
|| মো. আব্দুর রহিম ||
প্রাথমিক শিক্ষা হলো শিক্ষার মূল ভিত্তি। একজন আদর্শ, দক্ষ, যোগ্য ও সৎ নাগরিক তৈরির ক্ষেত্রে এর ভূমিকা অপরিসীম। তাই এই স্তরের শিক্ষার মান যত উন্নত হবে তখন দেশের সকল স্তরের শিক্ষার উপর তার প্রভাব ফেলবে। গুণগত শিক্ষা নিশ্চিত কল্পে দরকার মানসম্মত শিক্ষা। আর মান সম্মত শিক্ষা পেতে দরকার মান সম্মত দরদী শিক্ষক। আর মান সম্মত শিক্ষক পেতে দরকার মান সম্মত বেতন -ভাতা ও সুযোগ সুবিধা। একজন শিশুর নৈতিকতার ভিত্তি হলো প্রাথমিক ও পারিবারিক শিক্ষা। এই স্তরে শিশুরা যত ভালো শিক্ষা পাবে সেটা তাদের ভবিষ্যত জীবন গঠনে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। আমরা উন্নত রাষ্ট্রে তাই দেখতে পাচ্ছি। এই প্রাথমিক শিক্ষা নিয়ে রাষ্ট্রের অনেক মাথা ব্যথা। এটা ভালো কিন্তু ঔষধ খুঁজে পাচ্ছে না।প্রাথমিক শিক্ষার মান খারাপ বিধায় জনগণ প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানকে বেছে নিচ্ছে। এমনি এই স্তরের শিক্ষকগণ তাদের নিজ সন্তানকে ভর্তি করান না।বিষয়টি এমন হচ্ছে যে গরিব মানুষের সন্তানেরা শুধু প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করছে
। মধ্যবিত্ত ও উচ্চ-মধ্যবিত্তদের জন্য সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নয়।
ধর্মীয় শিক্ষা উপেক্ষিত হওয়ায় ধার্মিক লোক তাদের সন্তানকে নূরানি কিন্ডারগার্টেনে ভর্তি করাচ্ছেন।যোগ্য শিক্ষকদের যথাযথ মূল্যায়ন না করার তারা এই পেশায় নিযুক্ত হচ্ছে না। কেউ হলেও সুযোগ থাকলে সে চলে যাচ্ছে! তারা তৃতীয় শ্রেণির লোক হয়ে প্রথম শ্রেণির নাগরিক তৈরিতে অপারগ।একজন শিক্ষককে সম্মান তৃতীয় শ্রেণির হলে তিনি কীভাবে প্রথম শ্রেণির নাগরিক তৈরি করবেন? তিনিতো মানসিকভাবে বিপর্যস্ত।
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে একজন করে ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগ দেওয়ার দাবি ছিলো দীর্ঘদিনের।
সেই সাথে প্রধান শিক্ষকের বেতন গ্রেড পরিবর্তন সহ সহকারী শিক্ষকদের বেতন গ্রেড পরিবর্তন করা এবং সহকারী প্রধান শিক্ষক পদ সৃজন করা এবং পদোন্নতির সুযোগ বৃদ্ধি করা ও একজন করে আয়া ও অফিস সহায়কী কাম কম্পিউটার অপারেটর নিয়োগ দেওয়া বিধিমালা প্রণয়ন করাসহ বেশ কিছু দাবি ছিলো বিগত সরকারের আমলে।
স্কুলের অবকাঠামো পরিবর্তন ঠিকই হচ্ছে। উপবৃত্তি প্রদান, ফিডিং কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা ঠিকই হচ্ছে ।
নতুন নতুন উন্নয়ন প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে। কিন্তু শিক্ষার্থীর সংখ্যা বৃদ্ধি ও শিক্ষার মান উন্নয়ন হচ্ছে না!তাই গবেষণা করা উচিত কেনো হচ্ছে না? মূল সমস্যা কোথায়? দায়ী কারা? রাষ্ট্র,শিক্ষক, অভিভাবক, শিক্ষার্থী নাকি কারিকুলাম?
সুপারিশমালা:
১. যাদের ডিপ্লোমা ইন প্রাইমারি এডুকেশন ডিগ্রি নেই তাদের জন্য ( প্রবেশ পর্যায়ে) ১৩ গ্রেড দিয়ে শুরু করা।
২. যাদের ডিপ্লোমা ইন প্রাইমারি এডুকেশন ডিগ্রি রয়েছে (অতিরিক্ত যোগ্যতা হিসেবে) তাদেরকে ১২ তম গ্রেড প্রদান করা।
৩. ১১তম গ্রেডে সহকারী প্রধান শিক্ষক পদ সৃজন করা।
৪. ১০ম গ্রেডে প্রধান শিক্ষকদের বেতন চালু করা।
৫. উচ্চতর স্কেল /টাইস্কেল হিসেবে ৯ম /৮ম / ৭ম গ্রেডে উপনিত করা।
৬. এটিও(ATO) পদে পদোন্নতি রাখা।
৭. উপজেলা রিসোর্স সেন্টারে পদোন্নতি দেওয়া ও নতুন পদ সৃজন করা।
৮. সকল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একজন ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগ করা।
৯. ইসলামিয়াত(ইসলাম শিক্ষা ও কুরআন মাজীদ) এর সাথে আরবি ভাষা অন্তর্ভুক্ত করা।
১০. সকল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একজন অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর এবং একজন আয়ার পদ সৃজন করা।
আশা করি শিক্ষকদের বেতনভাতা ও সুযোগ সুবিধা বৃদ্ধি করে তাদেরকে জবাবদিহিতার আওতায় আনা। এর পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের নিয়মিত ক্লাস টেস্ট, সাপ্তাহিক পরীক্ষা এবং শিক্ষা উপকরণ ব্যবহার করার মাধ্যমে পাঠকে আনন্দদায়ক করা। নীতি নৈতিকতার চর্চা বৃদ্ধি করে নিয়মিত অভিভাবক সমাবেশ এর মাধ্যমে শিক্ষার মান উন্নয়নে প্রচেষ্টা চালানো।
লেখক: শিক্ষক, বরিশল।
