনের লক্ষ্যে আয়োজিত এই দ্বিতীয় দফার বৈঠককে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

সোমবার জেনেভায় পৌঁছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বার্তায় আরাঘচি বলেন, একটি ন্যায়সংগত ও সমমর্যাদার চুক্তিতে পৌঁছাতে ইরান কিছু সুনির্দিষ্ট ও বাস্তবসম্মত প্রস্তাব নিয়ে এসেছে, তবে কোনো ধরনের হুমকির মুখে নতি স্বীকার করা হবে না।

এবারের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে গত জুন মাসে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত ইরানের প্রধান পরমাণু স্থাপনাগুলো পরিদর্শনের বিষয়টি। জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা দীর্ঘদিন ধরেই এসব ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনায় প্রবেশের অনুমতি চেয়ে আসছে। তবে তেহরান বলছে, ধ্বংসস্তূপের নিচে থাকা উচ্চ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের কারণে সেখানে তেজস্ক্রিয়তার ঝুঁকি থাকতে পারে, তাই পরিদর্শনের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট প্রটোকল প্রয়োজন।

এ বিষয়ে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার এই মধ্যস্থতায় আইএইএ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। তবে একই সঙ্গে এনপিটি বা পরমাণু অপ্রসারণ চুক্তির আওতায় থাকা এসব স্থাপনায় সামরিক হামলার নিন্দা জানাতে গ্রোসির অস্বীকৃতির সমালোচনাও করেছে তেহরান।

এদিকে জেনেভা আলোচনার সমান্তরালে যুক্তরাষ্ট্র ওই অঞ্চলে তাদের সামরিক উপস্থিতি আরও জোরদার করেছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইতোমধ্যে দ্বিতীয় একটি বিমানবাহী রণতরী সেখানে মোতায়েন করেছেন। মার্কিন প্রতিনিধি দলে ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং জামাতা জ্যারেড কুশনারের থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। ইরানের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, তারা তাদের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি এবং ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধের মতো ওয়াশিংটনের কোনো শর্ত মেনে নেবে না।

অন্যদিকে, ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে কট্টরপন্থীরা আইএইএ-কে অতিরিক্ত সুবিধা দেওয়ার বিষয়ে সরকারকে সতর্ক করে দিয়েছে। সব মিলিয়ে এই আলোচনার ফলাফল মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ স্থিতিশীলতা ও বিশ্ব রাজনীতির মোড় পরিবর্তনে বড় ভূমিকা রাখতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *