শনিবার, এপ্রিল ১১

নিজের ঘরে বৃষ্টির পানি পড়ে, তবুও মানুষের সেবায় নিয়োজিত ইউপি সদস্য ধলা ভুরু

|| সেলিম মোল্লা | নিজস্ব প্রতিনিধি (মানিকগঞ্জ) ||

জনপ্রতিনিধি মানেই সাধারণ মানুষের ভরসার স্থল। দিন-রাত সাধারণ মানুষের সুখ-দুঃখের সাথী হয়ে কাজ করাই যাদের ব্রত।

মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার হরগজ ইউনিয়নে তেমনই একজন নিবেদিতপ্রাণ জনপ্রতিনিধি ধলা ভুরু। তিনি হরগজ ইউনিয়নের ৭, ৮ ও ৯ নং ওয়ার্ডের সংরক্ষিত মহিলা আসনের বর্তমান সদস্য। ত্যাগের মহিমায় সাধারণ মানুষের সেবা করলেও, তার নিজের জীবনের চিত্রটি অত্যন্ত করুণ।

​সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, জনগণের সেবা নিশ্চিত করতে ধলা ভুরু সারাদিন এক গ্রাম থেকে অন্য গ্রামে ছুটে চললেও তার নিজের থাকার ঘরটির অবস্থা জরাজীর্ণ। বর্ষা বা সামান্য বৃষ্টি হলেই টিনের ফুটো দিয়ে ঘরে পানি পড়ে। বৃষ্টির সময় ঘরের ভেতরে পলিথিন টাঙিয়ে বা অন্যের বাড়িতে আশ্রয় নিয়ে রাত কাটাতে হয় তাকে। নিজের একটি মজবুত ঘর করার সামর্থ্য না থাকায় এক বুক কষ্ট নিয়ে তিনি দীর্ঘদিন ধরে এই ভাঙা ঘরেই বসবাস করছেন।

​এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে জানা যায়, ধলা ভুরু একজন অত্যন্ত সাদা মনের মানুষ।

এলাকার গরিব-অসহায় মানুষের যেকোনো প্রয়োজনে তিনি সবার আগে এগিয়ে আসেন। সরকারি অনুদান হোক কিংবা ব্যক্তিগত সহযোগিতা—সবক্ষেত্রেই তিনি স্বচ্ছতা ও নিষ্ঠার পরিচয় দিয়ে আসছেন। কিন্তু অন্যের মুখে হাসি ফোটানো এই জনপ্রতিনিধির নিজের মাথার ওপর নেই একটি নিরাপদ ছাদ।

​নিজের অসহায়ত্বের কথা জানিয়ে ইউপি সদস্য ধলা ভুরু বলেন, “আমি জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়েছি তাদের সেবা করার জন্য। সাধ্যমতো চেষ্টা করি মানুষের পাশে দাঁড়াতে। কিন্তু আমার নিজের ঘরের অবস্থা খুবই খারাপ। সামান্য বৃষ্টি হলেই ঘরে পানি ঝরে, আসবাবপত্র ভিজে যায়। মানুষের জন্য কাজ করলেও নিজের জন্য একটি ঘর করার সামর্থ্য আমার নেই।”এই ঘরের কারণে ছেলের বউ আমার ছেলেকে ছেড়ে চলে গেছেন বলে জানান তিনি।

তিনি আরও জানান, সরকারি সহায়তায় একটি মাথা গোঁজার ঠাঁই পেতে তিনি স্থানীয় প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন।

​এ বিষয়ে এলাকার সচেতন মহলের অভিমত, যিনি দিন-রাত মানুষের কল্যাণে কাজ করছেন, তার এমন মানবেতর জীবনযাপন অত্যন্ত দুঃখজনক।

দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে তাকে একটি সরকারি ঘর প্রদানের ব্যবস্থা করার জন্য জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন এলাকাবাসী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *