বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ২

নগরীর পিটিআই মোড়ে সকালেই স্থবিরতা, কালভার্টের কাজ ও অব্যবস্থাপনায় চরম ভোগান্তি

|| এস এম শাহরিয়ার | জেলা প্রতিনিধি (খুলনা) ||

নগরীর পিটিআই মোড়ে বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) সকাল ৭টা ৫০ মিনিটের সময় যেয়ে সরেজমিনে দেখা যায়, মোড়সংলগ্ন আহসান আহমেদ সড়কের ড্রেন, স্লাব ও ফুটপাত নির্মাণকাজ শেষ হলেও একই এলাকায় নতুন করে রাস্তা খুঁড়ে কালভার্ট নির্মাণকাজ চলছে। তবে সেখানে পর্যাপ্ত শ্রমিক না থাকায় কাজ ধীরগতিতে এগোচ্ছে। ফলে সড়কের একাংশ সংকুচিত হয়ে যান চলাচলে মারাত্মক বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে। প্রচন্ড যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে।

সময় যেতে থাকে ধীরে ধীরে যান-বাহনের চাপ বাড়তে থাকে, সাথে বাড়তে থাকে মানুষের যাতায়ত, তখনই ভয়াবহ যানজটে নাকাল হয়ে পড়েন সাধারণ মানুষ। অফিসগামী, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীসহ পথচারীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে দেখা যায়।

বিশেষ করে সকালবেলায় ও বিকালবেলায় স্কুলগামী/স্কুল ফেরৎ শিক্ষার্থী ও অফিসগামী/ অফিস ফেরৎ মানুষের চাপ বেড়ে যাওয়ায় পুরো মোড় কার্যত স্থবির হয়ে পড়ে। রিকশা, অটোরিকশা ও মোটরসাইকেলের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়, এতে পথচারীদের চলাচলও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে।

এদিকে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যদের উদাসীনতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। ঘটনাস্থলে কয়েকজন ট্রাফিক পুলিশকে দায়িত্ব পালনের বদলে দূরে ফুটপাতে দাড়িয়ে গল্পে ব্যস্ত থাকতে দেখা যায়। তবে রিপোর্টারকে ফুটেজ ও তথ্য সংগ্রহ করতে দেখে তারা দ্রুত স্থান করে আরো দূরে চা এর দোকানে যেয়ে গল্পে ব্যস্ত হতে দেখা যায়, এ যেন সেই “রোম যখন পুড়ছে নিরো তখন বাঁশি বাজাচ্ছে” এমন অবস্থা। যা নিয়ে উপস্থিত জনতার মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

অন্যদিকে, কাজের দায়িত্বে থাকা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান শহীদ এন্টারপ্রাইজের কোনো দায়িত্বশীল প্রতিনিধিকে ঘটনাস্থলে পাওয়া যায়নি। এতে করে কাজের তদারকি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

অভিভাবকদের অভিযোগ, এই সড়ক ঘিরে সেন্ট জোসেফস উচ্চ বিদ্যালয়, খুলনা করোনেশন সরকারি মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়, খুলনা শিশু বিদ্যালয়সহ প্রায় তিন ডজন কোচিং সেন্টার রয়েছে। প্রতিদিন প্রায় ১০ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী এই সড়ক ব্যবহার করে। চলমান খোঁড়াখুঁড়ি ও যানজটের কারণে তাদের নিয়মিত ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

স্থানীয় অভিভাবক সিরাজুল ইসলাম বলেন, “একটা কাজ শেষ না হতেই আরেকটা শুরু করা হয়েছে, কিন্তু ঠিকমতো লোক না থাকায় কাজ এগোচ্ছে না। এতে আমাদের ভোগান্তি বাড়ছে। তাছাড়া ট্রাফিক পুলিশও দায়িত্বে গাফলতি করছে, দেখেন তাকিয়ে কোথাও কোন ট্রাফিক পুলিশ নাই, অথচ রাস্তায় প্রচন্ড জ্যাম।”

রিকশাচালক,অটোচালক ও পথচারীরাও জানান, সামান্য চাপেই মোড়টিতে যানজট লেগে যাচ্ছে। কার্যকর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা না থাকায় পরিস্থিতি আরও খারাপ হচ্ছে।

সচেতন মহলের মতে, দ্রুত পর্যাপ্ত শ্রমিক নিয়োগ দিয়ে কালভার্টের কাজ শেষ করা এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফেরানো না গেলে নগরবাসীর এই দুর্ভোগ দীর্ঘস্থায়ী হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *