শনিবার, ফেব্রুয়ারি ১৪

ভালোবাসার দিনে সুন্দরবনের প্রতি দায়বদ্ধতার আহ্বান

|| শেখ শাহরিয়ার | জেলা প্রতিনিধি (খুলনা) ||

আজ ১৪ ফেব্রুয়ারি। সারা বিশ্বে দিনটি ভালোবাসা দিবস হিসেবে পরিচিত হলেও দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলের মানুষের কাছে দিনটি ‘সুন্দরবন দিবস’। বিশ্বের সর্ববৃহৎ ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনকে ঘিরে সচেতনতা সৃষ্টি ও সংরক্ষণের দাবি জোরদার করতেই এ দিবস পালন করা হয়।

উপকূলীয় খুলনাসহ বিভিন্ন জেলায় দিবসটি উপলক্ষে আলোচনা সভা, মানববন্ধন, র‌্যালি ও পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। পরিবেশকর্মীরা বলছেন, সুন্দরবন শুধু একটি বনভূমি নয়, এটি উপকূলীয় মানুষের জীবনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত একটি প্রাকৃতিক ঢাল। ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের মতো দুর্যোগে এই বনই প্রথম প্রতিরোধ গড়ে তোলে।

বাংলাদেশ অংশে সুন্দরবনের আয়তন প্রায় ৬ হাজার ১৭ বর্গকিলোমিটার। বন বিভাগের তথ্যমতে, এখানে ৫ শতাধিক উদ্ভিদ প্রজাতি ও পাঁচ শতাধিক বন্য প্রাণীর বসবাস। বিশ্বের বিরল প্রজাতির প্রাণী রয়েল বেঙ্গল টাইগার-এর অন্যতম প্রধান আবাসস্থলও এই বন।

জীববৈচিত্র্যের গুরুত্ব বিবেচনায় ১৯৯২ সালে সুন্দরবনকে রামসার সাইট হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। পরে ১৯৯৭ সালের ৬ ডিসেম্বর ইউনেস্কো একে বিশ্ব ঐতিহ্য হিসেবে ঘোষণা করে। এই স্বীকৃতি দেশের জন্য যেমন গর্বের, তেমনি দায়িত্বও বাড়িয়েছে।

তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে লবণাক্ততা বৃদ্ধি, অবৈধভাবে গাছ কাটা, বন্য প্রাণী শিকার এবং প্লাস্টিক দূষণ সুন্দরবনের জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠছে। উপকূলীয় নদীতে বিষ দিয়ে মাছ ধরার প্রবণতাও বনজ সম্পদ ও প্রাণীকুলের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।

২০০১ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি খুলনায় আয়োজিত প্রথম জাতীয় সুন্দরবন সম্মেলনে দিনটিকে ‘সুন্দরবন দিবস’ হিসেবে ঘোষণার সিদ্ধান্ত হয়। সেই থেকে প্রতিবছর দিবসটি পালিত হচ্ছে। আয়োজকরা বলছেন, সামাজিক আন্দোলন জোরদার না হলে বিশ্ব ঐতিহ্য এই বন রক্ষা করা কঠিন হবে।

পরিবেশবিদদের মতে, আইন প্রয়োগের পাশাপাশি স্থানীয় জনগোষ্ঠীর বিকল্প জীবিকা, প্লাস্টিকমুক্ত উদ্যোগ এবং সচেতনতা বাড়ানোই পারে সুন্দরবনকে টিকিয়ে রাখতে। প্রকৃতি বাঁচলে উপকূল বাঁচবে, আর উপকূল বাঁচলে নিরাপদ থাকবে দেশের একটি বড় অংশ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *