
|| ডা. আনোয়ার সাদাত ||
দীর্ঘ দিন ধরে বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য অধীর অপেক্ষায়। নির্বাচনের আগে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী বা দল তাদের পক্ষে প্রচারণা চালায় বা জনগনের কাছে তাদের ইশতেহার তুলে ধরে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু মাঠে যদি সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে এটা দুঃখ জনক।
প্রকাশিত খবরে জানা যায়, বিভিন্ন জেলায় নির্বাচনী পরিবেশ ক্রমে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। কোথাও স্বতন্ত্র ও জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীর ওপর হামলা এবং ব্যানার-ফেস্টুন ভাঙচুর করে আগুনে পুড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। কোথাও বিএনপি-জামায়াতের সংঘর্ষে আহত হয়েছেন দুই দলের নেতাকর্মী। আবার কোথাও হুমকি দিয়ে ভোটারদের ভয় দেখানো হচ্ছে। এগুলো চব্বিশ পরবর্তী খুবই হতাশাজনক।
আশঙ্কার বিষয় হলো– আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এ পরিস্থিতি পুরাপুরি নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না। সব মিলিয়ে কিন্তু সাধারণ মানুষের মধ্যে এক ধরনের আতঙ্ক ও আশংকা থেকেই যাচ্ছে। ভয় আবার ফিরে আসছে। কোনো কোনো রাজনৈতিক দল ভয় ফিরিয়ে আনতে চাচ্ছে কিনা এটাও কেউ কেউ মনে করছেন।
একটি গণ-অভ্যুত্থানের পর মানুষের প্রথম আকাঙ্খা থাকে সুষ্ঠু একটি পরিবেশ। নির্বাচন যদি ভয় তৈরি করে, নির্বাচন যদি অনিশ্চয়তা বাড়ায়, নির্বাচন যদি সহিংসতার স্মৃতি ফিরিয়ে আনে– তাহলে দেশের জন্য মঙ্গলজনক নয়।
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এই নির্বাচন শুধু একটি নির্বাচন নয়। এটি একটি পরীক্ষা। রাজনৈতিক দলের জন্য পরীক্ষা। রাষ্ট্রের জন্য পরীক্ষা। সমাজের জন্য পরীক্ষা। এই পরীক্ষায় সহিংসতা মানে ব্যর্থতা। আর সুষ্ঠু নির্বাচন মানে সুষ্ঠু রাজনৈতিক পরিবেশ উত্তরণের বিশ্বাসযোগ্য একটি পথ। এ পথ বন্ধ হলে তার পরিণতি কখনো ভালো হয় না।
প্রশ্ন হচ্ছে–
- সবাই কী ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিবে? নাকি আবারো একই ভুল করবে?
- ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বাংলাদেশকে কোন পথে নিয়ে যাবে?
দেশের স্বার্থে সবাই ধৈর্যশীল ও পরমতসহিষ্ণু হবে এটা আজ সাধারণ মানুষের আকাঙ্খা।
লেখক: ইসলামিক স্কলার, সাংবাদিক ও চিকিৎসক (খুলনা)।
