
|| আছিবুল ইসলাম | বানারীপাড়া (বরিশাল) প্রতিনিধি ||
বরিশালের বানারীপাড়ায় চার দশকের রাজনৈতিক সম্পর্ক চুকিয়ে বিএনপি থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দিয়েছেন জেলা দক্ষিণ বিএনপির প্রভাবশালী নেতা মো. গোলাম মাহমুদ (মাহবুব মাস্টার)। শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) বিকেলে শতাধিক নেতাকর্মীসহ তিনি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আদর্শে একাত্মতা ঘোষণা করেন। মাহবুব মাস্টার উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি এবং জেলা দক্ষিণ বিএনপির সদস্য হিসেবে দীর্ঘকাল দায়িত্ব পালন করেছেন।
দলবদল করার আগে গত বুধবার ফেসবুকে এক ইঙ্গিতপূর্ণ পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, “ধানক্ষেতে এখন ধানের চেয়ে আগাছা বেশি জন্মেছে।” এই বক্তব্যের রেশ ধরে বৃহস্পতিবার তিনি জেলা দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন। পদত্যাগের কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, দীর্ঘ ৪০ বছর হামলা-মামলা ও জেল খেটে দলের পাশে থাকলেও বর্তমানে তিনি নিজ দলেই লাঞ্ছিত ও বঞ্চিত। তাঁর অভিযোগ, কতিপয় ‘দালাল’ আর নেতাদের ‘ভয়ংকর ইগো’র কারণে দলে এখন ত্যাগী নেতাদের কোনো মূল্যায়ন নেই।
গতকাল শুক্রবার বিকেলে বাইশারী ইউনিয়নের নুরানী মাদ্রাসা মাঠে বরিশাল-২ আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী মাস্টার আব্দুল মান্নানের গড়এক নির্বাচনী বৈঠকে এই যোগদান অনুষ্ঠিত হয়। এসময় নবাগতদের গলায় উত্তরীয় পরিয়ে বরণ করে নেন জামায়াত নেতারা। যোগদান পরবর্তী বক্তব্যে মাহবুব মাস্টার স্মৃতিচারণ করে বলেন, ১৯৭৭ সালে শহীদ জিয়ার আদর্শে রাজনীতি শুরু করলেও বর্তমানে বিএনপি লুটেরা আর সুযোগসন্ধানীদের দখলে চলে গেছে। তাই তিনি এখন থেকে ‘আল্লাহর সৈনিক’ হিসেবে সত্যের পথে কাজ করতে চান।
মাহবুব মাস্টারের সঙ্গে জামায়াতে যোগ দিয়েছেন পৌর শ্রমিক দলের সভাপতি মো. ইদ্রিস মল্লিক, পৌর কৃষক দলের সাবেক আহ্বায়ক আব্দুল গাফ্ফার হোসেনসহ বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের তৃণমূল পর্যায়ের অন্তত শতাধিক নেতাকর্মী। এই যোগদান অনুষ্ঠানে উপজেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক মো. খলিলুর রহমান শাহাদতসহ স্থানীয় শীর্ষ জামায়াত ও ছাত্রশিবিরের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
অন্যদিকে বিএনপির এই ভাঙন প্রসঙ্গে জেলা দক্ষিণ বিএনপির সদস্য সচিব আবুল কালাম শাহীন জানান, মাহবুব মাস্টারের জামায়াতে যোগ দেওয়ার খবরটি অত্যন্ত অনাকাঙ্ক্ষিত। দলের পক্ষ থেকে তাঁর অভিমান ভাঙানোর চেষ্টা করা হয়েছিল বলেও তিনি দাবি করেন। তবে বরিশাল-২ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সরদার সরফুদ্দিন আহমেদ সান্টুর সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাঁর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
