বৃহস্পতিবার, ফেব্রুয়ারি ১৯

ট্রাম্পের ‘বোর্ড অব পিস’: ইউরোপকে ছাড়াই বিশ্ব শান্তির নতুন মঞ্চ

|| আন্তর্জাতিক ডেস্ক ||

ওয়াশিংটনে এক জমকালো আয়োজনের মধ্য দিয়ে প্রথমবারের মতো ‘বোর্ড অব পিস’ বা শান্তি পরিষদের বৈঠক সম্পন্ন করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইউনাইটেড স্টেটস ইনস্টিটিউট অব পিস-এ আয়োজিত এই বৈঠকটিকে ট্রাম্প বিশ্ব শান্তির এক অনন্য ও নতুন প্ল্যাটফর্ম হিসেবে দাবি করেছেন। তবে বড় কয়েকটি ইউরোপীয় শক্তির অনুপস্থিতি এই উদ্যোগের কার্যকারিতা নিয়ে শুরুতেই নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। খবর: আল জাজিরার।

বৈঠকে ট্রাম্প দাবি করেন, তার মধ্যস্থতায় ইতিমধ্যে আটটি যুদ্ধ বন্ধ হয়েছে। নবম যুদ্ধটি থামানো কিছুটা কঠিন হলেও সেটি সফল হবে বলে তিনি দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, এই বৈঠকের মূল কেন্দ্রে ছিল গাজার যুদ্ধবিরতি বজায় রাখা, মানবিক সহায়তা নিশ্চিতকরণ এবং গাজার জন্য একটি আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী গঠন। এ ছাড়া গাজা পুনর্গঠনে ট্রাম্প ৫ বিলিয়ন ডলারের একটি বিশাল তহবিল ঘোষণা করেছেন, যদিও কোন দেশ কত টাকা দেবে তা এখনো স্পষ্ট নয়।

প্রায় ৪০টি দেশের প্রতিনিধি এই বৈঠকে অংশ নিলেও অনুপস্থিত ছিল যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, নরওয়ে, সুইডেন ও স্লোভেনিয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ দেশগুলো। তাদের আশঙ্কা, ট্রাম্পের এই ‘বোর্ড অব পিস’ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে জাতিসংঘের বিদ্যমান ভূমিকাকে দুর্বল করে দিতে পারে। এমনকি পোপ লিও চতুর্দশও এই বৈঠকের আমন্ত্রণ প্রত্যাখ্যান করেছেন।

তবে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ইতালি পর্যবেক্ষক হিসেবে উপস্থিত ছিল। ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্তোনিও তাজানি জানিয়েছেন, গাজার পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণে রোম সহায়তা দিতে আগ্রহী।

বৈঠকে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত হাঙ্গেরির প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অরবান ও আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট জাভিয়ার মিলেই উপস্থিত ছিলেন।

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বৈঠকে অংশ নিলেও ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের উপদেষ্টারা এই প্রক্রিয়ার প্রতি তীব্র আপত্তি জানিয়েছেন।

অন্যদিকে, রাশিয়াকে আমন্ত্রণ জানানো হলেও তাদের পক্ষ থেকে কোনো নিশ্চিত বার্তা পাওয়া যায়নি। গাজায় বর্তমানে যুদ্ধবিরতি চললেও হামাসের নিরস্ত্রীকরণ এবং ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া অবকাঠামো পুনর্গঠনই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। ট্রাম্পের এই ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক উদ্যোগে গঠিত ‘বোর্ড অব পিস’ সত্যিই মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বে দীর্ঘমেয়াদী শান্তি আনবে, নাকি আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে নতুন কোনো বিভাজন তৈরি করবে—তা নিয়ে এখন বিশ্বজুড়ে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *