
পরিবর্তনের লক্ষ্যে শিক্ষার্থীদেরকে মানবিক হতে হবে–সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান
|| নিজস্ব প্রতিনিধি ||
সিলেটের প্রথম বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ সরকার ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) অনুমোদিত এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে স্থায়ী সনদপ্রাপ্ত লিডিং ইউনিভার্সিটির চতুর্থ সমাবর্তন শনিবার (০৩ জানুয়ারি ২০২৬) অনুষ্ঠিত হয়েছে। এবারের সমাবর্তনে ৬১৯৩ জন গ্রাজুয়েটকে ডিগ্রি প্রদান করা হয়।
লিডিং ইউনিভার্সিটির ৪র্থ সমাবর্তনে সভাপতিত্ব করেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের মাননীয় উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। তিনি সমাবর্তন চেয়ার হিসেবে গ্রাজুয়েটদের ডিগ্রি প্রদান করেন।

সমাবর্তন শিক্ষা অর্জনের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি উল্লেখ করে এসময় তিনি বলেন, আজ শিক্ষার্থীরা জীবনের এক দাপ থেকে আরেক দাপে পদর্পন করল এবং দায়িত্ব বেড়ে গেল। তিনি শহীদ শরিফ ওসমান হাদীকে স্মরণ করে বলেন, আগামীতে যে তরুণরা দেশ পরিচালনা করবে তার জন্য সুন্দর একটি বাংলাদেশ উপহার দেওয়ার জন্য তিনি জুলাই যোদ্ধাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। পরিবর্তনের স্বপ্নের জাতিকে দেখানো স্বপ্নে বাংলাদেশ গড়তে তিনি অপপ্রচার, বিতর্কিত নেতৃত্ব এবং দেশের জন্য অকল্যাণকর কিছু না করে সবাইকে ইতিবাচক হওয়ার আহবান জানান।
পরিশেষে তিনি সুন্দর পরিবেশে অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে সমাবর্তন আয়োজন দেখে তিনি মুগ্ধ হয়ে তিনি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানান।
সমাবর্তনের মূল বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আন্তর্জাতিকভাবে স্বনামধন্য অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী প্রখ্যাত বাংলাদেশি লেখক ও গবেষক, পঞ্চব্রীহি মাল্টি- হারভেস্ট রাইস ভ্যারাইটি জিন বিজ্ঞানী ড. আবেদ চৌধুরী। পরিবেশ বিষয়ক প্রোগ্রাম লিডিং ইউনিভার্সিটিতে চালু করার আহবান জানিয়ে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, প্রখ্যাত দানবীর ড. সৈয়দ রাগীব আলীর বিশাল কর্মজজ্ঞের মধ্যে লিডিং ইউনিভার্সিটির অগ্রযাত্রা ও সাফল্যের ধারাবাহিকতায় চতুর্থ সমাবর্তন বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রাজুয়েটদের শিক্ষাজীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জনের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক অগ্রযাত্রার একটি উল্লেখযোগ্য মাইলফলক।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সম্মানিত সদস্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন। গ্র্যাজুয়েটদের আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়ে তিনি বলেন, এটি কঠোর পরিশ্রম, নিষ্ঠা এবং অক্লান্ত প্রতিশ্রুতির মাধ্যমে অর্জিত একাডেমিক শ্রেষ্ঠত্ব উদযাপনের দিন।
সমাবর্তনে শুভেচ্ছা বক্তব্য প্রদান করবেন লিডিং ইউনিভার্সিটির বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান দানবীর ড. সৈয়দ রাগীব আলী। তিনি মাননীয় উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানকে লিডিং ইউনিভার্সিটিতে এসে
৪র্থ সমবর্তনে শিক্ষার্থীদের ডিগ্রি প্রদানের জন্য ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি কনভোকেশন স্পীকার প্রখ্যাত জীন বিজ্ঞানী ড. আবেদ চৌধুরী, ইউজিসি সদস্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন, এবং লিডিং ইউনিভার্সিটি পরিবারের সকল সদস্যকে ধন্যবাদ জানান।
এতে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন লিডিং ইউনিভার্সিটির উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ তাজ উদ্দিন। এসময় তিনি বলেন, আজকের এই কাঙ্ক্ষিত গন্তব্যে পৌঁছানোর জন্য শিক্ষার্থীরা সর্বোচ্চ প্রতিশ্রুতি, সৃজনশীলতা এবং প্রতিভা প্রদর্শন করে তাদের ব্যক্তিগত এবং একাডেমিক জীবনের একটি বড় পদক্ষেপ পার করেছেন। তাই এই অর্জনের সর্বোত্তম ব্যবহার করে বিশ্বকে বসবাসের জন্য একটি উন্নত স্থান করে তোলার চেষ্টা করার জন্য তিনি শিক্ষার্থীদের প্রতি আহবান জানান।
আজকের গ্র্যাজুয়েটরাই এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হিসেবে লিডিং ইউনিভার্সিটির মর্যাদা বজায় রাখার চেষ্টা রাখবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি। লিডিং ইউনিভার্সিটি ভবিষ্যতের নেতা তৈরিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে মনে করে তিনি বলেন, সকলের সহযোগিতা এবং পরামর্শে এই বিশ্ববিদ্যালয়কে শিক্ষা, গবেষণা এবং উন্নয়নের ক্ষেত্রে উৎকর্ষতার কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠবে।
গৌরবময় অর্জনের জন্য শিক্ষার্থীদেরকে অভিনন্দন জানিয়ে তিনি বলেন, লিডিং ইউনিভার্সিটি অনেক দূর এগিয়েছে এবং হাজার হাজার স্নাতক তৈরি করেছে, যারা দেশে এবং বিদেশে বিভিন্ন ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখছে। তিনি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আন্তরিক সহায়তার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের প্রতিও তাদের আন্তরিক সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
পরিশেষে তিনি লিডিং ইউনিভার্সিটির প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান দানবীর ড. সৈয়দ রাগীব আলী, ট্রাস্টি বোর্ড, সিন্ডিকেট ও একাডেমিক কাউন্সিল সদস্য এবং সফল অনুষ্ঠান আয়োজনে লিডিং ইউনিভার্সিটির সকল শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন ও ধন্যবাদ প্রদান করেন।
এবারের সমাবর্তনে স্প্রিং ২০১৮ হতে ফল ২০২৪ সেমিস্টার পর্যন্ত লিডিং ইউনিভার্সিটির চারটি অনুষদ- ব্যবসায় প্রশাসন, কলা ও আধুনিক ভাষা, সামাজিক বিজ্ঞান এবং আধুনিক বিজ্ঞান অনুষদের অধীনে ১০টি বিভাগ- ব্যবসায় প্রশাসন, ট্যুরিজম এন্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট, ইংরেজি, আইন, ইসলামিক স্টাডিজ, কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং, আর্কিটেকচার, সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং, ইলেকট্রিকেল এন্ড ইলেক্ট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং এবং পাবলিক হেলথ বিভাগের স্নাতক (অনার্স) ও স্নাতকোত্তর পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ৬১৯৩ জন গ্রাজুয়েটকে ডিগ্রি প্রদান করা হয় ।
লিডিং ইউনিভার্সিটির ৪র্থ সমাবর্তনে রেজিস্ট্রিকৃত ১০৭৫ জন গ্র্যাজুয়েটদের মধ্য থেকে কৃতিত্বপূর্ণ ১৫ জন শিক্ষার্থীকে চ্যান্সেলর গোল্ড মেডেল, ভাইস-চ্যান্সেলর গোল্ড মেডেল, ফাউন্ডার গোল্ড মেডেল এবং কো-ফাউন্ডার গোল্ড মেডেল প্রদান করা হয়।
৪র্থ সমাবর্তনে চ্যাঞ্জেলর গোল্ড মেডেল প্রাপ্ত বিবিএ প্রোগ্রামের শিক্ষার্থী এ. এস. এম. সুফিয়ান পাবেল অনুভূতি প্রকাশ করে লিডিং ইউনিভার্সিটির সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন।
উল্লেখ্য, লিডিং ইউনিভার্সিটির ১ম সমাবর্তনে গ্র্যাজুয়েটস ছিল ১৫৬ জন, ২য় সমাবর্তনে ছিল ১২১০ জন এবং ৩য় সমাবর্তনে ছিল ৪৭৩৪ জন, ৪র্থ সমাবর্তনে তা উন্নীত হয়েছে ৬১৯৩ জনে।
কনভোকেশন মার্শাল ছিলেন লিডিং ইউনিভার্সিটির রেজিস্ট্রার মো. মফিজুল ইসলাম।
সমাবর্তনের মূল আয়োজন শেষে দ্বিতীয় পর্বে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।
সমাবর্তন অনুষ্ঠানে লিডিং ইউনিভার্সিটির ট্রাস্টি বোর্ডের ভাইস চেয়ারম্যান সৈয়দ আব্দুল হাই, রাগীব রাবেয়া ফাউন্ডেশন সিলেটের সদস্য মিসেস সাদিকা জান্নাত চৌধুরী, লিডিং ইউনিভার্সিটি ট্রাস্টি বোর্ড ও সিন্ডিকেট সদস্য ও প্রাইমেশিয়া ইউনিভার্সিটির উপাচার্য প্রফেসর ড. এএনএম মেসকাত উদ্দিন, ট্রাস্টি বোর্ড সদস্য সৈয়দ
আব্দুল হান্নান, ডা. সাদিয়া মালিক চৌধুরী, দেওয়ান সাকিব আহমেদ, মো. জাকির হোসেন, আজমাইন হাই, বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. বশির আহমেদ ভূঁইয়া, আধুনিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মোহাম্মদ কামরুজ জামান ভূইয়া, কলা ও আধুনিক ভাষা অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. রেজাউল করিম, সামাজিক বিজ্ঞান অনষদের ডিন প্রফেসর ড. মোহাম্মদ শাহানশাহ মোল্লা, ট্রাস্টি বোর্ডর সচিব ইঞ্জিনিয়ার মো. লুৎফর রহমান, পরিচালক অর্থ ও হিসাব মোহাম্মদ কবির আহমেদ, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর মো. কবির আহমেদ, শিক্ষক ও কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
সমাবর্তন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, সিলেট -৪ আসনের বিএনপি দলিও প্রার্থী ও সিলেট সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী, সিলেট-২ আসনের বিএনপি দলিও প্রার্থী তাহসানা রুশদির লুনা, ব্যারিস্টার ইলিয়াস আবরার, সিলেট-১ আসনের জামায়েত ইসলামের দলিও প্রার্থী ও জেলা আমির, সিলেট জেলা মাওলানা হাবিবুর রহমান, সিলেট -২ আসনের আসনের জামায়েত ইসলামের দলিও প্রার্থী ও জেলা নায়েবে আমির আব্দুল হান্নান, ওসমানী নগর উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান মইনুল হক চৌধুরী, সিলেট দায়রা জজ আদালতের পিপি অ্যাডভোকেট বদরুল আহমেদ চৌধুরীসহ গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
